কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---সখী সম্বোধনে
॥ করুণ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥ ধ্রু।
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥ সই
কহিনু নিদান। প্রেমের পরাণ সহে এতেক
অপমান॥ যারে দিনু তনু মন কুল শীল
জাতি। অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥ গুরুয়া
পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে। অধিক পুড়িল
অঙ্গ বাড়বা অনলে॥ না জানি পিরীতি
বিরিখে হেন ফল। জ্ঞানদাস শুনিয়া
হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ কল্যাণ॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই, কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥ ধ্রু
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা-অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৮৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিনু বড় লেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিল নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপজান॥ ধ্রু॥
যারে দিনু তনুমন কুলশীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাপল কূপে পড়ল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাপল সিন্ধু জলে।
পুড়িল অঙ্গ বড়বানলে॥
না জানি পীরিতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুদ্ধিবল॥
টীকা ---
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা ইত্যাদি --- আমার মনে যত অভিলাষ ছিল তাহার কিছুই পূর্ণ হইল না। শুধু পৃথিবীতে কলঙ্কই প্রচার হইল।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি --- বড় অখ্যাতিকেই আমার দেহের অলঙ্কার করিলাম।
ঝাপল কূপে পড়ল বনচর--- বনের পশু যেন তৃণগুল্ম দিয়া আবৃত কূপের মধ্যে পড়িল।
গুরুরা পিয়াসে ইত্যাদি --- অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত্ত হইয়া সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিলাম, সেখানে কিন্তু বাড়বানল জ্বলিতেছে বলিয়া আমার দেহ পুড়িয়া গেল। প্রেম যে এমন বিষফল তাহা তো জানিতাম না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ কল্যাণ॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ-ঘোষণা॥
সই, কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধুজলে।
অধিক পূড়িল অঙ্গ বাড়বা-অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ করুণ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিলুঁ তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পূড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ সিন্ধুড়া॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলু বড় নেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥ ধ্রু॥
যারে দিলুঁ তনুমন কুলশীলজাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ি গেল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিলুঁ সিন্ধুজলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বঅনলে॥
না জানি পিরীতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনি হারাইল বুধিবল॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সিন্ধুড়া॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা। ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলু বড় নেহ। আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিল নিদান। প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥ ধ্রু।
যারে দিল তনু-মন কুলশীল-জাতি। অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর। ঝাঁপল কূপে পড়ল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিল সিন্ধুজলে। অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়ব-অনলে॥
না জানি পিরিতি কিয়ে হেন বিষফল। জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধিবল॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যতেক আছিলা মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলুঁ বড় নেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥
যারে দিলুঁ তনুমন কুলশীলজাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ি গেল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিলুঁ সিন্ধুজলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বঅনলে॥
না জানি পিরীতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনি হারাইল বুধিবল॥
*********************
॥ করুণ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥ ধ্রু।
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥ সই
কহিনু নিদান। প্রেমের পরাণ সহে এতেক
অপমান॥ যারে দিনু তনু মন কুল শীল
জাতি। অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥ গুরুয়া
পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে। অধিক পুড়িল
অঙ্গ বাড়বা অনলে॥ না জানি পিরীতি
বিরিখে হেন ফল। জ্ঞানদাস শুনিয়া
হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ কল্যাণ॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই, কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥ ধ্রু
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বা-অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৮৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিনু বড় লেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিল নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপজান॥ ধ্রু॥
যারে দিনু তনুমন কুলশীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাপল কূপে পড়ল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাপল সিন্ধু জলে।
পুড়িল অঙ্গ বড়বানলে॥
না জানি পীরিতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুদ্ধিবল॥
টীকা ---
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা ইত্যাদি --- আমার মনে যত অভিলাষ ছিল তাহার কিছুই পূর্ণ হইল না। শুধু পৃথিবীতে কলঙ্কই প্রচার হইল।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি --- বড় অখ্যাতিকেই আমার দেহের অলঙ্কার করিলাম।
ঝাপল কূপে পড়ল বনচর--- বনের পশু যেন তৃণগুল্ম দিয়া আবৃত কূপের মধ্যে পড়িল।
গুরুরা পিয়াসে ইত্যাদি --- অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত্ত হইয়া সমুদ্রের জলে ঝাঁপ দিলাম, সেখানে কিন্তু বাড়বানল জ্বলিতেছে বলিয়া আমার দেহ পুড়িয়া গেল। প্রেম যে এমন বিষফল তাহা তো জানিতাম না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ কল্যাণ॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ-ঘোষণা॥
সই, কহিনু নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিনু তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈনু বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধুজলে।
অধিক পূড়িল অঙ্গ বাড়বা-অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ করুণ একতালি॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহল সভে অযশ ঘোষণা॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণ সহে এতেক অপমান॥
যারে দিলুঁ তনু মন কুল শীল জাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সে জন কি লাগি এবে করে ভিন পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ল নব চোর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপল সিন্ধু জলে।
অধিক পূড়িল অঙ্গ বাড়বা অনলে॥
না জানি পিরীতি বিরিখে হেন ফল।
জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধি বল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধনে
॥ সিন্ধুড়া॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলু বড় নেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥ ধ্রু॥
যারে দিলুঁ তনুমন কুলশীলজাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ি গেল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিলুঁ সিন্ধুজলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বঅনলে॥
না জানি পিরীতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনি হারাইল বুধিবল॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সিন্ধুড়া॥
যতেক আছিল মোর মনের বাসনা। ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলু বড় নেহ। আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিল নিদান। প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥ ধ্রু।
যারে দিল তনু-মন কুলশীল-জাতি। অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর। ঝাঁপল কূপে পড়ল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিল সিন্ধুজলে। অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়ব-অনলে॥
না জানি পিরিতি কিয়ে হেন বিষফল। জ্ঞানদাস শুনিয়া হারাইল বুধিবল॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৪৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
যতেক আছিলা মোর মনের বাসনা।
ভুবনে রহিল সবে অযশ ঘোষণা॥
বড় বলি কানুরে করিলুঁ বড় নেহ।
আছুক আনের কাজ জীবন সন্দেহ॥
সই কহিলুঁ নিদান।
প্রেমের পরাণে সহে এত কিয়ে জান॥
যারে দিলুঁ তনুমন কুলশীলজাতি।
অঙ্গের ভূষণ কৈলুঁ বড় অখেয়াতি॥
সেজনা কি লাগি এবে করে ভিনু পর।
ঝাঁপল কূপে পড়ি গেল বনচর॥
গুরুয়া পিয়াসে ঝাঁপ দিলুঁ সিন্ধুজলে।
অধিক পুড়িল অঙ্গ বাড়বঅনলে॥
না জানি পিরীতি কিয়ে হেন বিষফল।
জ্ঞানদাস শুনি হারাইল বুধিবল॥
*********************
