কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
তরুমূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু
তরু মূলে কি রূপ দেখিনু সই
তরু মূলে কি রূপ দেখিলুঁ কালা কানু

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ সুহই॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যে রূপ দেখিনু সই,     স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিণু॥ ধ্রু
একে সে কালিন্দী কূল,     ত্রিভঙ্গীম তরু মূল,
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই,
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,     লোক লাজে ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়,     মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ সুহই॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যে রূপ দেখিনু সই,
স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিণু॥
একে সে কালিন্দী কূল,
ত্রিভঙ্গীম তরু মূল,
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,
ফিরিয়া ফিরিয়া চাই,
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,
লোক লাজে ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়,
মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ।

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু সই, স্বরূপে
তোমারে কই, জল ভরিতে বিসরিণু॥ একে
সে কালিন্দী কূল, ত্রিভঙ্গীম তরু মূল, সজল
জলদ শ্যাম তনু। জল ভরিয়া যাই, ফিরিয়া
ফিরিয়া চাই, হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই, লোক লাজে ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন। জ্ঞানদাসেতে
কয়, মোর মনে হেন লয়, ভজি গিয়া ও
রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যে রূপ দেখিনু সই,     স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিণু॥
একে সে কালিন্দীকূল,     ত্রিভঙ্গীম তরুমূল,
সজল-জলদ-শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,     ফিরিয়া চাই,
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,     লোক-লাজে ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়,     মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ওরাঙ্গাচরণ॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১০৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ মায়ূর কল্যাণ - তেওট॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিলুঁ কালা কানু।
যে রূপ দেখিলুঁ সই,     স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিলুঁ॥
একে সে কালিন্দি কূল,     ত্রিভঙ্গীম তরু মূল,
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই,
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,     লোক লাজ ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞান দাসেতে কয়,     মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১৩২পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তরুমূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যে রূপ দেখিনু সই,     স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিনু॥
একে সে কালিন্দীকূল,     ত্রিভঙ্গিম তরু মূল,
সজল-জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
হাসি হাসি পুরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,     লোক-লাজে ভয় পাই
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়     মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ সুহই॥

তরুমূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যেরূপ দেখিনু সই, স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিনু॥
একে সে কালিন্দি কূল, ত্রিভঙ্গিম তরুমূল,
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই, ফিরিয়া ফিরিয়া চাই,
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই, কুল-লাজে ভয় পাই,
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়, মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

তরু-মূলে কি রূপ দেখিলুঁ কালা কানু।
যেরূপ দেখিলুঁ সই     স্বরূপে তোমারে কই
জল ভরিতে বিসরিলুঁ॥
একে সে কালিন্দি-কূল     ত্রি-ভঙ্গিম তরু-মূল
সজল-জলদ-শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
হাসি হাসি পূরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই     লোক-লাজে ভয় পাই
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়     মোর মনে হেন লয়
ভজি গিয়া ও রাঙা চরণ॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৬১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্ব্বরাগ খণ্ড
॥ মায়ূর কল্যাণ - তেওট॥

তরুমূলে কি রূপ দেখিলুঁ কালা কানু।
যে রূপ দেখিলুঁ সই,     স্বরূপে তোমারে কই,
জল ভরিতে বিসরিলুঁ॥
একে সে কালিন্দী কূল,     ত্রিভঙ্গিম তরুমূল,
সজল-জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই,     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
হাসি হাসি পুরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই,     লোক লাজ ভয় পাই
কি করিব কিবা লয় মন।
জ্ঞানদাসেতে কয়,     মোর মনে হেন লয়,
ভজি গিয়া ও রাঙ্গা চরণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সাক্ষাৎদর্শন
॥ সুহই॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যেরূপ দেখিনু সই     স্বরূপে তোমারে কই
জল ভরিতে বিসরিনু॥
একে সে কালিন্দীকূল     ত্রিভঙ্গিম তরুমূল
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
হাসি হাসি পুরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই     কুল লাজে ভয় পাই
আপনা খাইয়া সই মনু।
জ্ঞানদাসেতে কয়     মোর মনে হেন লয়
ভজি গিয়া ও চরণরেণু॥

টীকা---
তুরুমূলে কানুর কি রূপ দেখিলাম! সই সত্য কথা তোমাকে বলিতেছি, রূপ দেখিয়া জল ভরিতে ভুলিয়া গেলাম। একে তো যমুনার তীর, তাহাতে তরুমূলে সজল জলধারের মত ত্রিভঙ্গিম শ্যাম কলেবর। জল ভরিয়া ঘরে ফিরিতেছিলাম। ফিরিয়া ফিরিয়া চাহিয়া হাসিয়া হাসিয়া মৃদুমন্দ বাঁশী বাজাইতেছিল। জল ফেলিয়া পুনরায় জল আনিতে গিয়া কুললাজের ভয় পাইলাম। সই আপনা খাইয়া মরিলাম। জ্ঞানদাস বলিতেছেন আমার এমনি মনে হইতেছে সেই শ্রীচরণধূলি ভজনা করি।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ
॥ সুহই॥

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যেরূপ দেখিলুঁ সই     স্বরূপে তোমারে কই
জল ভরিতে বিসরিনু॥
একে সে কালিন্দী-কুল     ত্রিভঙ্গিম তরুমূল
সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই     ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
হাসি হাসি পুরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই     কুল লাজে ভয় পাই
আপনা খাইয়া সই মনু।
জ্ঞানদাসেতে কয়     মোর মনে হেন লয়
ভজি গিয়া ও চরণ-রেণু॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তরু মূলে কি রূপ দেখিনু কালা কানু।
যেরূপ দেখিনু সই স্বরূপে তোমারে
       কই জল ভরিতে বিসরিনু॥
একে সে কালিন্দীকূল ত্রিভঙ্গিম তরুমূল
       সজল জলদ শ্যাম তনু।
জল ভরিয়া যাই ফিরিয়া ফিরিয়া চাই
       হাসি হাসি পুরে মন্দ বেণু॥
জল ফেলিয়া যাই কুল লাজে ভয় পাই
       আপনা খাইয়া সই মনু।
জ্ঞানদাসেতে কয় মোর মনে হেন লয়
       ভজি গিয়া ও চরণরেণু॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^