কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
একে কালা বরণ চিকণ তাহে লেপিয়া
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১২৫পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একে কালা-বরণ চিকণ তাহে লেপিয়া
মলয়জ মৃগমদ কুঙ্কুমে।
অঙ্গের সৌরভে কত     মধুকর উড়ে তার
সাজিয়াছে কাঞ্চন বিদ্রুমে॥
দেখিলুঁ দেখিলুঁ সই     যত মনে অনুভই
কহিতে কহিল নয় বোলে।
প্রতি অঙ্গ রসময়     পিরিতির আলয়
ভালে তাহে জগজন ভোলে॥
একে সে রসিক-রাজ     আরে অভরণ সাজ
কুন্তলে কুসুম কত পাঁতিয়া।
আবেশে অবশ-গায়     চলে আধ আধ পায়
খেণে রহে অতি রসে মাতিয়া॥
পিয়ার আরতি যত     অপাঙ্গে ইঙ্গিতে কত
কেমন কেমন উঠে চিতে।
আরে সে লাবণ্য-লীলা     বাতাসে দরবে শিলা
জ্ঞানদাস কহয়ে পিরিতে॥

টীকা ---
বিদ্রুমে --- প্রবাল।
অনুভই --- অনুভব করি।
আরতি --- অনুরাগ।
অপাঙ্গে ইঙ্গিতে কত --- কটাক্ষে ও ইঙ্গিতে কত অনুরাগ জানায়।
লাবণ্য লীলা বাতাসে দরবে শিলা --- সেই লাবণ্যলীলার একটু বাতাসেও পাষাণ গলিয়া যায়।

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথিতে এই রূপে।

শ্রীরাধার পূর্ব্ব রাগ
॥ তুড়ী॥

একে কালা-বরণ     চিকণ তাহে লেপিয়া
মলয়জ মৃগমদ কুঙ্কুমে।
অঙ্গের সৌরভে কত     মধুকর উড়ে তায়
সাছিয়াছে কাঞ্চন বিদ্রুমে॥
দেখিলুঁ দেখিলুঁ সই     যত মনে অনুভই
কহিতে কহিল নয় বোলে।
প্রতি-অঙ্গ রসময়     পিরিতির-আলয়
ভালে তাহে জগ-জন ভোলে॥ ভ্রু॥
একে সে রসিক-রাজ     আরে অভরণ সাজ
কুন্তলে কুসুম কত পাঁতিয়া।
আবেশে অবশ-গায়     চলে আধ আধ পায়
খেণে রহে অতি রসে মাতিয়া॥
পিয়ার আরতি যত     অপাঙ্গে ইঙ্গিতে কত
কেমন কেমন উঠে চিতে।
আরে সে লাবণ্য-লীলা     বাতাসে দরবে শিলা
জ্ঞানদাস কহয়ে পিরিতে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

একে কালা বরণ     চিকণ তাহে লেপিয়া
মলয়জ কস্তুরী কুঙ্কুমে।
অঙ্গের সৌরভে     মধুকর উড়ে তার
সাজিয়াছে কাঞ্চন বিদ্রুমে॥
দেখিলুঁ দেখিলুঁ সই     যত মনে অনুভই
কহিতে কহিল নয় বোলে।
প্রতি অঙ্গে রসময়     পিরিতির আলয়
ভালে তাহে জনমন ভোলে॥
একে সে রসিকরাজ     আরে অভরণ সাজ
কুন্তলে কুসুম কত পাঁতিয়া।
আবেশে অবশ গায়     চলি আধ আধ পায়
খেনে রহে অতি রসে মাতিয়া॥
পিয়ার আরতি যত     অপাঙ্গে ইঙ্গিত কত
কেমন কেমন উঠে চিতে।
জ্ঞানদাসেতে কয়     যদি হয় পরিচয়
কিবা হয় তাহার পিরিতে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ - ---॥

একে কালা বরণ     চিকণ তাহে লেপিয়া
মলয়জ কস্তুরী কুম্ কুমে।
অঙ্গের সৌরভে যত     মধুকর উড়ে তার
সাজিয়াছে কাঞ্চন বিদ্রুমে॥
দেখিলু দেখিলু সই     যত মনে অনুভই
কহিতে কহিল নয় বোলে।
প্রতি অঙ্গে রসময়     পিরিতির আলয়
ভালে তাহে জগমন ভোলে॥
একে সে রসিকরাজ     আরে অভরণ সাজ
কুন্তলে কুসুম কত পাঁতিয়া।
আবেশে অবশ গায়     চলি আধ আধ পায়
খেনে রহে অতি রসে মাতিয়া॥
পিয়ার আরতি যত     অপাঙ্গে ইঙ্গিত কত
কেমন কেমন উঠে চিতে।
জ্ঞানদাসেতে কয়     যদি হয় পরিচয়
কিবা হয় তাহার পিরিতে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একে কালা বরণ চিকণ তাহে লেপিয়া
      মলয়জ কস্তুরী কুঙ্কুমে।
অঙ্গের সৌরভে মধুকর উড়ে তার
      সাজিয়াছে কাঞ্চন বিদ্রুমে॥
দেখিলুঁ দেখিলুঁ সই যত মনে অনুভই
      কহিতে কহিল নয় বোলে।
প্রতি অঙ্গে রসময় পিরীতির আলয়
      ভালে তাহে জগমন ভোলে॥
একে সে রসিকরাজ আরে আভরণ সাজ
      কুন্তলে কুসুম কত পাঁতিয়া।
আবেশে অবশ গায় চলি আধ আধ পায়
      খেনে রহে অতি রসে মাতিয়া॥
পিয়ার আরতি যত অপাঙ্গে ইঙ্গিত কত
      কত কেমন কেমন উঠি চিতে।
জ্ঞানদাসেতে কয় যদি হয় পরিচয়
      কিবা হয় তাহার পিরীতে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^