কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সজনি শুনি মনে হোয়ল আনন্দ
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত "শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ)" গ্রন্থের, ৪০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
শ্রীকৃষ্ণবাক্যং---
॥ পঠমঞ্জরী॥

সজনি! শুনি মনে হোয়ল আনন্দ।
রাই সুধামুখী   মোহে এত অনুরাগী   মিলন করহ পরসঙ্গ॥ ধ্রু॥
পরখে শুনলু হাম   রূপে গুণে অনুপাম   তাঁহি রহল মন লাগি।
তুহুঁ সুচতুর ধনী   মোহে অনুকূল জানি   যব পুন হয় মোর ভাগি॥
ঐছে দিবস খণ   হোয়ব সুলখণ   মোহে মিলবি ধনী রাই।
সো তনু পরশয়ে   তাপ সব মেটায়ে   তব হাম জীবন পাই॥
ঐছন নাগর-   বচন শুনি কাতর   দিঠি ভেল ছলছল লোর।
কানু পরবোধি   তুরিতে ধনী-পাশ হি   জ্ঞানদাস চলু ভোর॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ পঠমঞ্জরী॥

সজনি শুনি মনে হোয়ল আনন্দ।
রাই সুধামুখী,     মোহে এত অনুরাগী,
মিলন করহ পরসঙ্গ॥ ধ্রু
পরসে শুনলু হাম,     রূপে গুণে অনুপাম,
তাঁহে রহল মন লাগি।
তুহুঁ সুচতুর ধনি,     মোয় অনুকূল জানি,
যব পুন হয় মোর ভাগি॥
ওই দিবস---খন,     হোয়ব সুলখন,
মোহে মিলব ধনি রাই।
সোতনু পরশঞে,     তাপ সব মেটয়ে
তব হাম জীবন পাই॥
ঐছন নাগর     বচন শুনি কাতর,
দিঠে ভেল ছলছল লোর।
কানু পরবোধি,     তুরিতে ধনি চললহ,
জ্ঞানদাস চলু ভোর॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি! শুনি মনে হোয়ল আনন্দ।
রাই সুধামুখী     মোহে এত অনুরাগী
মিলন করহ পরবন্ধ॥
পরখে শুনলু হাম     রূপে গুণে অনুপাম
তাঁহি রহল মন লাগি।
তুহুঁ সচতুর ধনী     মোহে অনুকূল জানি
যব পুন হোয় মোর ভাগি॥
ঐছে দিবস খণ     হোয়ব সুলখণ
মোহে মিলবি ধনী রাই
সো তনু পরশয়ে     তাপ সব মেটায়ে
তব হাম জীবন পাই
ঐছন নাগর     বচন শুনি কাতর
দিঠি ভেল ছল ছল লোর
কানু পরবোধি     ভুরিতে ধনী পাশহি
জ্ঞানদাস চলু ভোর॥

টীকা---
রায় রামানন্দের জগন্নাথবল্লভ নাটকে দেখা যায় যে শ্রীকৃষ্ণ গোপকুমার ---
সমাজমিমং সখি পুচ্ছ কদানুগতোহহম্ ।
কথমিবমামসু পশ্যতি দিশি দিশি কথমিব কলয়তি মোহম্।
এই গোপকুমারদের সমাজে জিজ্ঞাসা কর, আমি কবে আবার তোমাদের সখীর অনুগত হইলাম? তিনি কি জন্য আমাকে চারিদিকে দেখেন, কেনই বা মোহপ্রাপ্তা হন ?

কানাইয়ের এই ধরণের কথা শুনিয়া রাধার দূতী মাথা নীচু করিলেন, পুনর্ব্বার ( ফেরি ) আর কিছু বলিলেন না ; চোখের জলে তিনি পথ দেখিতে পাইলেন না। মুখখানি মলিন করিয়া আস্তে আস্তে চলিয়া গেলেন। রাইয়ের কাছে তিনি আসিলেন। এমন অবস্থায় জ্ঞানদাস কি বলিলেন ?

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^