কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সজনি রহিতে নারিনু কুলে
সজনি রহিতে নারিনু ঘরে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত "শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ)" গ্রন্থের, ২৬৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
শ্রীমত্যহ---
॥ শ্রীরাগ॥

সজনি! রহিতে নারিনু কুলে।
না দেখি না শুনি   এমন দেবতা   যুবতি দেখিয়া ভুলে॥ ধ্রু॥
নিশির স্বপনে   চান্দ উপরাগ   হেরিয়ে মন্দিরে বসি।
হেনই সময়ে   সে নব দেবতা   মোরে গরাসল আসি॥
গরাস তরাসে   আকুল হইয়া   মুরুছি পড়িনু ভূমে।
তোর নাম ধরি   কত না ডাকিলু   শুনি না শুনলি কাণে॥
আমার বিতখা   সে নব দেবতা   হাসিয়া ভুলিল রঙ্গে।
চন্দন বসন   সব আভরণ   স্বপনে দিয়াছি অঙ্গে॥
শাশুড়ী ননদী   ঘরে নোর বাদী   কি জানি কি হৈল মোরে।
জ্ঞানদাস কহে   আমরা থাকিতে   কিবা পরমাদ তোরে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
সুহই॥

সজনি রহিতে নারিনু ঘরে।
না দেখি না শুনি,     এমন দেবতা,
যুবতী দেখিয়া ভুলে॥
নিশির স্বপনে,     চাঁদ উপরাগ,
হেরিয়ে মন্দিরে বসি।
হেনই সময়ে,     সে বন দেবতা,
মোরে গরাসিল আসি॥
গরাসি তরাসে,     আকুল হইয়া,
মুরছি পড়িনু ভূমে।
তোর নাম ধরি,     কত না ডাকিনু,
শুনিয়া না শুনিলি কাণে॥
আমার বিতথা,     সে বন দেবতা,
শুনি চমকএ চিতে।
যুবতী দেখিয়া,     ফিরিয়া হেরিয়া,
এমতি তাহারি রীতে॥
@@@@ হেরয়ে,     সে বন দেবতা,
হরয়ে তাহার চিতে।
এ বোল শুনিয়া     ননদী চমকি,
ভ্রমিয়া বোলয়ে ভীতে॥
গোকুল পতির,     মতি ভুলাইলা,
ঈযৎ আঁখির ঠারে॥
জ্ঞানদাস কহে,     ননদী ভুলাইতে,
কিবা পরমাদ তারে॥

@@@@ - অমুদ্রিত অক্ষর।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীরাধার পূর্বরাগ, ১১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি রহিতে নারিনু ঘরে।
না দেখি না শুনি,     এমন দেবতা
যুবতী দেখিয়া ভুলে॥ ধ্রু॥
নিশির স্বপনে     চান্দ উপরাগে
হেরয়ে মন্দিরে বসি।
হেনই সময়ে     সে বন দেবতা
মোরে গরাসিল আসি॥
গরাসি তরাসে     আকুল হইয়া
মুরছি পড়িনু ভূমে।
তোর নাম ধরি     কতেক ডাকিনু
শুনিয়া না শুনলি কানে॥
আমার বিতধা     সে যে দেবতা
হাসিয়া ভুলিল রঙ্গে।
চন্দন বসন     সব অভরণ
স্বপনে দিয়াছি অঙ্গে॥
এ বোল শুনিয়া     ননদী ঠমকী
বেড়ায় আইখের ঠারে।
জ্ঞানদাস কহে     আমরা থাকিতে
কিবা পরমাদ তেরে॥

টীকা ---
সখি ! আর ঘরে থাকিতে পারিলাম না। এমন এক অভূতপূর্ব্ব দেবতায় আমাকে পাইয়াছে যে যুবতী দেখিয়া নিজেই ভুলে। আমি স্বপ্নঘোরে ঘরে বসিয়া চাঁদের গ্রহণ দেখিতেছিলাম (চাঁদকে রাহু গ্রাস করিল) এমন সময়ে সেই বনদেবতা আসিয়া আমাকে গ্রাল করিল। তাঁহার গ্রাসে বা আক্রমণে ভীত হইয়া আমি আকুল হইয়া মাটিতে মূর্চ্ছিত হইয়া পড়িলাম। তারপর তোমার নাম ধরিয়া কত ডাকিলাম, তুমি শুনিয়াও শুনিলে না। এদিকে আমার এই অবস্থা (বিতথা) ওদিকে সেই দেবতা হাসিয়া রঙ্গ করিতে লাগিলেন। আমি স্বপ্নঘোরেই চন্দন মাখিয়াছি, তাহার বস্ত্র ও অলঙ্কার গায়ে পরিয়াছি। (রাত্রে বিলাসকালে শ্রীকৃষ্ণের দেহের চন্দন রাধার গায়ে লাগিয়াছে, এবং বেশভূষা বদল হইয়া গিয়াছে--- তাই ঢাকিবার জন্য রাধার এই স্বপ্ন কাহিনী)। এই কথা শুনিয়া রাধার ননদিনী আঁখির ঠারে সব দেখিয়া ঠমকি ঠমকি বেড়াইতে লাগিল। জ্ঞানদাস বলেন আমরা থাকিতে তোমার বিপদ আসিবে কোথা হইতে?

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^