কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
যমুনা তীরে ধীরে চলু মাধব
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠবিহার
॥ মঙ্গল॥

যমুনা তীরে,     ধীরে চলু মাধব,
মন্দ মধুর বেণু বায়।
ইন্দু বরণ,     ব্রজ বধূ কামিনী,
স্বজন তেজিয়া বনে ধায়॥
অসিত অম্বর,     অসিত সরসীরুহ,
অতসি কুসুম হিমকর।
ইন্দ্র নীলমণি,     উদরে মরকত,
শিখি চূড়া অহিবর॥
গোধূলি ধূসর,     বিশাল বক্ষস্থল,
গো ছাঁদ রজ্জু করে।
দেখি অপরূপ,     রূপ মনোহর,
জ্ঞান দাসের জ্ঞান হরে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ।
॥ মঙ্গল॥

যমুনা তীরে,     ধীরে চলু মাধব,
মন্দ মধুর বেণু বায়।
ইন্দু বরণ,     ব্রজ-বধূ কামিনী,
স্বজন তেজিয়া বনে ধায়॥
অসিত অম্বর,     অসিত সরসীরুহ,
অতসি কুসুম হিমকর।
ইন্দ্র নীলমণি,     উদরে মরকত,
শিখি চূড়া অহিবর॥
গোধূলি ধূসর,     বিশাল বক্ষঃস্থল,
গো ছাঁদ রজ্জু করে।
দেখি অপরূপ,     রূপ মনোহর,
জ্ঞান দাসের জ্ঞান হরে॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ
॥ মঙ্গল॥

যমুনা তীরে, ধীরে চলু মাধব, মন্দ
মধুর বেণু বায়। ইন্দু বরণ, ব্রজ-বধূ কামিনী,
স্বজন তেজিয়া বনে ধায়॥ অসিত অম্বর,
অসিত সরসীরুহ, অতিসি কুসুম হিমকর।
ইন্দ্র নীলমণি, উদরে মরকত, শিখি চূড়া
অহিবর॥ গোধূলি ধূসর, বিশাল বক্ষঃস্থল,
গো-ছাঁদ রজ্জু করে। দেখি অপরূপ,
রূপ মনোহর, জ্ঞানদাসের জ্ঞান হরে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ-লীলা।
॥ মঙ্গল॥

যমুনা-তীরে,     ধীরে চলু মাধব,
মন্দ মধুর বেণু বায়।
ইন্দু বরণ,     ব্রজ বধূ কামিনী,
স্বজন তেজিয়া বনে ধায়॥
অসিত অম্বর,     অসিত সরসীরুহ,
অসীত কুসুম হিমকর।
ইন্দ্র নীলমণি,     উদরে মরকত,
শিখি-চূড়া অহিবর॥
গোধূলি ধূসর,     বিশাল বক্ষস্থল,
গো-ছাঁদ-রজ্জু করে।
দেখি অপরূপ,     রূপ মনোহর,
জ্ঞানদাসের জ্ঞান হরে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, উত্তর গোষ্ঠ, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যমুনা তীরে,     ধীরে চলু মাধব,
মন্দ মধুর বেণু বায়।
ইন্দু বরণ,     ব্রজবধু কামিনী,
শয়ন তেজিয়া বনে ধায়॥
অসিত অম্বর,     অসিত সরসীরুহ
অতসি কুসুম হিমকর।
ইন্দ্র নীলমণি,     উদরে মরকত,
শিখি চূড়া অহিবর॥
গোধূলি ধূসর     বিশাল বক্ষস্থল
গো ছাঁদ রজ্জু করে।
দেখি অপরূপ     রূপ মনোহর,
জ্ঞানদাসের জ্ঞান হরে॥

টীকা---
গোষ্ঠ হইতে প্রত্যাগমন সময়ে শ্রীকৃষ্ণের রূপ।
ইন্দু বরণ ব্রজবধূ কামিনী --- চাঁদবরণী ব্রজগোপীরা
অসিত অম্বর --- কৃষ্ণবর্ণের বস্ত্র।
অসিত সরসীরুহ --- নীলপদ্ম।
শিখি চূড়া আহিবর --- মাথায় ময়ূরের চূড়া, আর কেশগুলি যেন সর্প। সাপ ও ময়ূর তাহাদের শত্রুতা ভুলিয়া একত্রে রহিয়াছে।

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^
সূচীতে . . .

মিলনসাগর