কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
বঁধু তোমার গরবে গরবিনী আমি
বঁধু তোমার গরবে গরবিণী আমি
বঁধু তোমার গরবে গরবিনী হাম
বন্ধু তোমার গরবে গরবিনী আমি
তোমার গরবে গরবিনী আমি
তোমার গরবে গরবিনী হাম
তোমার গরবে গরবিনি হাম
তোঁহার গরবে গরবিনী হাম

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, গ্রন্থের ১০৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থটির আমাদের সংগ্রহের পি.ডি.এফ. কপিটির প্রায় সব পৃষ্ঠাই অপাঠ্য অথবা দুষ্পাঠ্য।

॥ যথারাগ॥ বন্ধু তোমার গরবে গরবিনী আমি রূপসী
তোমার রূপে। হেন মনে করি ওদুটি চরণ সদা লইয়া রাখি
বুকে॥ অন্যের আছয়ে অনেক জনা আমার কিবল তুমি।
পরাণ হইতে শত ২ গুণ প্রিয়তম করি মানি॥ নয়নের
অঞ্জন অঙ্গের ভূষণ তুমিসে কালিয়ে চাঁদা। জ্ঞানদাসে কয়
তোমারি পিরীতি অন্তরে ২ বান্ধা॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব সম্মিলন
॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে, গরবিনী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি,     ও দুটী চরণ,
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে,     অনেক জনা,
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে,     শত শত গুণে,
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন,     অঙ্গের ভূষণ,
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়,     তোমারি পিরীতি,
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব সম্মিলন।
॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে,     গরবিণী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি,     ও দুটী চরণ,
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে,     অনেক জনা,
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে,     শত শত গুণে,
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন,     অঙ্গের ভূষণ,
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়,     তোমারি পিরীতি,
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৮৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব সম্মিলন।
॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে, গরবিণী আমি,
রূপসী তোমার রূপে। হেন মনে করি, ও
দুটী চরণ, সদা লইয়া রাখি বুকে॥ অন্যের
আছয়ে, অনেক জনা, আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে, শত শত গুণে, প্রিয়তম করি
মানি॥ নয়নের অঞ্জন, অঙ্গের ভূষণ, তুমি
সে কালিয়া চান্দা। জ্ঞানদাসে কয়, তোমারি
পিরীতি, অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব-সম্মিলন
॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে,     গরবিণী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি,     ও দুটী চরণ,
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে,     অনেক জনা,
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে,     শত শত গুণে,
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন,     অঙ্গের ভূষণ,
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়,     তোমারি পিরীতি,
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৫৯৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
॥ শ্রীরাগ - পিয়ারী তাল॥

বঁধু তোমার গরবে     গরবিনী হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়     ও দুটি চরণ
সদা নিয়ে রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমারি কেবল তুমি।
(আমার) পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
(বঁধু) শিশুকাল হইতে     মায়ের সোহাগে
সোহাগিনী বড় আমি।
সখীগণ মোর     জীবন অধিক
পরাণ বঁধুয়া তুমি॥
(আমার) নয়নের অঞ্জন     অঙ্গেরি ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চাঁদা।
জ্ঞান দাসে কহে     কালিয়া পিরীতি
অন্তরে অন্তরে অন্তরে বাঁধা॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৭৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বঁধু তোমার গরবে     গরবিনী আমি
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটি চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়     তোমারি পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

টীকা---
রবীন্দ্রনাথ “রবিবার” ( ১৩৪৬ সালের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ) গল্পে এই পদের প্রথম কলিটি ব্যবহার করিয়েছেন। বিভা তাহার সহধ্যায়ী অভীকের চেয়ে পরীক্ষায় ভাল করায় সে অভীককে বলিল --- “তুমি দিনরাত কেবল ছবি এঁকে পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়, আমার লজ্জা করে”। কথাটা দৈবাৎ পাশের বারান্দা থেকে কানে যেতেই বিভার এক সখী চোখ টিপে বলেছিল ---
    মরি মরি, তোমারি গরবে গরবিনী আমি
            রূপসী তোমারি রূপে।
কোন প্রাচীন সঙ্কলনে এই পদটি ধৃত না হইলেও রবীন্দ্রনাথ ইহার সহিত পরিচিত ছিলেন, ইহা লক্ষ্য করিবার বিষয়।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব-সম্মিলন।
॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে     গরবিণী আমি
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটী চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শতগুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়     তোমারি পিরীতি
অন্তর অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, উভয়োত্তরানুরাগঃ, ৪৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[বন্ধু]

