কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
একা কুম্ভ কাখে করি যমুনাতে জল ভরি
একা কুম্ভ কাঁখে করি যমুনাতে জল ভরি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একা কুম্ভ কাখে করি     যমুনাতে জল ভরি
জলের ভিতর শ্যাম রায়।
ফুলের চূড়াটি মাথে     মোহন মুরলী হাতে
পুন কানু জলেতে মিশায়॥
অনেক প্রবন্ধ করি     ধরিবারে চাই হরি
ধীরে ধীরে কর বাড়াইনু।
কর বাড়াইয়া যাই     আর না দেখিতে পাই
আকুল হইয়া জলেতে ডুবিনু॥
ঢেউ মোর হৈল কাল     না পাইলাম নন্দলাল
উঠিলাম যমুনার নীরে।
না দেখি বন্ধুর মুখ     হইল বিষম দুখ
কাঁদিতে কাঁদিতে আইলু ঘরে॥
জ্ঞানদাসের বাণী     শুন রাধা বিনোদিনী
মিছা কেন ডুবেছিলে জলে।
বুঝিতে নারিলে মায়া     জলে ছিল অঙ্গ ছায়া
শ্যাম ছিল কদম্বের ডালে॥

টীকা ---
কবি শেষের চরণে পদের ভাবার্থ বলিয়া দিয়াছেন, শ্রীকৃষ্ণ কদম্বের শাখায় বসিয়া ছিলেন, যমুনার জলে তাঁহার ছায়া পড়িয়াছিল, উহাই দেখিয়া রাধা ভাবিয়াছিলেন বুঝি জলের ভিতর শ্যাম আছেন।
ঢেউ মোর হইল কাল --- জলে ঢেউ উঠায় শ্রীকৃষ্ণের ছায়া মিলাইয়া গেল, তাই রাধা ঢেউকে দোষ দিতেছেন।

এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৭০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ খণ্ড
॥ সুহই - ছোট দশকুসী॥

একা কুম্ভ কাঁখে করি     যমুনাতে জল ভরি
জলের ভিতরে শ্যামরায়।
ফুলের চূড়াটি মাথে,     মোহন মুরলী হাতে
পুন কানু জলেতে মিলায়॥
অনেক প্রবন্ধ করি     ধরিবারে চাই হরি
ধীরে ধীরে কর বাড়াইনু।
কর বাড়াইয়া যাই     আর না দেখিতে পাই
আকুল হৈয়া জলেতে ডুবিনু॥
ঢেউ মোর হৈল কাল     না পাইলাম নন্দলাল
উঠিলাম যমুনার নীরে।
না দেখি বন্ধুর মুখ,     হইল বিষম দুখ,
কান্দিতে কান্দিতে আইনু ঘরে॥
জ্ঞানদাসের বাণী     শুন রাধা বিনোদিনী
মিছা কেন ডুবিছিলে জলে।
বুঝিতে নারিলে মায়া     জলে ছিল অঙ্গ ছায়া
শ্যাম ছিল কদম্বের ডালে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^