কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
না মিলিল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন
দোতিক কর ধরি করু পরিহার
না মিলিল সুন্দরি শুনি ভৈ ক্ষীণ
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন
কবি জ্ঞানদাস
দোতিক কর ধরি করু পরিহার
না মিলিল সুন্দরি শুনি ভৈ ক্ষীণ
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৭শ পল্লব, দুর্জ্জয় মান, ৫০১ নং পদসংখ্যা, ৩৩৬-নং পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া।
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল-ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ-তাপ॥
“রা” “রা” “ধা” ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি–মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার ॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জল ধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শত গুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জল ধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শত গুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥ দোতীক
কর ধরি করু পরিহার। কহইতে নয়নে
গলে জল ধার॥ বাউরী সম কত করু পর-
লাপ। শত গুণধিক মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক। গদ গদ কণ্ঠ
না হয় পরতেক॥ মানিনী মান মানায়ব
হাম। কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ। ঐছে
গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥ কত পরবোধি
কয়ল সখী থির। জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ কেদার ॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জলধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজতাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
(না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥)
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
‘রা’ ‘ধা’ ‘ধা’ ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি-মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
টীকা ---
না মিলল সুন্দরি ইত্যাদি --- শ্রীকৃষ্ণ দূতীর নিকট শুনিলেন যে রাধা তাঁহার সহিত দেখা করিতে প্রস্তুত নহে ; ইহাতে তিনি ক্ষীণদেহ হইলেন ; রাত্রিদিন কাঁদিতে লাগিলেন। দূতীর হাত ধরিয়া মিনতি (পরিহার) জানাইতে লাগিলেন।
বাউর সম --- বাতুলতুল্য।
সোয়াথ --- সোয়াস্তি।
মন্তব্য ---
"ক" ধৃত পাঠের সহিত "তরু" ধৃত পাঠের বিন্দুমাত্র পার্থক্য নাই ; শুধু "তরু"র প্রথম দুইটি চরণ "ক" তে নাই।
তরু - পদকল্পতরু। ক - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩৬৩ সালে (১৯৫৬) প্রকাশিত জ্ঞানদাসের পদাবলী। এই গ্রন্থে প্রকাশিত পদটিও আমরা এখানে নীচে তুলে দিলাম।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জলধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানাইব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে, যেখানে প্রথম দুটি চরণ বাদ পড়েছে।
মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ তথারাগ॥
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজতাপ॥
রা রা ধা ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৩৯৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মানপ্রকরণ।
॥ ললিত - রূপকতাল॥
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শত গুণাধিক মনে মনসিজ তাপ॥
"রা" "রা" "ধা" ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, মান, ২৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল-ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ-তাপ॥
“রা” “রা” “ধা” ধরি আখর এক ।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি-মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
টীকা --- দূতীর করে ধরিয়া পরিহার (ভিক্ষা) করে। কহিতে নয়নে জলধারা বহে। পাগলের মত কত প্রলাপ বকে। মনে মনসিজ-তাপ শতগুণেরও অধিক। রা রা ধা এক আখর উচ্চারণ করিতেই কণ্ঠ গদগদ হয়। প্রত্যেক (কথা উচ্চারিত) হয় না। মানিনীর মান আমি মানাইব, এই বলিয়া মানিনীর নিকট ছুটিয়া যায়। আবার সহচরীর সঙ্গে ফিরিয়া আসে। এইরূপ আসে যায়, সোয়াথ নাই। কত প্রবোধ দিয়া সখী স্থির করিল। জ্ঞানদাস দেখিয়া অস্থির হইলেন।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজতাপ॥
রা রা ধা ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
*********************
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল-ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ-তাপ॥
