কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শ্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা
শ্যাম অভিসারে চলে বিনোদিনী রাধা

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ কেদার॥

শ্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুল মালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত হিলোল।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেম বিলাসিনী রাই কানু মন লোভা॥
ভালে সে সিন্দূর বিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমিল করিয়া।
প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুনু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পাড়া॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারি দিগে চায়।
মাধবী লতার তলে দেখে শ্যাম রায়॥
শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার।
॥ কেদার॥

শ্যাম-অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত-হিলোল।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেমবিলাসিনী রাই কানু-মনলোভা॥
ভালে সে সিন্দূরবিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ-আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমিল করিয়া।
প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুনু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পাড়া॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারি দিগে চায়।
মাধবী লতার তলে দেখে শ্যাম রায়॥
শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গাচরণ-মাধুরী॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অভিসার, ১৪১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার

শ্যাম-অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাশায় বেশর দোলে মারুত-হিলোলে।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোলে॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেমবিলাসিনী রাই কানু মনোলোভা॥
ভালে সে সিন্দুর বিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ-আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমিল করিয়া।
প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুনু ঝুনু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পারা॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারিদিগে চায়।
মাধবী লতার তলে দেখে শ্যামরায়॥
শ্যাম কোরে মিলিল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ-মাধুরী ॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ কেদার॥

শ্যাম-অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত-হিলোল।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেম বিলাসিনী রাই কানু মনলোভা॥
ভালে সে সিন্দূর বিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ-আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমিল করিয়া।
প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুনু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পাড়া॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারি দিকে চায়।
মাধবীলতার তলে দেখি শ্যাম রায়॥
শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ-মাধুরী॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ১৭৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বংশীধ্বনি প্রতি আক্ষেপ
॥ সুহই॥

শ্যাম অভিসারে চলে বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুল মালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাসায় বেশর দোলে মুকুতা হিলোল।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমেল করিয়া।
প্রবেশিল বৃন্দাবনে শ্যাম জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুণু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে রাই আইল পারা॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারিদিগে চায়।
মাধবী লতার তলে দেখে শ্যাম রায়॥
শ্যাম কোলে মিলিল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞান দাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, অভিসারিকা, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিয়া কবরী।
কুন্তলে বকুল মালা গুঞ্জরে ভ্রমরী॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত হিলোল।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেম-বিলাসিনী রাই কানু-মন-লোভা॥
ভালে সে সিন্দুর-বিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমিল করিয়া।
প্রবেশিলা বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুণু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে আইস রাই পাড়া॥
বৃন্দাবনে যাইয়া রাই চারি দিগে চায়।
মাধবী লতার তলে দেখে শ্যাম রায়॥
শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙা চরণ মাধুরী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
দিনান্তরে
॥ কেদার॥

শ্যামঅভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বাঁধিয়া কবরি।
কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরি॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত হিলোলে।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোলে॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেমবিলাসিনী রাই কানুমনোলোভা॥
ভালে সে সিন্দুরবিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমেল করিষা।
বৃন্দাবনে প্রবেশিলা জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণুঝুণু পড়ে গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে রাই আইল পারা॥
বৃন্দাবনে গিয়া রাই চারিদিকে চায়।
মাধবীলতার তলে দেখে শ্যামরায়॥
শ্যামকোরে মিলল রসের মঞ্জরি।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গাচরণমাধুরী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ কেদার॥

শ্যাম-অভিসারে চলু বিনোদিনী-রাধা। নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বাঁধিয়া কবরি। কুন্তলে বকুল-মালা গুঞ্জরে ভ্রমরি॥
নাসার বেশর দোলে মারুত-হিলোলে। নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোলে॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা। প্রেম-বিলাসিনী রাই কানু-মনোলোভা॥
ভালে সে সিন্দুর-বিন্দু চন্দনের রেখা। জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া। পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমেল করিয়া। বৃন্দাবনে প্রবেশিলা জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণুঝুণু পড়ে গেল সাড়া। নাগর উঠিয়া বলে রাই আইল পারা॥
বৃন্দাবনে গিয়া রাই চারিদিকে চায়। মাধবীলতার তলে দেখে শ্যামরায়॥
শ্যাম-কোরে মিলল রসের মঞ্জরি। জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা-চরণ-মাধুরী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যামঅভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।
নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা॥
সুকুঞ্চিত কেশে রাই বাঁধিয়া কবরি।
কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরি॥
নাসায় বেশর দোলে মারুত হিলোলে।
নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোলে॥
কত কোটি চাঁদ জিনি বদনের শোভা।
প্রেমবিলাসিনী রাই কানুমনোলোভা॥
ভালে সে সিন্দুরবিন্দু চন্দনের রেখা।
জলদে ঝাঁপল চাঁদ আধ দিছে দেখা॥
আবেশে সখীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছিয়া॥
রবাব খমক বীণা সুমেল করিষা।
বৃন্দাবনে প্রবেশিলা জয় জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণুঝুণু পড়ে গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে রাই আইল পারা॥
বৃন্দাবনে গিয়া রাই চারিদিকে চায়।
মাধবীলতার তলে দেখে শ্যামরায়॥
শ্যামকোরে মিলল রসের মঞ্জরি।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গাচরণমাধুরী॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^