কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
নব জলধর জিনি কলেবর
নব জলধর জেন কলেবর

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রূপানুরাগ, ১৩৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নব জলধর     জিনি কলেবর
অমিঞা মধুর হাস।
হিয়ার মাঝে     দেখি এ থির
বিজুরি প্রকাস॥
ঠমকি চলন     দুদিগে হেলন
অঙ্গের দোলনা।
হেরি চমকিত     হয় কত কত
লাখ মদনা॥
বিনোদ নাগর     দেখিনু - - -
রহিল মনের বেথা।
দারুণ ননদির     তবে নাকি
হইল কোন কথা॥
ময়ূর পাখের চান্দ কুন্তল উপরে।
কালিন্দির জলে কিবা মত্স্য রাঙ্গা উড়ে॥
তাহা য়ে বেড়িয়া নব মালতির মালা।
হংসরাজপাঁতি কিবা পাতিঞাছে খেলা॥
বদন কমল     নয়ন যুগল
কিবা সে খঞ্জন পাখি।
শারদ চান্দের     চকোর কিবা
আইল পিবার লাগি ॥
পড়ি গেলু মদন ফাঁন্দে নাহিক এড়ান।
জ্ঞানদাস বলে বড় বনোদিয়া কান॥

টীকা---
হিয়ার মাঝে দেখিএ থির বিজুরি প্রকাশ --- বুকে শুভ্র-কুসুমের মালাকে স্থির বিজুরি বলিয়া মনে হয়।
কালিন্দির জলে কিবা মত্স্যরাঙ্গা উড়ে --- যমুনার কাল জলে যেন মাছরাঙ্গা পাখী উড়িতেছে ---
শ্রীকৃষ্ণের কুন্তলের সঙ্গে যমুনার জলের ও ময়ূর পুচ্ছের সঙ্গে মাছরাঙ্গার উপমা।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

নব জলধর     জেন কলেবর
অমিঞা-মধুর হাস।
হিয়ার মাঝে     দেখিএ থির
বিজুরি প্রকাস॥
ঠমকি চলন     দুদিগে হেলন
অঙ্গের দোলনা।
হেরি চমকিত     হয় কত
লাখ মদনা॥
বিনোদ নাগর     দেখিনু
রহিল মনের বেথা।
দারুণ ননদির     তরে নাকি
হইল কোন কথা॥
ময়ুর পাখের চান্দ কুন্তল উপরে।
কালিন্দির জলে কিবা মত্স্যরাঙ্গা উড়ে॥
তাহাএ বেড়িয়া নব মালতির মালা।
হংসরাজপাঁতি কিবা পাতিঞাছে খেলা॥
বদন কমল     নয়ন যুগল
কিবা সে খঞ্জন পাখি।
শারদ চান্দের     চকোর কিবা
আইল পিবার লাগি॥
পড়ি গেলু মদন ফাঁন্দে নাহিক এড়ান।
জ্ঞানদাস বলে বড় বিনোদিয়া কান॥

এই পদটি এই গ্রন্থের “অসম্পূর্ণ পদাবলী” অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। অধ্যায়ের শুরুতে লেখা আছে --- “এই অসম্পূর্ণ পদগুলি বিভিন্ন পুঁথি হইতে সংগৃহিত ও সর্বপ্রথম প্রকাশিত হইল। দুঃখের বিষয়, ইহাদের পূর্ণ রূপটি উদ্ধার করিতে পারা গেল না।”

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^