কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ২৪৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথানু রাগঃ॥
॥ প্রাচীন সিন্ধুড়া রাগ সমতালাভ্যাং॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ লাজ করিবারে নারি। তিলেক
বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ হিয়া বিদরিয়া মরি॥ শুন শুন
তোরে মরম কহি ও মোর পরাণ নাথে। ও রস পরসে উলস
গা দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু॥ গুরু গর বিত বোলে অবি-
রত সে মোর চন্দন চুয়া। সে রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ
তীল তুলসি দিয়া॥ আপন ইচ্ছায়ে বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল। এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিনাঞ্জলী @ দিল॥ সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারিয়ে বাসে। এমত পিরিতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞান দাসে॥
@ - তিনাঞ্জলি - তিলাঞ্জলী হবে। মুদ্রণপ্রমাদ।
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ প্রাচীন সিন্ধুড়া রাগ সমতালাভ্যাং॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ লাজ করিবারে নারি। তিলেক
বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ হিয়া বিদরিয়া মরি॥ শুন শুন
তোরে মরম কহি ও মোর পরাণ নাথে। ও রস পরসে উলস
গা দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু॥ গুরু গর বিত বোলে অবি-
রত সে মোর চন্দন চুয়া। সে রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ
তীল তুলসি দিয়া॥ আপন ইচ্ছায়ে বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল। এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিনাঞ্জলী @ দিল॥ সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারিয়ে বাসে। এমত পিরিতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞান দাসে॥
@ - তিনাঞ্জলি - তিলাঞ্জলী হবে। মুদ্রণপ্রমাদ।
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরসে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু।
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলী দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরসে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু।
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলী দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী সম্বোধন।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরসে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরসে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ, লাজ
করিবারে নারি। তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ
পরমাদ, হিয়া বিদরিয়া মরি॥ শুন শুন
তোরে, মরম কহিও মোর পরাণনাথে। ও
রস পরশে, উলস গা, দুকুল লিলু হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত, সে মোর
চন্দন চুয়া। সে রাঙ্গা চরণে, আপনা
বেচিলু, তিল তুলসী দিয়া॥ আপন ইচ্ছায়,
বাছিয়া লইলুঁ, যে মোর করমে ছিল। এ
বোল বলিতে, যে জন বিমুখ, তারে তিলা-
ঞ্জলী দিল॥ সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ
বিদরে, রহিতে নারি যে বাসে। এমত
পিরীতি, জগতে নাহিক, কহই এ জ্ঞান-
দাসে॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
সখী-সম্বোধন।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ, লাজ
করিবারে নারি। তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ
পরমাদ, হিয়া বিদরিয়া মরি॥ শুন শুন
তোরে, মরম কহিও মোর পরাণনাথে। ও
রস পরশে, উলস গা, দুকুল লিলু হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত, সে মোর
চন্দন চুয়া। সে রাঙ্গা চরণে, আপনা
বেচিলু, তিল তুলসী দিয়া॥ আপন ইচ্ছায়,
বাছিয়া লইলুঁ, যে মোর করমে ছিল। এ
বোল বলিতে, যে জন বিমুখ, তারে তিলা-
ঞ্জলী দিল॥ সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ
বিদরে, রহিতে নারি যে বাসে। এমত
পিরীতি, জগতে নাহিক, কহই এ জ্ঞান-
দাসে॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলুঁ,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, অনুরাগ ও আক্ষেপানুরাগ, ১৮৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে মরম কহি
ও মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরশে উলসল গা
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু॥
গুরু গরবিত বোলে অবিরত
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ
তিল তুলসি দিয়া॥
(আপন ইচ্ছায়ে বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥)
সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারিয়ে বাসে।
এমন পিরিতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে মরম কহি
ও মোর পরাণ নাথে।
ও রস পরশে উলসল গা
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥ ধ্রু॥
গুরু গরবিত বোলে অবিরত
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ
তিল তুলসি দিয়া॥
(আপন ইচ্ছায়ে বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥)
সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারিয়ে বাসে।
এমন পিরিতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
@@ - শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার এই পদটির পাঠান্তরের (৬)-এ লিখেছেন . . .
