কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শ্রীকৃষ্ণের সহচরগণ --- ষোড়শ গোপালের রূপবর্ণনা
এ সম্বন্ধে বিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্নর লেখা পড়ুন এখানে ক্লিক করে...। এই পদগুলি ভণিতাহীন।
পহিরহ নীলাম্বর ধবল বরণ
পহিরণ নীলাম্বর ধবল বরণ

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের এবং ষোড়শ গোপালের রূপ
॥ সুহই॥

পহিরহ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরে শিঙ্গা মত্ত গজেন্দ্র গমন॥
পদ দুই চলে পুনঃ চলিতে না পারে।
স্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনে কহে বাত আপনে নাড়ে মাথা॥
ক্ষেণে হাসে ক্ষেণে কাঁদে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে ক্ষণে করেন বিহার॥
কেহ গায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজ বালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।
একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চলে।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তলে॥
ক্ষণে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টল টল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ ক্ষণে ক্ষণে হাসে।
ক্ষণে ক্ষণে ভজে ক্ষণে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্ম্মল ধরাতল দেখিতে সুছাঁদ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চাঁদ॥
কৃষ্ণ ক্রীড়া রসে দিগবিদিগ নাহি মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ, জ্ঞানদাস ভণে॥



ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ষোড়শ-গোপাল-রূপ
॥ সুহই॥

পহিরহ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরে শিঙ্গা মত্ত গজেন্দ্র গমন॥
পদ দুই চলে পুনঃ চলিতে না পারে।
স্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনে কহে বাত আপনে নাড়ে মাথা॥
ক্ষেণে হাসে ক্ষেণে কাঁদে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে ক্ষণে করেন বিহার॥
কেহ গায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজ বালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।
একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চলে।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তলে॥
ক্ষণে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টল টল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ ক্ষণে ক্ষণে হাসে।
ক্ষণে ক্ষণে ভজে ক্ষণে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্ম্মল ধরাতল দেখিতে সুছাঁদ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চাঁদ॥
কৃষ্ণ ক্রীড়া রসে দিগবিদিগ নাহি মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ, জ্ঞানদাস ভণে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠলীলা, সখ্য ও বাত্সল্য রসের পদ।

পহিরণ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরি শিঙ্গা মত্ত গজেন্দ্র গমন॥
পদ দুই চলে পুন চলিতে না পারে।
স্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ণ করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনে কহে বাত আপনে নাড়ে মাথা॥
ক্ষেণে হাসে ক্ষেণে কাঁদে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে ক্ষণে করেন বিহার॥
কেহ গায় কেহ কয় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজ বালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কানে দোলে।
একুই নুপূর বাম চরণকমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চলে।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তলে ॥
ক্ষণে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টলমল করে ক্ষিতি ভারে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ ক্ষণে ক্ষণে হাসে।
ক্ষণে ক্ষণে ভজে ক্ষণে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্ম্মল ধরাতল দেখিতে সুচাঁদ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চাঁদ॥
কৃষ্ণ ক্রীড়া রসে দিগবিদিগ নাহি মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ জ্ঞানদাস ভণে॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৬১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব-সম্মিলন। ॥ সুহই॥


পহিরহ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরে শিঙ্গা মত্ত গজেন্দ্র গমন॥
পদ দুই চলে পুন চলিতে না পারে।
স্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনাকে কহে বাত আপনে নাড়ে মাথা॥
ক্ষেণে হাসে ক্ষেণে কাঁদে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে ক্ষণে করেন বিহার॥
কেহ গায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজ বালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।
একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চলে।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তলে॥
ক্ষণে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টল টল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ ক্ষণে ক্ষণে হাসে।
ক্ষণে ক্ষণে ভজে ক্ষণে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্ম্মল ধরাতল দেখিতে সুছাঁদ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চাঁদ॥
কৃষ্ণ ক্রীড়া রসে দিগবিদিগ নাহি মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ জ্ঞানদাস ভণে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বলদেবের রূপ
॥ সুহই॥

পহিরণ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরে শিঙ্গা মত্তগজেন্দ্রগমন॥
পদদুই চলে পুন চলিতে না পারে।
সুস্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনি কহিয়া কথা নিজে নাড়ে মাথা॥
খেনে হাসে খেনে কান্দে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে খেনে করয়ে বিহার॥
কেহ গায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজবালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।
একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চল।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তল॥
খনে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টলমল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ খনে খনে হাসে।
খনে খনে ভজে খনে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্মল ধরণীতলে দেখিতে সুছান্দ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চান্দ॥
কৃষ্ণক্রীড়ারসে দিগবিদিক্ না মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ জ্ঞানদাস ভণে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বলদেবের রূপ
॥ সুহই॥

পহিরণ নীলাম্বর ধবল বরণ।  করে ধরে শিঙ্গা মত্ত-গজেন্দ্র গমন॥
পদদুই চলে পুন চলিতে না পারে।  স্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।  বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।  ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।  ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।  আপনি কহিয়া কথা নিজে নাড়ে মাথা॥
খেনে হাসে খেনে কান্দে বিবিধ বিকার।  বালকের সঙ্গে খেনে করেন বিহার॥
কেহ খায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।  আনন্দে নাচয়ে ব্রজ-বালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।  একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চল।  বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তল॥
খণে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।  টলমল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালক গণ খনে খনে হাসে।  খনে খনে ভজে খনে পিরিতি সম্ভাষে॥
নির্মল ধরাতল দেখিতে সুছান্দ।  দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চান্দ॥
কৃষ্ণ-ক্রীড়া-রসে দিগবিদিক্ না মানে।  আনন্দে বলাইএর গুণ, জ্ঞানদাস ভণে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পহিরণ নীলাম্বর ধবল বরণ।
করে ধরে শিঙ্গা মত্তগজেন্দ্রগমন॥
পদদুই চলে পুন চলিতে না পারে।
সুস্থির হইতে নারে ঢলি ঢলি পড়ে॥
পড়িয়া আপনি কহে আপনি অস্থির।
বারুণী বলিয়ে পিয়ে যমুনার নীর॥
বারুণী বারুণী বলি সখাগণে চায়।
ক্ষণে ক্ষণে ধরণী পড়িয়া গড়ি যায়॥
অরুণ নয়ন করি অধর কাঁপায়।
ভয় মানি কেহ তার নিকটে না যায়॥
আপনার ছায়া দেখি তারে কহে কথা।
আপনি কহিয়া কথা নিজে নাড়ে মাথা॥
খেনে হাসে খেনে কান্দে বিবিধ বিকার।
বালকের সঙ্গে খেনে করয়ে বিহার॥
কেহ গায় কেহ বায় কেহ তাল ধরে।
আনন্দে নাচয়ে ব্রজবালক ভিতরে॥
একুই কুণ্ডল মাত্র বাম কাণে দোলে।
একুই নূপুর বাম চরণ কমলে॥
ধরণী লোটায় নীল ধড়ার অঞ্চল।
বিগলিত হইয়াছে বেণীর কুন্তল॥
খনে তরুতলে বসি দোলায় শরীর।
টলমল করে ক্ষিতি ভরে নহে স্থির॥
দেখিয়া বালকগণ খনে খনে হাসে।
খনে খনে ভজে খনে পিরীতি সম্ভাষে॥
নির্মল ধরণীতলে দেখিতে সুছান্দ।
দিবসে উদয় যেন পূর্ণিমার চান্দ॥
কৃষ্ণক্রীড়ারসে দিকবিদিক্ না মানে।
আনন্দে বলাইর গুণ জ্ঞানদাস ভণে॥

*********************