কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কানু সে জীবন ধন মোর
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ ধানশী॥

কানু সে জীবন ধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,     ঘরে যাই কূল রাখি,
শ্যাম রসে হইয়াছি বিভোর॥ ধ্রূ।
গুরু গরবিত ঘরে,     যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,     শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,     সতী কুলবতী নাম,
সব @ হরি নিল শ্যাম রায়।
কহত পরাণ সখি,     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ লাগে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,     এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন পসার।
জ্ঞানদাস কহে,     যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

@ - সব - গ্রন্থে "সর" ছাপা রয়েছে।

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ তুড়ি॥

কানু সে জীবন ধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,
ঘরে যাই কূল রাখি,
শ্যাম রসে হইয়াছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে,
যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,
শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,
সতী কুলবতী নাম,
সব হরি নিল শ্যাম রায়।
কহত পরাণ সখি,
অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ লাগে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,
এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন পসার।
জ্ঞানদাস কহে,
যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ ধানশী॥

কানু সে জীবন ধন মোর। তোমরা
যতেক সখী, ঘরে যাই কূল রাখি, শ্যাম
রসে হইয়াছি বিভোর॥ গুরু গরবিত ঘরে,
যে বলু সে বলু মোরে, ছাড়ে ছাড়ুক গৃহ-
পতি। সকল ছাড়িয়া মুঞি, শরণ লইনু
গো, কি করিব ঘরের বসতি॥ যত ছিল
অভিমান, সতী কুলবতী নাম, সব হরি
নিল শ্যাম রায়। কহত পরাণ সখি, অঙ্গেতে
অঞ্জন মাখি, আন রঙ্গ লাগে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন, এ তিন অমূল্য ধন, সাজা-
ইয়া রতন পসার। জ্ঞানদাস কহে, যে ধনী
এমনি হয়ে, ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ ধানশী॥

কানু সে জীবনধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,     ঘরে যাই কূল রাখি,
শ্যাম-রসে হইয়াছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে,     যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,     শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,     সতী কুলবতী নাম,
সব হরি নিল শ্যামরায়।
কহত পরাণ-সখি,     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ লাগে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,     এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন-পসার।
জ্ঞানদাস কহে,     যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানু সে জীবন ধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,     ঘরে যাই কুল রাখি,
শ্যাম রসে হয়্যাছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে,     যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,     শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,     সতী কুলবতী নাম,
সব হরি নিল শ্যাম রায়।
কহত পরাণ সখি,     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ লাগে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,     এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন পাথার।
জ্ঞানদাস কহে,     যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

টীকা ---
ঘরে যাই কুল রাখি --- তোমরা ঘরে যাইয়া কুল রাখ (আমার দ্বারা ঐ কাজ হইবে না), কেননা আমি শ্যামের প্রেমে আত্মহারা হইয়াছি।
অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি --- কাল রং বলিয়া অঞ্জন আমি গায়ে মাখিতেও প্রস্তুত, অন্য কোন রং আমার পছন্দ হয় না।
ধনি ধনি সোহাগ তাহার --- তাহার প্রেম খণ্ড খণ্ড।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ ধানশী॥

কানু সে জীবনধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,     ঘরে যাই কুল রাখি,
শ্যাম-রসে হইয়াছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে,     যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,     শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,     সতী কুলবতী নাম,
সব হরি নিল শ্যামরায়।
কহত পরাণ-সখি,     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ জানে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,     এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন-পসার।
জ্ঞানদাস কহে,     যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ (সখী সম্বোধনে), ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানু সে জীবনধন মোর।
তোমরা যতেক সখী,     ঘরে যাই কুল রাখি,
শ্যাম-রসে হইয়াছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে,     যে বলু সে বলু মোরে,
ছাড়ে ছাড়ুক গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি,     শরণ লইনু গো,
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান,     সতী কুলবতী নাম,
সব হরি নিল শ্যামরায়।
কহ ত পরাণ-সখি,     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি,
আন রঙ্গ লালে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন,     এ তিন অমূল্য ধন,
সাজাইয়া রতন পসার।
জ্ঞানদাস কহে,     যে ধনী এমনি হয়ে,
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রূপানুরাগ, ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানু সে জীবন ধন মোর।
তোমরা যতেক সখী     ঘরে যাই কুল রাখি
শ্যাম রসে হৈয়াছি বিভোর॥
গুরু গরবিত ঘরে     যে বলু সে বলু মোরে
ছাড়ে ছাড়ুক মোয় গৃহপতি।
সকল ছাড়িয়া মুঞি     শরণ লইলুঁ গো
কি করিব ঘরের বসতি॥
যত ছিল অভিমান     সতী কুলবতী নাম
সব হরি নিল শ্যাম রায়।
কহত পরাণ সখি     অঙ্গেতে অঞ্জন মাখি
আন রঙ্গ লালে নাহি তায়॥
রূপ গুণ যৌবন     এ তিন অমূল্য ধন
সাজাইয়া রতন পসার।
জ্ঞানদাস কহে     যে ধনি এমনি হয়ে
ধনি ধনি সোহাগ তাহার॥

*********************