কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সখী সঙ্গে চলে ধনি বিনোদিনী রাই
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৪৬২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ বেহাগ - ছোট ডাঁশপাহিড়া॥

সখী সঙ্গে চলে ধনি বিনোদিনী রাই।
পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছাই॥
সখী কাঁধে হাত দিয়া অঙ্গ হেলাইয়া।
বৃন্দাবনে প্রবেশিল শ্যাম জয় দিয়া॥
নূপুরের রুণু ঝুনু পড়ি গেল সাড়া।
নাগর উঠিয়া বলে রাই এলো পারা॥
দুহুঁ দোহাঁ দরশনে উপজিল প্রেম।
দারিদ্র্য পাইল যেন ঘট ভরা হেম॥
এস এস বিনোদিনী রসময়ী রাধা।
দরশনে দূরে গেল মনসিজ বাধা॥
তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।
তোমা বিনে দশদিগ হেরি আঁধিয়ারা॥
তুমি মোর জপ তপ তুমি মোর ধ্যান।
তুমি মোর মন্ত্র তন্ত্র তুমি হরি নাম॥
তোমার লাগিয়া আমি বৃন্দাবন করিলাম।
গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম॥
চৌরাশি ক্রোশ এই বৃন্দাবনের সীমা।
যত কিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা॥
জানে সব ব্রজ জন জানে ব্রজাঙ্গনা।
সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা॥
করে ধরি রাই লয়ে বসাইল বামে।
পীতবাসে মুছই রাই-মুখ-ঘামে॥
নিজ কর-কমলে চরণ-ধূলি ঝাড়ে।
ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতার আড়ে॥
পন্থ কি দুঃখ পুছত বর কান।
আনন্দে নিমগন কিছুই না জান॥
শ্যাম বামে বৈঠল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে দোঁহার চরণ মাধুরী॥

এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৫১২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ তিরোথা ধানশী - আড়া মধ্যম একতালা॥

সখী সঙ্গে চলে ধনি বিনোদিনী রাই।
পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছাই॥
চলিতে না পারে ধনি নিতম্বেরি ভরে।
সখীর নিকটে পুছে কুঞ্জ কত দূরে॥
ক্ষণহি সময়ে ধনি বৃন্দাবনে আইলা।
মাধবী তরুর তলে শ্যামেরে দেখিলা।
আইস আইস মোর বিনোদিনী রাধা।
দরশনে দূরে গেল মনসিজ-বাধা॥
তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।
তোমা বিনে দশদিগ হেরি আন্ধিয়ারা॥
তুমি মোর জপতপ তুমি মোর ধ্যান।
তুমি মোর মন্ত্র তন্ত্র তুমি হরিনাম॥
তোমার লাগিয়া বৃন্দাবন করিলাম।
গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম॥
চৌরাশি ক্রোশ এহি বৃন্দাবনের সীমা।
যত কিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা॥
জানে সব ব্রজজন জানে ব্রজাঙ্গনা।
সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা॥
নিজ পীত বাসে শ্যাম চরণ ধূলি ঝাড়ে।
ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতার আড়ে॥
শ্যাম-কোরে মিলল রসের মুঞ্জরী।
জ্ঞান দাস মাগে রাঙ্গা চরণ-মাধুরী॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৬৬ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সঙ্গে চলে ধনি বিনোদিনী রাই।
পদ আধ চলে আর পড়ে মুরছাই॥
চলিতে না পারে ধনি নিতম্বেরি ভরে।
সখীর নিকটে পুছে কুঞ্জ কত দূরে॥
ক্ষণহি সময়ে ধনি বৃন্দাবনে আইলা।
মাধবী তরুর তলে শ্যামেরে দেখিলা।
আইস আইস মোর বিনোদিনী রাধা।
দরশনে দূরে গেল মনসিজ বাধা॥
তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।
তোমাবিনে দশদিগ হেরি আন্ধিয়ারা॥
তুমি মোর জপতপ তুমি মোর ধ্যান।
তুমি মোর মন্ত্র তন্ত্র তুমি হরিনাম॥
তোমার লাগিয়া বৃন্দাবন করিলাম।
গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম॥
চৌরাশি ক্রোশ এহি বৃন্দাবনের সীমা।
যত কিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা॥
জানে সব ব্রজজন জানে ব্রজঙ্গনা।
সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা॥
নিজ পীত বাসে শ্যাম চরণ ধুলি ঝাড়ে।
ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতার আড়ে॥
শ্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।
জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী॥

টীকা ---
চৌরাশি ক্রোশ এহি বৃন্দাবনের সীমা --- ব্রজমণ্ডল ৮৪ ক্রোশ ব্যাপী
তব মন্ত্রে আমি উপাসনা --- তোমার নাম মন্ত্ররূপে জপ করিয়া আমি উপাসনা করি।

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^