তোঁহার গরবে     গরবিনী হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটী চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুঁহি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়ন অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়     তোঁহারি পিরীতি
অন্তর অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, নিবেদন, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বঁধু, তোমার গরবে     গরবিনী আমি
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটি চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়     তোমার পিরীতি
অন্তর অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বঁধু, তোমার গরবে     গরবিনী হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়ে     ও দুটি চরণ
সদা নিয়ে রাখি বুকে॥

আনের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
আমার পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥

বঁধু, শিশুকাল হইতে     মায়ের সোহাগে
সোহাগিনী বড় আমি।
সখীগণ মানে     জীবন-অধিক,
পরাণ-বঁধুয়া তুমি॥

আমার নয়নের অঞ্জন     অঙ্গেরি ভূষণ
তুমি সে কালিয়া-চাঁদা।
জ্ঞানদাসে কহে---     কালিয়া পিরীতি
আমার অন্তর অন্তরে বাঁধা॥

ই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ২১৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা ও নিবেদন
॥ যথারাগ॥

তোমার গরবে     গরবিনী হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়     ও দুটী চরণ
সদা লয়্যা রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণ
প্রিয়তম বলি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চাঁদা।
জ্ঞান দাস কহে     কালিয়া পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বাঁধা॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, মিলন, ২৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বঁধু তোমার গরবে,     গরবিণী আমি,
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি,     ও দুটী চরণ,
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে,     অনেক জনা,
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে,     শত শত গুণে,
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন,     অঙ্গের ভূষণ,
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়,     তোমারি পিরীতি,
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আত্ম-নিবেদন
॥ শ্রীরাগ॥

তোমার গরবে     গরবিনি হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়     ও দুটি চরণ
সদা লয়্যা রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জন
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
শিশুকাল হৈতে     মায়ের সোহাগে
সোহাগিনী বড় আমি।
সখীগণ গণে     জীবন অধিক
পরাণ বঁধুয়া তুমি॥
নয়ন-অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাস কহে     কালার পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৮৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন

বঁধু, তোমার গরবে     গরবিণী আমি
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটি চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাস কহে     তোমার পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আত্ম-নিবেদন
॥ শ্রীরাগ॥

তোমার গরবে   গরবিনি হাম   রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়   ও দুটি চরণ   সদা লয়্যা রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে   অনেক জন   আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে   শত শত গুণে   প্রিয়তম করি মানি॥
শিশুকাল হৈতে   মায়ের সোহাগে   সোহাগিনী বড় আমি।
সখীগণ গণে   জীবন অধিক   পরাণ বঁধুয়া তুমি॥
নয়ন-অঞ্জন   অঙ্গের ভূষণ   তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাস কহে   কালার পিরিতি   অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ১৬৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমার গরবে     গরবিনী হাম
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয়     ও দুটি চরণ
সদা লয়্যা রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জন
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
শিশুকাল হৈতে     মায়ের সোহাগে
সোহাগিনী বড়ো আমি।
সখীগণ গণে     জীবন অধিক
পরাণ বঁধুয়া তুমি॥
নয়ন অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কহে     কালার পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাবোল্লাস ও নিবেদন

বঁধু তোমার গরবে     গরবিনী আমি
রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে করি     ও দুটি চরণ
সদা লইয়া রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে     অনেক জনা
আমার কেবল তুমি।
পরাণ হইতে     শত শত গুণে
প্রিয়তম করি মানি॥
নয়নের অঞ্জন     অঙ্গের ভূষণ
তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কয়     তোমারি পিরীতি
অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমার গরবে গরবিনি হাম
        রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয় ও দুটি চরণ
        সদা লয়্যা রাখি বুকে॥
অন্যের আছয়ে অনেক জন
        আমার কেবলি তুমি।
পরাণ হইতে শত শত গুণে
        প্রিয়তম করি মানি॥
শিশুকাল হৈতে মায়ের সোহাগে
        সোহাগিনী বড় আমি।
সখীগণ গণে জীবন অধিক
        পরাণ বঁধুয়া তুমি॥
নয়ন অঞ্জন অঙ্গের ভূষণ
        তুমি সে কালিয়া চান্দা।
জ্ঞানদাসে কহে কালার পিরীতি
        অন্তরে অন্তরে বান্ধা॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^