কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
আনের পরাণ বন্ধু আনের অন্তরে থাকে
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আনের পরাণ বন্ধু, আনের অন্তরে থাকে,
আমার পরাণ তুমি।
তিল আধ না দেখিলে, ও চান্দ বদন,
মরমে মরিয়ে আমি॥
মণি নও মানিক নও, গলায় বাঁধিয়া থোব,
ফুল নও চূড়ার করি বেশ।
নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি,
লইয়া ফিরিতু দেশ দেশ॥
যথাকারে যাবে তুমি, তথাকারে যাব আমি,
ছাড়িয়া না দিব এক পা।
বাজন নূপুর হয়্যা, চরণে বাজিব গিয়া,
যাও দেখি কোথাকারে যাও॥
[তোমার সোহাগে, সোহাগিনী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মন করপে, দুখানি চরণ,
সদা লয়্যা থাকি বুকে॥]
জ্ঞানদাস কয়, তোমার পিরিতি,
কহিতে পরাণ ফাটে।
শঙ্খ বণিকের করাত পিরিতে,
আসিতে যাইতে কাটে॥
আমার পরাণ তুমি।
তিল আধ না দেখিলে, ও চান্দ বদন,
মরমে মরিয়ে আমি॥
মণি নও মানিক নও, গলায় বাঁধিয়া থোব,
ফুল নও চূড়ার করি বেশ।
নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি,
লইয়া ফিরিতু দেশ দেশ॥
যথাকারে যাবে তুমি, তথাকারে যাব আমি,
ছাড়িয়া না দিব এক পা।
বাজন নূপুর হয়্যা, চরণে বাজিব গিয়া,
যাও দেখি কোথাকারে যাও॥
[তোমার সোহাগে, সোহাগিনী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মন করপে, দুখানি চরণ,
সদা লয়্যা থাকি বুকে॥]
জ্ঞানদাস কয়, তোমার পিরিতি,
কহিতে পরাণ ফাটে।
শঙ্খ বণিকের করাত পিরিতে,
আসিতে যাইতে কাটে॥
টীকা ---
... বন্ধনীর ভিতরকার দুইটি চরণ জ্ঞানদাসের অন্য একটি পদের আদিতে আছে। ঐ পদের দ্বিতীয় কলিতে পাই---
অন্যের আছয়ে অনেক জন আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে শত শত গুণে প্রিয়তম করি মানি॥
ইহার চেয়েও এই পদের প্রথম চরণটি বেশী জোরালো। অন্যের পরাণ বন্ধু অন্যের হৃদয়ে থাকে, তাহাদের হৃদয়ের সঙ্গে পরাণ বন্ধু অভিন্ন নহে, কিন্তু আমার তুমিই প্রাণ, তুমি না থাকিলে আমার দেহে প্রাণ থাকে না।
রবীন্দ্রনাথের পদরত্নাবলীতে দীনুদাস (পুথি পড়ায় দোষে অথবা গায়কের অসাবধানতায় জ্ঞানদাস দীনুদাস হওয়া বিচিত্র নহে) ভনিতায় “এস হে এস হে বঁধু আধ আঁচরে বস” ইত্যাদি পদের মধ্যে আছে---
(মণি নও মানিক নও হার করে গলে পরি,
ফুল নও যে কেশের করি বেশ।
নারী না করিত বিধি তুয়া হেন গুণনিধি,
লইয়া ফিরিতাম দেশ দেশ॥)
বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তরেও এক ভনিতাহীন পদে এই কলিটি দেখা যায়।
*********************
... বন্ধনীর ভিতরকার দুইটি চরণ জ্ঞানদাসের অন্য একটি পদের আদিতে আছে। ঐ পদের দ্বিতীয় কলিতে পাই---
অন্যের আছয়ে অনেক জন আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে শত শত গুণে প্রিয়তম করি মানি॥
ইহার চেয়েও এই পদের প্রথম চরণটি বেশী জোরালো। অন্যের পরাণ বন্ধু অন্যের হৃদয়ে থাকে, তাহাদের হৃদয়ের সঙ্গে পরাণ বন্ধু অভিন্ন নহে, কিন্তু আমার তুমিই প্রাণ, তুমি না থাকিলে আমার দেহে প্রাণ থাকে না।
রবীন্দ্রনাথের পদরত্নাবলীতে দীনুদাস (পুথি পড়ায় দোষে অথবা গায়কের অসাবধানতায় জ্ঞানদাস দীনুদাস হওয়া বিচিত্র নহে) ভনিতায় “এস হে এস হে বঁধু আধ আঁচরে বস” ইত্যাদি পদের মধ্যে আছে---
(মণি নও মানিক নও হার করে গলে পরি,
ফুল নও যে কেশের করি বেশ।
নারী না করিত বিধি তুয়া হেন গুণনিধি,
লইয়া ফিরিতাম দেশ দেশ॥)
বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তরেও এক ভনিতাহীন পদে এই কলিটি দেখা যায়।
*********************
