কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কত কত ভুবনে আছয়ে বর নাগরি
কত কত ভুবনে আছয়ে কত নাগরি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় ( গোকুলানন্দ সেন ) বৈষ্ণবদাস, সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৭শ পল্লব, দুর্জ্জয় মান, ৫১৭ নং পদসংখ্যায়, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে   আছয়ে বর-নাগরি
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ-রতন   যতনে নাহি পাইয়ে
সো তুয়া দাসক আশে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক-   মুকুট বর নাগর
চরণহি সাধয়ে কান॥ ধ্রু॥
কি তোর কঠিন মন  বুঝই না পারিয়ে
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লখিমি যছু   চরণে লোটায়ই
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন   সফল না মানসি
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহ   কথিহুঁ না শূনিয়ে
পিরিতিক ইহ নিরবাহ॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে,   আছয়ে কত নাগরি,
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ রতন,   যতনে নাহি পাইয়ে,
সো তুয়া দাসক আশে॥
সুন্দরি কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক,   মুকুট বর নাগর,
চরণেহি সাধয়ে কান॥
কি তোর কঠিন মন,   বুঝই না পারিয়ে,
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লছমি যৈছে,   চরণে লোটায়ই,
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি,
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কতিহুঁ না শুনিয়ে
পিরীতি কহই নিরবাহ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে   আছয়ে কত নাগরী,
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ রতন,   যতনে নাহি পাইয়ে,
সো তুয়া দাসক আশে॥
সুন্দরি কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক,   মুকুট বর নাগর,
চরণেহি সাধয়ে কান॥
কি তোর কঠিন মন,   বুঝই না পারিয়ে,
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লছমি যৈছে,   চরণে লোটায়ই,
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি,
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কতিহুঁ না শুনিয়ে
পিরীতি কহই নিরবাহ॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে, আছয়ে কত নাগরী,
কে না করয়ে অভিলাষে। যো পুরুখ রতন,
যতনে নাহি পাইয়ে, সো তুয়া দাসক
আশে॥ সুন্দরী কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক, মুকুট বর নাগর, চরণেহি
সাধয়ে কান॥ কি তোর কঠিন মন, বুঝই
না পারিয়ে, গুরুতর কৌশল মোর। লাখ
লছমি যৈছে, চরণে লোটায়ই, তাহে এত
বিরকতি তোর॥ জীবন যৌবন, সফল না
মানসি, কানু হেন বিদগধ নাহ। জ্ঞান-
দাস কহে, কতিহুঁ না শুনিয়ে, পিরীতি
কহই নিরবাহ॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে,   আছয়ে কত নাগরি,
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ-রতন,   যতনে নাহি পাইয়ে,
সো তুয়া দাসক আশে॥
সুন্দরি, কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক,   মুকুট বর নাগর,
চরণেহি সাধয়ে কান॥
কি তোর কঠিন মন,   বুঝই না পারিয়ে,
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লছমি যৈছে,   চরণে লোটায়ই,
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি,
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কতিহুঁ না শুনিয়ে
পিরীতি কহই নিরবাহ॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কত কত ভুবনে   আছয়ে বর নাগরি
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ রতন   যতনে নাহি পাইয়ে
সো তুয়া দাসক আশে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক   মুকুট বর নাগর
চরণহি সাধয়ে কান॥ ধ্রু॥
কি তোর কঠিন মন   বুঝই না পারিয়ে
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লখিমি যছু   চরণে লোটায়ই
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন   সফল না মানসি
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহ   কথিহুঁ না শুনিয়ে
পিরিতিক ইহ নিরবাহ॥

টীকা---
কত কত ভুবনে ইত্যাদি --- পৃথিবীর কত কত নারীশ্রেষ্ঠ যে পুরুষরত্নকে অভিলাষ করে ও যত্ন করিয়াও পায় না, সে তোমার দাস হইতে আশা করে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে,   আছয়ে কত নাগরী,
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ-রতন,   যতনে নাহি পাইয়ে,
সো তুয়া দাসক আশে॥
সুন্দরি, কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক,   মুকুট বর নাগর,
চরণেহি সাধয়ে কান॥
কি তোর কঠিন মন   বুঝই না পারিয়ে,
গুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লছমি যৈছে,   চরণে লোটায়ই,
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি,
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কতিহুঁ না শুনিয়ে
পিরীতি কহই নিরবাহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গাঢ় মান
সখীর উক্তি
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে   আছয়ে বর নাগরি
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখরতন   যতনে নাহি পাইয়ে
সো তুয়া দাসক দাসে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক   মুকুটবর নাগর
চরণহি সাধয়ে কান॥ ধ্রু॥
কি তোর কঠিন মন   বুঝিয়ে না পারিয়ে
কিয়ে হেন বুরবুধি ঘোর।
লাখ লছিমি যছু   চরণে লোটায়ই
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কথিহুঁ না শুনিয়ে
পিরীতিক ইহ নিরবাহ॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৪১০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
সখীর উক্তি।
॥ কামোদ - ছোট দশকুশী॥

কত কত ভুবনে,   আছয়ে বর নাগরি,
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ রতন,   যতনে নাহি পাইয়ে,
সো তুয়া দাসক আশে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
বসময় রসিক,   মুকুট-বর নাগর,
চরণহি সাধয়ে কান॥ ধ্রু॥
কি তোর কঠিন মন,   বুঝিয়ে না পারিয়ে,
শুরুতর কৌশল মোর।
লাখ লখিমি যছু,   চরণে লোটায়ই,
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি,
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহ,   কথিহুঁ না শূনিয়ে,
পিরিতিক ইহ নিরবাহ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৪৬- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
(চ) গাঢ় মান
॥ কামোদ॥

কত কত ভুবনে   আছয়ে বর নাগরি
কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখ-রতন   যতনে নাহি পাইয়ে
সো তুয়া দাসক দাসে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক   মুকুটবর নাগর
চরণহি সাধয়ে কান॥ ধ্রু॥
কি তোর কঠিন মন   বুঝিয়ে না পারিয়ে
কিয়ে হেন দুরবুধি ঘোর।
লাখ লছিমি যছু   চরণে লোটায়ই
তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন,   সফল না মানসি
কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহে,   কথিহুঁ না শুনিয়ে
পিরিতিক ইহ নিরবাহ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কত কত ভুবনে আছয়ে বর নাগরি
      কে না করয়ে অভিলাষে।
যো পুরুখরতন যতনে নাহি পাইয়ে
      সো তুয়া দাসক দাসে॥
সখি হে কহ কৈছে সাধবি মান।
রসময় রসিক মুকুটবর নাগর
      চরণহি সাধয়ে কান॥
কি তোর কঠিন মন বুঝিয়ে না পারিয়ে
      কিয়ে হেন দুরবুধি ঘোর।
লাখ লছিমি যছু চরণে লোটায়ই
      তাহে এত বিরকতি তোর॥
জীবন যৌবন সফল না মানসি
      কানু হেন বিদগধ নাহ।
জ্ঞানদাস কহ কথিহুঁ না শুনিয়ে
      পিরীতিক ইহ নিরবাহ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^