বন্ধনীর ভিতরকার অংশ “তরু”তে নাই। ইহার পরিবর্ত্তে আছে---
কি আর বুঝাও কুলের ধরম মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ জনি কার পাছে হয়
ইহার পর অতিরিক্ত এক কলি---
কি আর বুঝাও কুলের ধরম মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ জনি কার পাছে হয়
ইহার পর অতিরিক্ত এক কলি---
কানু সে জীবন, জাতি প্রাণ ধন
এ দুটি নয়ানের তারা।
পরাণ অধিক নয়ান পুতুলি
তিলেক বাসিয়ে হারা॥
এ দুটি নয়ানের তারা।
পরাণ অধিক নয়ান পুতুলি
তিলেক বাসিয়ে হারা॥
এই কলিটি তরুর ৮৯৮ পদের প্রথম কলি। ক তে ভনিতাহীন তরুর পাঠ দিয়া কোন এক পুথি হইতে জ্ঞানদাস ভনিতা দেওয়া হইয়াছে---
গঞ্জে গুরুজন, বলু কুবচন,
সে মোর চন্দন চুয়া।
জ্ঞানদাস কহে, এ অঙ্গ বেচ্যাছি,
তীল তুলসী দিয়া॥
সে মোর চন্দন চুয়া।
জ্ঞানদাস কহে, এ অঙ্গ বেচ্যাছি,
তীল তুলসী দিয়া॥
(((এখানে তাঁর গ্রন্থে পদকল্পতরুর উক্ত পদটির সংখ্যা ৪৮৭ দেয়া রয়েছে যা সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদের জন্য হয়েছে। শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর উপরোক্ত ভনিতাহীন পদটির সঠিক সংখ্যা ৮৪৭ হবে, পদকল্পতরু ১ম খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, পৃষ্ঠা-১৩৫। পদটি শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে পুনরায় ভনিতাহীন পদ হিসেবে ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, পৃষ্ঠা-১৭১ এ দেওয়া রয়েছে। এখানে সতীশচন্দ্র রায় মহাশয় পাঠান্তরে লিখেছেন. . .
১। - এই পদটি ৮৪৭ সংখ্যক পদরূপে ইতি-পূর্ব্বে উদ্ধৃত হইয়াছে বলিয়া এ স্থলে পুনরায় সমপূর্ণ লিখিত হইল না ; এই পদের অবশিষ্ট অংশ ও পাঠান্তর উক্ত পদে দ্রষ্টব্য।
আমরা এই পদটি নীচে সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥)))
টীকা ---
আমার এ ঘরদুয়ারে কি প্রয়োজন ? আমার এখন এমন দশা হইয়াছে যে লজ্জা করিতেও পারি না। বন্ধুর সহিত যদি এক তিলের জন্যও বিচ্ছেদ ঘটে তাহা হইলে মনে হয় যেন লক্ষ বিপদ আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে এবং হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যাইতেছে। সখি ! শোন শোন তোমাকে আমার মরমের কথা বলি---ওই আমার পরাণের নাথ। উহার প্রেমরসের স্পর্শে আমার দেহ পুলকিত ( উলস গা ) হয়, তাই আমি দুইকুল হাতদিয়া ঠেলিয়া ফেলিলাম। গুরুজনে আমাকে দিনরাত্রি বকেন, সে বকুনি আমার চন্দন ও চুয়াতুল্য অলঙ্কার বলিয়া মনে হয়। আমি তিল এবং তুলসী দিয়া নিজেকে ঐ রাঙ্গা চরণে বেচিয়া দিয়া তাঁহার ক্রীতদাসী হইয়াছি। আমার কর্মে যাহা ছিল তাহা আমি স্ব ইচ্ছায় বাছিয়া লইলাম। ইহাতে যাহার আপত্তি আছে তাহাকে আমি তিলাঞ্জলি দিয়া বিসর্জ্জন দিলাম। দয়িতের ঐ মুখ না দেথিলে আমার বুক ফাটিয়া যায়---- আমি আর ঘরে থাকিতে পারি না। জ্ঞানদাস বলেন এমন প্রেম জগতে নাই।
মন্তব্য --- ডাঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত চণ্ডীদাস পদাবলীতে ( পৃঃ ১১০ ) এটি চণ্ডীদাসের ভনিতার ধরা হইয়াছে। তাঁহারা বলিয়াছেন যে ভনিতাটি পদরত্নাকরে পাওয়া গিয়াছে, কিন্তু সতীশচন্দ্র রায় মহাশয় তন্ন তন্ন করিয়া পদরত্নাকর পুথি দেখিলেও, চণ্ডীদাস ভনিতায় এই পদ পান নাই। তিনি বলিয়াছেন যে ভনিতাহীন এই পদটি পদরত্নাকরের ১৪/২১ সংখ্যক পদ। সুতরাং বলা চলে না যে পদ-রত্নাকরের এই পদটি তাঁহার দৃষ্টি এড়াইয়া গিয়াছে। হরেকৃষ্ণবাবু জ্ঞানদাসের পদাবলীতে কোনরূপ মন্তব্য না করিয়া এটি জ্ঞানদাস ভনিতা দিয়া ছাপাইয়াছেন।
