কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কূলে
কি রূপ হেরিলুঁ যমুনা-কূলে
কি রূপ হেরিনু কালিন্দি কূলে
কি রূপ হেরিনু কালিন্দীকূলে
কি হেরিলাম কালিন্দী কুলে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৪৮২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ - দুঠুকী॥

কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কূলে।
অপরূপ রূপ কদম্ব-মূলে॥
অচলা চপলা মেঘেরি গায়।
মৃগাঙ্ক রহিতে শশাঙ্ক-উদয়॥
নাচিছে ময়ূর জলদ পরি।
অলিকুল সব চাঁদেরে ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিতে নারি।
যথা মেঘ তথা না হয় বারি॥
হৃদয় আকাশে উদয় করি।
নয়ন যুগলে বহয়ে বারি॥
হেন মনে লয় বিজুরী হয়ে।
মেঘের গায়ে থাকি জড়াইয়ে॥
জ্ঞানদাসে কহে ন কহ আন।
যে কহিলা ধনি সেই সে প্রমাণ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১২৮পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কূলে।
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে॥
অচলা চপলা মেঘেরি গায়।
মৃগাঙ্ক রহিত শশাঙ্ক ভায়॥
নাচিছে ময়ূর জলদ পরি।
অলিকুল আছে চাঁদেরি ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিল নহে।
যথা মেঘ তথা বারি না রহে॥
হৃদয় আকাশে উদয় করি।
নয়ন-যুগলে বহায় বারি॥
হেন মনে লয় বিজুরি হয়ে।
জড়াইয়ে থাকি মেঘের গায়ে॥
জ্ঞানদাস কহে না কহ আন।
যে কহিলা ধনি সেই প্রমাণ॥

টীকা--- যমুনার কূলে কদম্বগাছের মূলদেশে কি অপূর্ব্ব রূপ দেখিলাম। জলধরের (শ্যামের) গায়ে যেন বিদ্যুত্ (পীতবাস) অচল হইয়া রহিয়াছে, দেখিয়া মনে হইতেছে যেন কলঙ্কহীন শশাঙ্ক। সেই মেঘের উপর আবার ময়ূর (চূড়ার ময়ূরপুচ্ছ) নাচিতেছে ; আর চাঁদের (মুখচন্দ্রের) চারিপাশে ভ্রমরকুল ঘিরিয়া আছে। আর এক আশ্চর্য্য ব্যাপার, বলা যায় না এমন, যেখানে মেঘ সেখানে কিন্তু জল নাই ; সেই মেঘ আমার হৃদয় আকাশে উদিত হইল, কিন্তু জল পড়িল নয়নযুগল হইতে। আমার সাধ যায় যে ঐ মেঘের গায়ে দামিনী হইয়া জড়াইয়া থাকি। জ্ঞানদাস বলেন অন্যকথা বলিও না, যে কথা কহিলে, তাহাতেই তোমার মনের ভাব বুঝা যাইতেছে।

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

কি রূপ হেরিলুঁ যমুনা-কূলে
অতি অপরূপ কদম্ব-মূলে।

নাচিছে ময়ূর ঘনের পরি
অলিকুল সব চাঁদেরে ঘেরি।

আর অপরূপ কহা না যায়
মৃগাঙ্ক-রহিত শশাঙ্ক উদয়।

আর অপরূপ কহিতে নারি
যথা মেঘ তথা না হয় বারি।

হৃদি মাঝে মেঘ উদয় করি
নয়নের পথে বরিখে বারি।

হেন মনে লয় বিজরি হয়ে
জড়ায়ে রহি গো ও মেঘে গিয়ে।

জ্ঞান কহে ইথে না কর আন
যে কহিলা ধনি সেই পরমাণ॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৩২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ খণ্ড
॥ শ্রীরাগ - দুঠুকি॥

কি রূপ হেরিনু কালিন্দীকূলে।
অপরূপ রূপ কদম্বমূলে॥
অচলা চপলা সহিত তায়।
মৃগাঙ্ক বিহীন শশাঙ্ক ভায়॥
নাচিছে ময়ূর জলদোপরি।
অলিকুল সব চান্দকে ঘেরি॥
বিকচ সরোজ মিলিত বিধু।
মেঘের গরজে অমৃত মধু॥
আরো অপরূপ কহিতে নারি।
যথা মেঘ তথা না বহে বারি॥
মোর মনে হয় বিজুরী হইয়া।
রহি জড়াইয়া ওমেঘে যাইয়া॥
জ্ঞানদাস কহে নহে ত আন।
যে কহিলে ধনি সেই প্রমাণ॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১১৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতীর পূর্ব্বরাগ (প্রকারান্তর)
॥ গান্ধার॥

