কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
গগনক চাঁদ হাথ ধরি দেয়লুঁ
গগণক চাঁদ হাতে ধরি দেয়লু
গগনক চাঁদ হাতে ধরি দেয়লু

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৭শ পল্লব, দুর্জ্জয় মান, ৫০২ নং পদসংখ্যা, ৩৩৭পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া।

দূত্যুক্তিঃ।
॥ কামোদ করুণা॥

গগনক চাঁদ   হাথ ধরি দেয়লুঁ
কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল   সবহুঁ ঐছন ভেল
চীত-পুতলি-সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বূঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ ধ্রু॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলুঁ
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনীকর
কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু   চরণ ধরি সাধলুঁ
রোখে চলল সখি পাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরি
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

গগণক চাঁদ   হাতে ধরি দেয়লু,
কত সমুঝায়লু রীত।
যত কিছু কহিনু,   সবহুঁ ঐছন ভেল,
চিত পুতলী সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝাইতে অবুঝ,   অবুঝ করি মানই,
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥
তোহারি মধুর গুণ,   কত পরথাপলু,
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন,   বরিখে রজনী কর,
কমলিনী না সহে পরাণে॥
যতনহি বহু,   চরণ ধরি সাধলু,
রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে,   তা কর সহচরী,
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ কামোদ॥

গগনক চাঁদ   হাতে ধরি দেয়লু,
কত সমুঝায়লু রীত।
যত কিছু কহিনু,   সবহুঁ ঐছন ভেল,
চিত পুতলী সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝাইতে অবুঝ,   অবুঝ করি মানই,
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥
তোহারি মধুর গুণ,   কত পরথাপলু,
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন,   বরিখে রজনীকর,
কমলিনী না সহে পরাণে॥
যতনহি বহু,   চরণ ধরি সাধলু,
রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে,   তা কর সহচরী,
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ কামোদ॥

গগণক চাঁদ হাতে ধরি দেয়লু, কত
সমুঝায়লু রীত। যত কিছু কহিনু, সবহুঁ
ঐছন ভেল, চিত পুতলী সম রীত॥ মাধব
বোধ না মানই রাই। বুঝাইতে অবুঝ, অবুঝ
করি মানই, কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ তোহারি
মধুর গুণ, কত পরথাপলু, সবহুঁ আন করি
মানে। যৈছন তুহিন, বরিখে রজনীকর,
কমলিনী না সহে পরাণে॥ যতনহি বহু,
চরণ ধরি সাধলু, রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে, তা কর সহচরী, সো
না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

গগণক চাঁদ,   হাতে ধরি দেয়লু,
কত সমুঝায়লু রীত।
যত কিছু কহিনু,   সবহুঁ ঐছন ভেল,
চিতপুতলী সম রীত॥
মাধব, বোধ না মানই রাই।
বুঝাইতে অবুঝ,   অবুঝ করি মানই,
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥
তোহারি মধুর গুণ,   কত পরথাপলু,
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন,   বরিখে রজনীকর,
কমলিনী না সহে পরাণে॥
যতনহি বহু,   চরণ ধরি সাধলু,
রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে,   তা কর সহচরী,
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৪পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গগনক চাঁদ   হাথ ধরি দেয়লুঁ
কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল   সবহুঁ ঐছন ভেল
চীত-পুতলি-সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বূঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ ধ্রু॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলুঁ
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনীকর
কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু   চরণ ধরি সাধলুঁ
রোখে চলল সখি পাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরি
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

টীকা ---
নীত --- নীতি কথা কত বুঝাইলাম।
চীত পুতলি সম রীত --- রাধা ছবিতে আঁকা পুতুলের মত ব্যবহার করিল, অর্থাত্ কোন জবাব দিল না।
পরথাপলুঁ --- প্রস্তাব করিলাম, ব্যাখ্যা করিলাম।
যৈছন তুহিন ইত্যাদি --- চন্দ্র তুষারপাত করে (শীতল করে), কিন্তু কমলিনী তাহাতে প্রাণে বাঁচে না।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

