কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শুন শুন মাধব না বোলহ আর
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৭শ পল্লব, মান, ৫০৬-নং পদসংখ্যা, ৩৪০-নং পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া।

॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥ ধ্রু॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লুঁ সরবস নিরমল কূল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দুরে কর কৈতব ভ্রমর-তিয়াষ॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজ-জনে কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
শ্রীরাধিকার উক্তি
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কি ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওল তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লু সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দুরে কর কৈতব ভ্রমরতি আশ॥
অলপে বুঝলু হাম তুয়াক চরিত।
নামহি যৈছে অন্তর সেই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দিব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নিব॥
জ্ঞানদাস কহে কর অবধান।
তুয়া নিজজন কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
(রাধিকার উক্তি।)
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কি ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওল তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লু সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দুরে কর কৈতব ভ্রমরতি আশ॥
অলপে বুঝলু হাম তুয়াক চরিত।
নামহি যৈছে অন্তর সেই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দিব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নিব॥
জ্ঞানদাস কহে কর অবধান।
তুয়া নিজজন কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
(শ্রীরাধিকার উক্তি।)
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর। কি
ফল আছয়ে এত পরিহার॥ পাওল তুয়া
সঞে প্রেমক মূল। খোয়লু সরবস নির-
মল কুল॥ পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভি-
লাষ। দুরে কর কৈতব ভ্রমরতি আশ॥
অলপে বুঝলু হাম তুয়াক চরিত। নামহি
যৈছে অন্তর সেই রীত॥ কাহে দেয়সি
তুহুঁ আপন দিব। আছয়ে জীবন সেহ
কিয়ে নিব॥ জ্ঞানদাস কহে কর অবধান।
তুয়া নিজজন কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব, না বোলহ আর।
কি ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওল তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লু সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দূরে কর কৈতব ভ্রমরতি-আশ॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক চরিত।
নামহি যৈছে অন্তর সেই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দিব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নিব॥
জ্ঞানদাস কহে কর অবধান।
তুয়া নিজজন কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৩পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥ ধ্রু॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমের মূল।
খোয়লুঁ সরবর নিরমল কূল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দূরে কর কৈতব ভ্রমর-তিয়াষ॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজজনে কাহে এত অপমান॥

টীকা ---
এত পরিহার --- এত মিনতি করিয়া কি ফল হইবে?
প্রেমক মূল --- প্রেমের মূল্য।
সরবস --- সর্ব্বস্ব।
কৈতব ভ্রমর-তিয়াস --- হূল দূর কর, তোমার তৃষ্ণা ভ্রমরের মতম, তুমি মধু খাইয়াছ অন্য ফুলে চলিয়া যাও।
নামহি যৈছে --- বাঁকা নাম, বাঁকা হৃদয় অথবা কালা নাম, কাল হৃদয়।
আপন দীব --- নিজের দিব্য।
সেহ কিয়ে নীব --- তাহাও কি তুমি নিবে, অথবা তাহাও কি নিভাইয়া দিবে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কি ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওল তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লু সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দূরে কর কৈতব ভ্রমরতি-আশ॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক চরিত।
নামহি যৈছে অন্তর সেহ রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দিব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নিব॥
জ্ঞানদাস কহে কর অবধান।
তুয়া নিজ জন কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
শ্রীরাধার উক্তি
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥ ধ্রু॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লুঁ সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দূরে কর কৈতব ভ্রমর তিয়াস॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজ জনে কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৪০০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
শ্রীমতীর উক্তি।
॥ বরাড়ী - জপতাল॥

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লুঁ সরবস নিরমল কূল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দূরে কর কৈতব ভ্রমর-তিয়াস॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজ জনে কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৭০--পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ বরাড়ী॥


শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥ ধ্রু॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লুঁ সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দুরে কর কৈতব ভ্রমর-তিয়াস॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজ জনে কাহে এত অপমান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন মাধব না বোলহ আর।
কী ফল আছয়ে এত পরিহার॥
পাওলুঁ তুয়া সঞে প্রেমক মূল।
খোয়লুঁ সরবস নিরমল কুল॥
পুন কিয়ে আছয়ে তুয়া অভিলাষ।
দুরে কর কৈতব ভ্রমর তিয়াস॥
অলপে বুঝলুঁ হাম তুয়াক পিরীত।
নামহি যৈছে অন্তরে সোই রীত॥
কাহে দেয়সি তুহুঁ আপন দীব।
আছয়ে জীবন সেহ কিয়ে নীব॥
জ্ঞানদাস কহ কর অবধান।
তুয়া নিজ জনে কাহে এত অপমান॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^