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর উপরোক্ত ভনিতাহীন পদটির সঠিক সংখ্যা ৮৪৭ হবে, (পদকল্পতরু ১ম খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, পৃষ্ঠা-১৩৫)। আমরা এই ভনিতাহীন পদটি নীচে সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥)।
১। - এই পদটি ৮৪৭ সংখ্যক পদরূপে ইতি-পূর্ব্বে উদ্ধৃত হইয়াছে বলিয়া এ স্থলে পুনরায় সমপূর্ণ লিখিত হইল না ; এই পদের অবশিষ্ট অংশ ও পাঠান্তর উক্ত পদে দ্রষ্টব্য।
আমরা এই পদটি নীচে সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥)))
টীকা ---
আমার এ ঘরদুয়ারে কি প্রয়োজন ? আমার এখন এমন দশা হইয়াছে যে লজ্জা করিতেও পারি না। বন্ধুর সহিত যদি এক তিলের জন্যও বিচ্ছেদ ঘটে তাহা হইলে মনে হয় যেন লক্ষ বিপদ আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে এবং হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যাইতেছে। সখি ! শোন শোন তোমাকে আমার মরমের কথা বলি---ওই আমার পরাণের নাথ। উহার প্রেমরসের স্পর্শে আমার দেহ পুলকিত ( উলস গা ) হয়, তাই আমি দুইকুল হাতদিয়া ঠেলিয়া ফেলিলাম। গুরুজনে আমাকে দিনরাত্রি বকেন, সে বকুনি আমার চন্দন ও চুয়াতুল্য অলঙ্কার বলিয়া মনে হয়। আমি তিল এবং তুলসী দিয়া নিজেকে ঐ রাঙ্গা চরণে বেচিয়া দিয়া তাঁহার ক্রীতদাসী হইয়াছি। আমার কর্মে যাহা ছিল তাহা আমি স্ব ইচ্ছায় বাছিয়া লইলাম। ইহাতে যাহার আপত্তি আছে তাহাকে আমি তিলাঞ্জলি দিয়া বিসর্জ্জন দিলাম। দয়িতের ঐ মুখ না দেথিলে আমার বুক ফাটিয়া যায়---- আমি আর ঘরে থাকিতে পারি না। জ্ঞানদাস বলেন এমন প্রেম জগতে নাই।
মন্তব্য --- ডাঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত চণ্ডীদাস পদাবলীতে ( পৃঃ ১১০ ) এটি চণ্ডীদাসের ভনিতার ধরা হইয়াছে। তাঁহারা বলিয়াছেন যে ভনিতাটি পদরত্নাকরে পাওয়া গিয়াছে, কিন্তু সতীশচন্দ্র রায় মহাশয় তন্ন তন্ন করিয়া পদরত্নাকর পুথি দেখিলেও, চণ্ডীদাস ভনিতায় এই পদ পান নাই। তিনি বলিয়াছেন যে ভনিতাহীন এই পদটি পদরত্নাকরের ১৪/২১ সংখ্যক পদ। সুতরাং বলা চলে না যে পদ-রত্নাকরের এই পদটি তাঁহার দৃষ্টি এড়াইয়া গিয়াছে। হরেকৃষ্ণবাবু জ্ঞানদাসের পদাবলীতে কোনরূপ মন্তব্য না করিয়া এটি জ্ঞানদাস ভনিতা দিয়া ছাপাইয়াছেন।
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর উপরোক্ত ভনিতাহীন পদটির সঠিক সংখ্যা ৮৪৭ হবে, (পদকল্পতরু ১ম খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, পৃষ্ঠা-১৩৫)। আমরা এই ভনিতাহীন পদটি নীচে সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥)।
॥ সিছুড়া॥
কি মোর এ ঘর দুয়ারের কাজ
লাজে কহিতে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লগে পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মের করমে ছিল।
এ কথা শুনিয়া যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলে দিল॥
কি আর বুঝাও কুলের ধরম
মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ
জনি কারো পাছে হয়॥
কানু সে জীবন জাতি প্রাণ ধন
এ দুটি নয়ানের তারা।
পরাণ-অধিক নয়ান-পুতলী
তিলেকে বাসিয়ে হারা॥
গঞ্জে গুরুজন বলু কুবচন
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যাম-অনুরাগে অঙ্গ বেচিয়াছি
তীল তুলসী দিয়া॥
কি মোর এ ঘর দুয়ারের কাজ
