কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
একলি মন্দিরে শুতলি সুন্দরী
একলি মন্দিরে শুতলি সুন্দরি
একলি মন্দিরে আছিলা সুন্দরি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে,     শুতলি সুন্দরী,
কোরহি শ্যামর চন্দ।
তবহুঁ তাহার,     পরশ না ভেল,
এ বড়ি মরমে ধন্ধ॥
সজনি পাওলি পিরীতি ওর।
শ্যাম সুনাগর,     শৈশবে কিবা
কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তূরী চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
দেখিয়ে অধিক উজোর।
বিবিধ কুসুমে,     বান্ধল কবরী,
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল বদন,     কমল মাধুরী,
না ভেল মধূপ সাত।
পুছইতে ধনী,     ধরণী হেরসি,
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি,     বসতি বিষয়ে,
দেখিয়া দেওলি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     এ দোষ কাহার,
দৈবে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে,     শুতলি সুন্দরী,
কোরহি শ্যামর চন্দ।
তবহুঁ তাহার,     পরশ না ভেল,
এ বড়ি মরমে ধন্ধ॥
সজনি পাওলি পিরীতি ওর।
শ্যাম সুনাগর,     শৈশব কিবা,
কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তূরী চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
দেখিয়ে অধিক উজোর।
বিবিধ কুসুমে,     বান্ধল কবরী,
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল বদন,     কমল মাধুরী,
না ভেল মধূপ সাত।
পুছইতে ধনী,     ধরণী হেরসি,
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি,     বসতি বিষয়ে,
দেখিয়া দেওলি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     এ দোষ কাহার,
দৈবে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে, শুতলি সুন্দরী,
কোরহি শ্যামর চন্দ। তবহুঁ তাহার, পরশ
না ভেল, এ বড়ি মরমে ধন্দ॥ সজনি
পাওলি পিরীতি ওর। শ্যাম সুনাগর, শৈশব
কিবা কঠিন হৃদয় তোর॥ কস্তূরী চন্দন,
অঙ্গে বিলেপন, দেখিয়ে অধিক উজোর।
বিবিধ কুসুমে, বান্ধল কবরী, শিথিল না
ভেল তোর॥ অমল বদন, কমল মাধুরী,
না ভেল মধূপ সাত। পুছইতে ধনী, ধরণী
হেরসি, হাসি না কহসি বাত॥ কিবা রতি-
পতি বসতি বিষয়ে, দেখিয়া দেওলি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে, এ দোষ কাহার, দৈব না
ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে,     শুতলি সুন্দরী,
কোরহি শ্যামর চন্দ।
তবহুঁ তাহার,     পরশ না ভেল,
এ বড়ি মরমে ধন্ধ॥
সজনি, পাওলি পিরীতি ওর।
শ্যাম সুনাগর,     শৈশবে কিবা
কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তুরী চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
দেখিয়ে অধিক উজোর।
বিবিধ কুসুমে,     বাঁধল কবরী,
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল বদন,     কমল মাধুরী,
না ভেল মধূপ সাত।
পুছইতে ধনী,     ধরণী হেরসি,
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি,     বসতি বিষয়ে,
দেখিয়া দেওলি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     এ দোষ কাহার,
দৈবে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১৫০ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল মিলন

একলি মন্দিরে     আছিলা সুন্দরী
কোরহি শ্যামর চন্দ।
তবহুঁ তোহারি     পরশ না ভেল
এ বড় হৃদয়ে ধন্দ॥
সখি হে বুঝিলুঁ পিরিতি জোর।
শ্যামনাগর     শৈশব কিয়ে
কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তুরী চন্দন     অঙ্গে হি লেপন
অধিক দেখিয়ে জোর।
অশেষ কুসুমে     বান্ধল কবরী
শিথিল না ভেল ডোর॥
অমল বয়ানে     কমল মধু
না ভেল মধুপ সাথ।
পুছইতে ধনী     ধরণী হেরই
হাসিয়া কহসি বাত॥
কিয়ে রতিপতি     বসতি বিষয়ে
দেখিয়া দেয়লি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     এ দোষ কাহার
দৈবে সে না ভল সঙ্গ॥

টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের সহিত শ্রীরাধা রাত্রে নিভৃত মন্দিরে শয়ন করিয়াছিলেন, অথচ প্রভাতে তাঁহার দেহে কোন রতিচিহ্ন না দেখিয়া সখীরা বিস্ময় প্রকাশ করিতেছেন। তাঁহাদের প্রশ্ন হইল এই যে শ্যামনাগর কি শৈশবভাবাপন্ন (সাময়িক ক্লৈব্য) হইলেন, না তুমিই কাম বিষয়ে ভঙ্গ দিলে? পরের পদে বুঝা যাইবে যে জ্ঞানদাসের উক্তিই ঠিক ---‘দৈব সে না ভেল সঙ্গ’---- রাধা ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল। সাময়িক ক্লৈব্য লইয়া গোবিন্দ দাস ‘জানলু’ রে হরি তোহারি সোহাগ ইত্যাদি পদকল্পতরুর (৪২৩) পদে রাধাকে দিয়া শ্লেষ করিয়া বলাইয়াছেন --- কৃষ্ণ তুমি তো “রতিরণ পণ্ডিত”, তবে চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে রাত্রিযাপন করিয়াও তোমার বেশ অখণ্ডিত কেন? আমার অনুমান হয় সারারাত্রি জাগিয়া কাটাইয়াছ, অথচ ভামিনীর সঙ্গসুথ ভোগ করিতে পার নাই --- “তে অনু মানিয়ে, বেকত উজাগরি, বিঘটিত ভামিনি সঙ্গ”। তুমি আমাকে করিয়া যেমন অন্য নারীর কাছে গিয়াছিলে, বিধাতা তোমাকে তেমনি বঞ্চনা করিয়াছেন ---“যো পরবঞ্চক বিহি তাহে বঞ্চউ।”

পদটীর মধ্যে শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও ডঃ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় যে “কামগন্ধহীন নিষ্কলুষ প্রেমের” সন্ধান পাইয়াছেন তাহা তাঁহাদের কামগন্ধহীন চিত্তের প্রতিচ্ছায়া মাত্র।

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে,     শুতলি সুন্দরী,
কোরহি শ্যামর চন্দ।
তবহুঁ তাহার,     পরশ না ভেল,
এ বড়ি মরমে ধন্ধ॥
সজনি, পাওলি পিরীতি ওর।
শ্যাম সুনাগর,     শৈশব কিবা
কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তূরী চন্দন,     অঙ্গে বিলেপন,
দেখিয়ে অধিক উজোর।
বিবিধ কুসুমে,     বাঁধল কবরী,
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল বদন,     কমল মাধুরী,
না ভেল মধূপ সাত।
পুছইতে ধনী,     ধরণী হেরসি,
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি,     বসতি বিষয়ে,
দেখিয়া দেওলি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে,     এ দোষ কাহার,
দৈবে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে     শুতলি সুন্দরি
কোরহি শ্যামরচন্দ।
তবহুঁ তাকর     পরশ না ভেল
এ বড়ি মরমে ধন্ধ॥
সজনি পাওলুঁ পিরীতিক ওর।
শ্যাম সুনাগর     রসের সাগর
কঠিন হৃদয় তোর॥ ধ্রু
কস্তুরী চন্দন     অঙ্গে বিলেপন
দেখিয়ে অধিক জোর।
বিবিধ কুসুমে     বান্ধল কবরী
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল কমল-     বদনমাধুরী
না ভেল মধুপ সাথ।
পুছইতে ধনি     ধরণী হেরসি
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি-     বসতি বিষয়ে
দেখিয়া দেয়লি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     এ দোষ কাহার
দৈবে সে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

একলি মন্দিরে     শুতলি সুন্দরি
কোরহি শ্যামর-চন্দ।
তবহুঁ তাকর     পরশ না ভেল
এ বড়ি মরমে ধন্দ॥
সজনি পাওলুঁ পিরিতিক ওর।
শ্যাম সুনাগর     রসের সাগর
কঠিন হৃদয় তোর॥ ধ্রু॥
কস্তুরী চন্দন     অঙ্গে বিলেপন
দেখিয়ে অধিক জোর।
বিবিধ কুসুমে     বান্ধল কবরী
শিথিল না ভেল তোর॥
অমল কমল-     বদন-মাধুরী
না ভেল মধুপ সাথ।
পুছইতে ধনি     ধরণী হেরসি
হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতি-পতি-     বসতি বিষয়ে
দেখিয়া দেয়লি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে     এ দোষ কাহার
দৈবে সে না ভেল সঙ্গ॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একলি মন্দিরে শুতলি সুন্দরি
        কোরহি শ্যামরচন্দ।
তবহুঁ তাকর পরশ না ভেল
        এ বড়ি মরমে ধন্দ॥
সজনি পাওলুঁ পিরীতিক ওর।
শ্যাম সুনাগর রসের সাগর
        কঠিন হৃদয় তোর॥
কস্তুরী চন্দন অঙ্গে বিলেপন
        দেখিয়ে অধিক জোর।
বিবিধ কুসুমে বান্ধল কবরী
        শিথিল না ভেল তোর॥
অমল কমল বদনমাধুরী
        না ভেল মধুপ সাথ।
পুছইতে ধনি ধরণী হেরসি
        হাসি না কহসি বাত॥
কিবা রতিপতি বসতি বিষয়ে
        দেখিয়া দেয়লি ভঙ্গ।
জ্ঞানদাস কহে এ দোষ কাহার
        দৈবে সে না ভেল সঙ্গ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^