“রা” “রা” “ধা” ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি–মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার ॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জল ধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শত গুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জল ধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শত গুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান।
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥ দোতীক
কর ধরি করু পরিহার। কহইতে নয়নে
গলে জল ধার॥ বাউরী সম কত করু পর-
লাপ। শত গুণধিক মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক। গদ গদ কণ্ঠ
না হয় পরতেক॥ মানিনী মান মানায়ব
হাম। কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ। ঐছে
গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥ কত পরবোধি
কয়ল সখী থির। জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ কেদার ॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জলধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজতাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
(না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥)
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ তাপ॥
‘রা’ ‘ধা’ ‘ধা’ ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি-মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
টীকা ---
না মিলল সুন্দরি ইত্যাদি --- শ্রীকৃষ্ণ দূতীর নিকট শুনিলেন যে রাধা তাঁহার সহিত দেখা করিতে প্রস্তুত নহে ; ইহাতে তিনি ক্ষীণদেহ হইলেন ; রাত্রিদিন কাঁদিতে লাগিলেন। দূতীর হাত ধরিয়া মিনতি (পরিহার) জানাইতে লাগিলেন।
বাউর সম --- বাতুলতুল্য।
সোয়াথ --- সোয়াস্তি।
মন্তব্য ---
"ক" ধৃত পাঠের সহিত "তরু" ধৃত পাঠের বিন্দুমাত্র পার্থক্য নাই ; শুধু "তরু"র প্রথম দুইটি চরণ "ক" তে নাই।
তরু - পদকল্পতরু। ক - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩৬৩ সালে (১৯৫৬) প্রকাশিত জ্ঞানদাসের পদাবলী। এই গ্রন্থে প্রকাশিত পদটিও আমরা এখানে নীচে তুলে দিলাম।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মান
॥ কেদার॥
না মিলল সুন্দরী শুনি ভৈ ক্ষীণ।
রোয়ত মাধব অব নিশি দিন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলে জলধার॥
বাউরী সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজ তাপ॥
রাধা রাধা ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনী মান মানাইব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনী ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরী সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখী থির।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথির॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে, যেখানে প্রথম দুটি চরণ বাদ পড়েছে।
মান
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ
॥ তথারাগ॥
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজতাপ॥
রা রা ধা ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
এই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৩৯৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
মানপ্রকরণ।
॥ ললিত - রূপকতাল॥
না মিলল সুন্দরি শুনি ভৈ খীন।
রোয়ত মাধব অব নিশি দীন॥
দোতীক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শত গুণাধিক মনে মনসিজ তাপ॥
"রা" "রা" "ধা" ধরি আখর এক।
গদ গদ কণ্ঠ না হয় পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি কয়ল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, মান, ২৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জল-ধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণধিক মনে মনসিজ-তাপ॥
“রা” “রা” “ধা” ধরি আখর এক ।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি-মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অথীর॥
টীকা --- দূতীর করে ধরিয়া পরিহার (ভিক্ষা) করে। কহিতে নয়নে জলধারা বহে। পাগলের মত কত প্রলাপ বকে। মনে মনসিজ-তাপ শতগুণেরও অধিক। রা রা ধা এক আখর উচ্চারণ করিতেই কণ্ঠ গদগদ হয়। প্রত্যেক (কথা উচ্চারিত) হয় না। মানিনীর মান আমি মানাইব, এই বলিয়া মানিনীর নিকট ছুটিয়া যায়। আবার সহচরীর সঙ্গে ফিরিয়া আসে। এইরূপ আসে যায়, সোয়াথ নাই। কত প্রবোধ দিয়া সখী স্থির করিল। জ্ঞানদাস দেখিয়া অস্থির হইলেন।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দোতিক কর ধরি করু পরিহার।
কহইতে নয়নে গলয়ে জলধার॥
বাউর সম কত করু পরলাপ।
শতগুণাধিক মনে মনসিজতাপ॥
রা রা ধা ধরি আখর এক।
গদগদ কণ্ঠ না হয়ে পরতেক॥
মানিনি মান মানায়ব হাম।
কহি এত ধাবয়ে মানিনি ঠাম॥
পুন ফেরি আওত সহচরি সাথ।
ঐছে গতাগতি নাহিক সোয়াথ॥
কত পরবোধি করল সখি থীর।
জ্ঞানদাস হেরি ভেল অধীর॥
*********************