গগনক চাঁদ,   হাতে ধরি দেয়লু,
কত সমুঝায়লু রীত।
যত কিছু কহিনু,   সবহ ঐছন ভেল,
চিতপুতলী সম রীত॥
মাধব,, বোধ না মানই রাই।
বুঝাইতে অবুঝ,   অবুঝ করি মানই,
কতয়ে বুঝায়ব নাই॥
তোহারি মধুর গুণ,   কত পরথাপলু,
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন,   বরিখে রজনীকর,
কমলিনী না সহে পরাণে॥
যতনহি বহু,   চরণ ধরি সাধলু,
রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে,   তা কর সহচরী,
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, মান, ৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গগনক চাঁদ   হাতে ধরি দেয়লু
কত সমুঝায়লু রীত।
যত কিছু কহিনু   সবহ ঐছন ভেল
চীত পুতলী সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে অবুঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলু
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনীকর
কমলিনী না সহে পরাণে॥
যতনহি বহু   চরণ ধরি সাধলু
রোখে চলল সখী পাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরী
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ কামোদ করুণা॥

গগনক চাঁদ   হাথ ধরি দেয়লুঁ
কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল   সবহুঁ ঐছন ভেল
চীতপুতলিসম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বুঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ ধ্রু॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলুঁ
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনীকর
কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু   চরণ ধরি সাধলুঁ
রোখে চলল সখিপাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরি
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৩৯৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ।
দূতীর উক্তি।
॥ করুণ কামোদ - মধ্যম একতালা॥

গগনক চাঁদ   হাথ ধরি দেয়লুঁ
কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল   সবহুঁ ঐছন ভেল
চীত পুতলি সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বুঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ ধ্রু॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলুঁ
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনী-কর
কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু   চরণ ধরি সাধলুঁ
রোখে চলল সখি পাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরি
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৫৭--পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ করুণা॥

গগনক চাঁদ   হাথ ধরি দেয়লুঁ
কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল   সবহুঁ ঐছন ভেল
চীত-পুতলি-সম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বূঝ   অবুঝ করি মানই
কতয়ে বুঝায়ব তাই॥ ধ্রু॥
তোহারি মধুর গুণ   কত পরথাপলুঁ
সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন   বরিখে রজনীকর
কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু----   চরণ ধরি সাধলুঁ
রোখে চলল সখি-পাশ।
সরস বিরস কিয়ে   তাকর সহচরি
সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

টীকা---
আকাশের চাঁদ হাতে ধরিয়া দিলাম, কত নীতি-কথা বুঝাইলাম। কিন্তু সব কিছুই চিত্র-পুত্তলিকার নিকট বলার মত বিফল হইল। মাধব, রাধা প্রবোধ মানিতেছে না। বুঝাইতে গেলে অবুঝের মত মানিতে চাহে না। কত তাহাকে বুঝাইব। তোমার মধুর গুণের কত প্রস্তাব উত্থাপন করিলাম, কিছুই মানিল না, যেমন শশখর সুখস্পর্শ শিশির বর্ষণ করিলে পদ্মিনীর প্রাণে তাহা সহ্য হয় না। কত যত্নে তাহার হাতে পায়ে ধরিয়া সাধিলাম, সে রাগ করিয়া সখীর নিকট চলিয়া গেল। সেই সথী তাহাতে সন্তুষ্ট কি অসন্তুষ্ট হইল, জ্ঞানদাস তাহা বুঝিতে পারিলেন না।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গগনক চাঁদ হাথ বরি দেয়লুঁ
      কত সমুঝায়লুঁ নীত।
যত কিছু কহল সবহুঁ ঐছন ভেল
      চীতপুতলিসম রীত॥
মাধব বোধ না মানই রাই।
বুঝইতে বুঝ অবুঝ করি মানই
      কতয়ে বুঝায়ব তাই॥
তোহারি মধুর গুণ কত পরথাপলুঁ
      সবহুঁ আন করি মানে।
যৈছন তুহিন বরিখে রজনীকর
      কমলিনি না সহে পরাণে॥
যতনহিঁ বাহু চরণ ধরি সাধলুঁ
      রোখে চলল সখিপাশ।
সরস বিরস কিয়ে তাকর সহচরি
      সো না বুঝল জ্ঞানদাস॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^