লাজে কহিতে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লগে পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মের করমে ছিল।
এ কথা শুনিয়া যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলে দিল॥
কি আর বুঝাও কুলের ধরম
মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ
জনি কারো পাছে হয়॥
কানু সে জীবন জাতি প্রাণ ধন
এ দুটি নয়ানের তারা।
পরাণ-অধিক নয়ান-পুতলী
তিলেকে বাসিয়ে হারা॥
গঞ্জে গুরুজন বলু কুবচন
সে মোর চন্দন চুয়া।
শ্যাম-অনুরাগে অঙ্গ বেচিয়াছি
তীল তুলসী দিয়া॥
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলু,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর ঘর, দুয়ারের কাজ,
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে, লাখ পরমাদ,
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
শুন শুন তোরে, মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে, উলস গা,
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত, বোলে অবিরত,
সে মোর চন্দন চুয়া।
সে রাঙ্গা চরণে, আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায়, বাছিয়া লইলু,
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে, যে জন বিমুখ,
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া, পরাণ বিদরে,
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি, জগতে নাহিক,
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, আক্ষেপানুরাগ, ৪১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ সিছুড়া॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়াঁ মরি॥
শুন শুন তোরে মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে উলস গা
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত বোলে অবিরত
সে মোর চন্দন চুয়া।
ও রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
কি মোর ঘর দুয়ারের কাজ
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়াঁ মরি॥
শুন শুন তোরে মরম কহিও
মোর পরাণনাথে।
ও রস-পরশে উলস গা
দুকুল ঠেলিলুঁ হাতে॥
গুরু গরবিত বোলে অবিরত
সে মোর চন্দন চুয়া।
ও রাঙ্গা চরণে আপনা বেচিলুঁ,
তিল তুলসী দিয়া॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ বোল বলিতে যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
সো মুখ না দেখিয়া পরাণ বিদরে
রহিতে নারি যে বাসে।
এমত পিরীতি জগতে নাহিক
কহই এ জ্ঞানদাসে॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ।
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর এ ঘর দুয়ারের কাজ
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ কথা শুনিয়া যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
কি আর বুঝাও কুলের ধরম
মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ
জানি কারো পাছে হয়॥
গঞ্জে গুরুজন বলু কুবচন
সে মোর চন্দন চুয়া।
জ্ঞানদাস কহে এ অঙ্গ বেচ্যাছি
তীল তুলসী দিয়া॥
*********************
॥ সিন্ধুড়া॥
কি মোর এ ঘর দুয়ারের কাজ
লাজ করিবারে নারি।
তিলেক বিচ্ছেদে লাখ পরমাদ
হিয়া বিদরিয়া মরি॥
আপন ইচ্ছায় বাছিয়া লইলুঁ
যে মোর করমে ছিল।
এ কথা শুনিয়া যে জন বিমুখ
তারে তিলাঞ্জলি দিল॥
কি আর বুঝাও কুলের ধরম
মন সতন্তর নয়।
কুলবতী হৈয়া রসের পরাণ
জানি কারো পাছে হয়॥
গঞ্জে গুরুজন বলু কুবচন
সে মোর চন্দন চুয়া।
জ্ঞানদাস কহে এ অঙ্গ বেচ্যাছি
তীল তুলসী দিয়া॥
*********************