কি রূপ হেরিনু কালিন্দি কূলে।
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে॥
অচলা চপলা সহিত তায়।
মৃগাঙ্ক রহিত শশাঙ্ক উদয়॥
নাচিছে ময়ূর জলদোপরি।
অলিকুল সব চাঁদকে ঘিরি॥
বিকচ সরোজ মিলিত বিধু।
মেঘের গরজে অমৃত মধু॥
আর ও অপরূপ কহিতে নারি।
যথায় মেঘ তথায় না বহে বারি॥
হৃদি মাঝে মেঘ প্রবেশ করি।
নয়নের পথে বরিখে বারি॥
মোর মনে হয় বিজুরী হইয়া।
জড়িয়া রহিগে ও মেঘে যাঞা॥
জ্ঞানদাস কহে নহেত আন।
যে কহিলে ধনি ঐ ত প্রমাণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, সাক্ষাৎদর্শন, ৩৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কুলে।
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে॥
অচলা চপলা মেঘেরি গায়।
মৃগাঙ্করহিত শশাঙ্ক ভায়॥
নাচিছে ময়ূর জলদ'পরি।
অলিকুল আছে চাঁদেরে ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিল নহে।
যথা মেঘ তথা বারি না রহে॥
হৃদয় আকাশে উদয় করি।
নয়নযুগলে বহায় বারি॥
হেন মনে লয় বিজুরি হয়ে।
জড়াইয়ে থাকি মেঘের গায়ে॥
জ্ঞানদাস কহে না কহ আন।
যে কহিলা ধনি সেই প্রমাণ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কুলে। অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে॥
অচলা চপলা মেঘেরি গায়। মৃগাঙ্ক-রহিত শশাঙ্ক ভায়॥
নাচিছে ময়ূর জলদ পরি। অলিকুল আছে চাঁদেরি ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিল নহে। যথা মেঘ তথা বারি না রহে॥
হৃদয়-আকাশে উদর করি। নয়ন-যুগলে বহায় বারি॥
হেন মনে লয় বিজুরি হয়ে। জড়াইয়ে থাকি মেঘের গায়ে॥
জ্ঞানদাস কহে না কহ আন। যে কহিলা ধনি সেই প্রমাণ॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "কীর্ত্তন-পদাবলী" এর ৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ।

কি হেরিলাম কালিন্দী কুলে
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে।
(জনমিয়ে দেখি নাই গো এমন মোহন রূপ, সেই রূপে আঁখি ভরে গেল)
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে।
অচলা চপলা মেঘেরি গায়ে মৃগাঙ্ক রহিতে শশাঙ্ক উদয়।
(যেন চাঁদ উঠেছে, নবীন মেঘের কোলে যেন চাঁদ উঠেছে)
মৃগাঙ্ক রহিত শশাঙ্ক উদয়।
নাচিছে ময়ূর জলদপরি,
(ময়ূর নাচা দেখে এলাম, যমুনায় জল আনতে গিয়ে)
নাচিছে ময়ূর জলদপরি, অলিকুল আছে চাঁদেরে ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিতে নারি
যথা মেঘ তথা না হয় বারি।
হৃদয় আকাশে উদয় করি
নয়ন যুগলে বহয়ে বারি।
যেন মনে হয় বিজুরী হয়ে
মেঘের গায়ে থাকি জড়ায়ে।
জ্ঞান কহে ধনি না কহ আন
যে কহিলাম তুমি সেই সে প্রমাণ।
(একবার বামে দাঁড়াও গিয়ে, নয়ন ভরে যুগল হেরি আর হেরে নয়ন সফল করি)

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি রূপ দেখিলাম কালিন্দী কুলে।
অপরূপ রূপ কদম্ব মূলে॥
অচলা চপলা মেঘেরি গায়।
মৃগাঙ্করহিত শশাঙ্ক ভায়॥
নাচিছে ময়ূর জলদ পরি।
অলিকুল আছে চাঁদেরে ঘেরি॥
আর অপরূপ কহিল নহে।
যথা মেঘ তথা বারি না রহে॥
হৃদয় আকাশে উদয় করি।
নয়নযুগলে বহায় বারি॥
হেন মনে লয় বিজুরি হয়ে।
জড়াইয়ে থাকি মেঘের গায়ে॥
জ্ঞানদাস কহে না কহ আন।
যে কহিলা ধনি সেই প্রমাণ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^