কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
নন্দের বাড়ী তমাল গাছি
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী, তমাল গাছি,
কনক লতায় বেড়া।
* * * * *
কালা কলেবর, পীত বসন,
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্ট দলে, অমিয়া সাগর,
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে, মেঘের মালা,
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে, শশধর শোভিত,
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে, অমিয়া বরিখে,
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন, অনুখন ভাবই,
রাধার পরাণ কানু॥
নন্দের বাড়ী, তমাল গাছি,
কনক লতায় বেড়া।
* * * * *
কালা কলেবর, পীত বসন,
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্ট দলে, অমিয়া সাগর,
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে, মেঘের মালা,
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে, শশধর শোভিত,
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে, অমিয়া বরিখে,
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন, অনুখন ভাবই,
রাধার পরাণ কানু॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
ষোড়শ-গোপাল-রূপ
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী, তমাল গাছি,
কনক লতায় বেড়া।
# # # # #
কালা কলেবর, পীত বসন,
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্ট দলে, অমিয়া সাগর,
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে, মেঘের মালা,
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে, শশধর শোভিত,
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে, অমিয়া বরিখে,
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন, অনুখণ ভাবই,
রাধার পরাণ কানু॥
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী, তমাল গাছি,
কনক লতায় বেড়া।
# # # # #
কালা কলেবর, পীত বসন,
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্ট দলে, অমিয়া সাগর,
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে, মেঘের মালা,
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে, শশধর শোভিত,
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে, অমিয়া বরিখে,
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন, অনুখণ ভাবই,
রাধার পরাণ কানু॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১৪৬পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যুগল মিলন।
নন্দের বাড়ী তমাল গাছি
কনক লতার বেড়া।
.... ..... ..... ....
কালা কলেবর পীত বসন
গৌর কলেবর নীরে।
(কনক অষ্ট দলে অমিয়া সাগর
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥)
একশিরে শোভে মেঘের মালা
আর শিরে ইন্দ্রধনু।
এক কপালে শশধর শোভিত
আর কপালে শোভে ভানু॥
এক মুখে অমিয়া বরিখে
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন অনুখন ‘ভাণই’
রাধার পরাণ কানু॥
নন্দের বাড়ী তমাল গাছি
কনক লতার বেড়া।
.... ..... ..... ....
কালা কলেবর পীত বসন
গৌর কলেবর নীরে।
(কনক অষ্ট দলে অমিয়া সাগর
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥)
একশিরে শোভে মেঘের মালা
আর শিরে ইন্দ্রধনু।
এক কপালে শশধর শোভিত
আর কপালে শোভে ভানু॥
এক মুখে অমিয়া বরিখে
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন অনুখন ‘ভাণই’
রাধার পরাণ কানু॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তমাল গাছের এবং রাধার সঙ্গে স্বর্ণলতিকার উপমা দেওয়া হইয়াছে।
এক কপালে শশধর শোভিত ইত্যাদি --- একজনের কপালে চন্দন দিয়া চাঁদ আঁকা, আর একজনের কপালে সিন্দুরের বিন্দু (সূর্যের মত)।
পাঠান্তর ---
বন্ধনীর ভিতরের অংশ "ক" তে নাই। "ক" - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থ।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তমাল গাছের এবং রাধার সঙ্গে স্বর্ণলতিকার উপমা দেওয়া হইয়াছে।
এক কপালে শশধর শোভিত ইত্যাদি --- একজনের কপালে চন্দন দিয়া চাঁদ আঁকা, আর একজনের কপালে সিন্দুরের বিন্দু (সূর্যের মত)।
পাঠান্তর ---
বন্ধনীর ভিতরের অংশ "ক" তে নাই। "ক" - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থ।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
ভাব-সম্মিলন।
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী তমাল গাছি
কনক লতায় বেড়া।
কালা কলেবর পীত বসন
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্টদলে অমিয়া সাগর
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে মেঘের মালা
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে শশধর শোভিত
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে অমিয়া বরিখে
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন অনুখন ভাবই
রাধার পরাণ কানু॥
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী তমাল গাছি
কনক লতায় বেড়া।
কালা কলেবর পীত বসন
গৌর কলেবর নীরে।
কনক অষ্টদলে অমিয়া সাগর
ভাসল মত্ত অলিকুলে॥
এক শিরে শোভে মেঘের মালা
আর শিরে ইন্দ্র ধনু।
এক কপোলে শশধর শোভিত
আর কপোলে শোভে ভানু॥
এক মুখে অমিয়া বরিখে
আর মুখে বায় বেণু।
জ্ঞানদাসের মন অনুখন ভাবই
রাধার পরাণ কানু॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যুগল রূপ
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী তমাল গাছে কনকলতা বেড়ি।
কালা দেহ পীত বসন নীল বসনে গোরী।
এক শিরে মেঘের মালা আনে ইন্দ্রধনু।
এক ভালে শশধর আর কপোলে ভানু॥
এক মুখেতে সুধা ঝরে আরে বাজায় বেণু।
জ্ঞানের মনে অনুক্ষণ রাধার পরাণ কানু॥
॥ সুহই॥
নন্দের বাড়ী তমাল গাছে কনকলতা বেড়ি।
কালা দেহ পীত বসন নীল বসনে গোরী।
এক শিরে মেঘের মালা আনে ইন্দ্রধনু।
এক ভালে শশধর আর কপোলে ভানু॥
এক মুখেতে সুধা ঝরে আরে বাজায় বেণু।
জ্ঞানের মনে অনুক্ষণ রাধার পরাণ কানু॥
এই পদটি লোচনের ধামালী-ছন্দে ও তাহারই অনুরূপ তরল সুরে রচিত। সাধারণতঃ জ্ঞানদাসের পদে যে রস-গভীরতা দেখা যায়, এটি তাহার ব্যতিক্রম।
*********************
*********************
