কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে
দেখিতে দেখিয়ে আহনি ছান্দে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ২৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ ললিত ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে। কিবা লাগিয়াছে মদন ফান্দে॥
সহজে কানুর চরিত যে। তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
এ ধনি! তোমাকে বলিব কি? প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
নহিলে এমন চরিত নয়। আনছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির মিশালে চাহনি আন। তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনুভবিয়া গায়। রসের বেভার লুকান না যায়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে।
কিবা লাগায়াছে মদন ফান্দে॥
সহজ কানুর চরিত যে।
তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
সই বলিব কি।
প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
পিরীতি আহারে না পড়ে কে।
দোতী পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়।
আনছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির মিশালে চাহনি আন।
তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনুভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন।
॥ ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে।
কিবা লাগায়াছে মদন ফান্দে॥
সহজ কানুর চরিত যে।
তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
সই বলিব কি।
প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
পিরীতি আহারে না পড়ে কে।
দোতী পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়।
আনছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির মিশালে চাহনি আন।
তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনুভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে। কিবা
লাগায়াছে মদন ফান্দে॥ সহজ কানুর
চরিত যে। তা দেখি জগতে না ভুলে
কে॥ সই বলিব কি। প্রেম পরসঙ্গ
দেখিতেছি॥ পিরীতি আহারে না পড়ে
কে। দোতী পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়। আনছলে এত
কথা কি কয়॥ হাসির মিশালে চাহনি
আন। তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনুভাবিয়া গায়। রসের বেভার
কায় না যায়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে।
কিবা লাগায়াছে মদন ফান্দে॥
সহজ কানুর চরিত যে।
তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
সই, বলিব কি।
প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
পিরীতি আহারে না পড়ে কে।
দোতী পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়।
আন ছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির মিশালে চাহনি আন।
তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনু-ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৬০ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দে।
কিবা লাগিয়াছে মদন ফান্দে॥
সহজে লাগিয়াছে মদন ফান্দে
সহজে কানুর চরিত যে॥
তা দেখি জগতে না ভুলে কে।
এ ধনি ! তোমারে বলিব কি?
প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
নহিলে এমন চরিত নয়।
আনছলে এত কথা কি কয়॥

(পদটির শেষ চার লাইন এই গ্রন্থে পড়া যাচ্ছে না।)

টীকা ---
সখী রাধাকে বলিতেছেন --- এখন যে তোমাকে অন্যরকম দেখায়? তুমি মদনের ফাঁদে পড়িয়াছ কি? সহজেই কানুর চরিত্র চিত্তাকর্ষক, তাহা দেখিয়া জগতে কে না ভুলে? সুন্দরি! তোমাকে আর কি বলিব, তোমার ভাবসাব দেখিয়া প্রেমের ব্যাপার বলিয়া অনুমান করিতেছি। তাহা না হইলে এমন ব্যবহার হইবে কেন? অন্য ছলে এত কথা কেন বলিতেছ? তোমার হাসির চিহ্ন (নিশান) আর অন্য দিকে চাওয়া দেখিয়া ব্যাপার বুঝিতে কে না পারে? জ্ঞানদাস অনুভব করিয়া বলিতেছেন যে রসের ব্যবহার লুকানো যায় না।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥

দেখিতে দেখিয়ে আহনি @ ছান্দে।
কিবা লাগায়াছে মদন ফান্দে॥
সহজ কানুর চরিত যে।
তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
সই, বলিব কি।
প্রেম পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
পিরীত আহারে না পড়ে কে।
দোতী পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়।
আন ছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির মিশালে চাহনি আন।
তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনু-ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

@ - আহনি – অন্য সব গ্রন্থে “আনহি” রয়েছে।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ শ্রীরাগ॥

দেখিতে দেখিয়ে আনহি ছান্দ। কিবা লাগিয়াছে মদন-ফান্দ॥
সহজে কানুর চরিত যে। তা দেখি জগতে না ভুলে কে॥
সই বলিব কি। প্রেম-পরসঙ্গ দেখিতেছি॥
পিরিতির হার না পরে কে। দ্যুতি পাইয়াছে পরতেক দে॥
নহিলে এমন চরিত নয়। আন ছলে এত কথা কি কয়॥
হাসির নিশানে চাহনি আন। তা দেখি কাহার না হয় ভান॥
জ্ঞানদাস অনুভবিয়া গায়। রসের বেভার লুকা না যায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^