কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কিবা রূপে কিবা গুণে মোর মন বান্ধে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতাক কবি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি গ্রন্থের, ৪র্থ ক্ষণদা---কৃষ্ণা চতুর্থী, ২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাহ
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রূপে কিবা গুণে মোর মন বান্ধে।
মুখেতে না ফুরে বাণী দুটী আঁখি কান্দে॥
মনের মরম-কথা শুন গো সজনি।
শ্যাম-বন্ধু পড়ে মনে দিবস রজনী॥
কোন্ বিহি সিরজিল কুলবতী বালা।
কেবা নাহি করে প্রেম কার এত জ্বালা॥
চিতের আগুনি কত চিতে নিবারিব।
না যায় কঠিন প্রাণ কারে কি বলিব॥
ঘর হৈতে বাহির বাহির হৈতে ঘর।
দেখিবারে করি সাধ নহি স্বতন্তর॥
জ্ঞানদাস বলে সখি সেই সে করিব।
কানুর পিরীতি লাগি সাগরে মরিব॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে

কিবা রূপে কিবা গুণে মোর মন বান্ধে।
মুখেতে না ফুরে বাণী দুটি আঁখি কান্দে॥
মনের মরম কথা শুন গো সজনি।
শ্যাম-বন্ধু পড়ে মনে দিবস রজনী॥
কেন বিহি সিরজিল কুলবতী বালা।
কেবা নাহি করে প্রেম কার এত জ্বালা॥
চিতের আগুনি কত চিতে নিবারিব।
না যায় কঠিন প্রাণ কারে কি বলিব॥
(ঘর হৈতে বাহির বাহির হৈতে ঘর।
দেখিবারে করি সাধ নহি স্বতন্তর॥)
জ্ঞানদাস বলে সখি সেই সে করিব।
কানুর পিরীতি লাগি সাগরে মরিব॥

টীকা ---
কিবা রূপে কিবা গুণে ইত্যাদি --- তাহার রূপও যেমন গুণও তেমন। রূপ ও গুণ আমার মন সে বাঁধিয়াছে (শুধু টানে নাই) তাহার রূপ গুণের কথা বলিবার মতন ভাষা নাই। তাই মুখেতে কথা নাই, অথচ অনুরাগের প্রাবল্যে চোখ বাহিয়া শুধু জল পড়ে।
বিহি সিরজিল --- বিধাতা সৃজন করিল।

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৭১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ খণ্ড
॥ তিরোথা ধানসী - মধ্যম একতালা॥

কিবা রূপে, কিবা গুণে মোর মন বান্ধে,
মুখেতে না সরে বাণি, দুটি আঁখি কান্দে।
মনের মরম-কথা, শুন গো সজনি,
শ্যাম বন্ধু পড়ে মনে, দিবস রজনি।
কোন বিহি সিরজিল কুলবতী বালা?
কেবা নাহি করে প্রেম, কার এত জ্বালা?
চিতের আগুনি কত, চিতে নিবারিব,
না যায় কঠিন প্রাণ, কারে কি বলিব!
ঘর হৈতে বাহির, বাহির হৈতে ঘর
দেখিবারে করি সাধ, নহি স্বতন্তর।
জ্ঞানদাস বলে, সখি! সেই সে করিব,
কানুর পীরিতি লাগি, সাগরে মরিব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রূপে কিবা গুণে মন মোর বান্ধে।
মুখে না নিঃসরে বাণী দুটি আঁখি কান্দে॥
মনের মরম কথা শুনলো সজনি।
শ্যাম বন্ধু পড়ে মনে দিবস রজনী॥ ধ্রু॥
চিতের আগুন কত চিতে নিবারিত।
না যায় কঠিন প্রাণ কারে কি বলিব॥
কোন্ বিধি সিরজিল কুলবতী বালা।
কেবা নাহি করে প্রেম কার এত জ্বালা ॥
জ্ঞানদাস বলে মুঞি কারে কি বলিব।
কানুর পিরীতি লাগি যমুনা পশিব॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রূপে কিবা গুণে মন মোর বান্ধে।
মুখে না নিঃসরে বাণী দুটি আঁখি কান্দে॥
মনের মরম কথা শুনলো সজনি।
শ্যাম বন্ধু পড়ে মনে দিবস রজনী॥ ধ্রু॥
চিতের আগুন কত চিতে নিবারিব।
না যায় কঠিন প্রাণ কারে কি বলিব॥
কোন্ বিধি সিরজিল কুলবতী বালা।
কেবা নাহি করে প্রেম কার এত জ্বালা ॥
জ্ঞানদাস বলে মুঞি কারে কি বলিব।
কানুর পিরিতি লাগি যমুনা পশিব॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিবা রূপে কিবা গুণে মন মোর বান্ধে।
মুখে না নিঃসরে বাণী দুটি আঁখি কান্দে॥
মনের মরম কথা শুনলো সজনি।
শ্যাম বন্ধু পড়ে মনে দিবস রজনী॥
চিতের আগুন কত চিতে নিবারিব।
না যায় কঠিন প্রাণ কারে কি বলিব॥
কোন্ বিধি সিরজিল কুলবতী বালা।
কেবা নাহি করে প্রেম কার এত জ্বালা॥
জ্ঞানদাস বলে মুঞি কারে কি বলিব।
কানুর পিরীতি লাগি যমুনা পশিব॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^