কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আজি কেন তোমায় এমন দেখি
আজি কেনে তোমায় এমন দেখি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ২৪৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥

আজু কেনে তোমা এমন দেখি।   সঘনে অলসে ঝাঁপিছ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।   না জানি কি আছে হিয়ায় বেথা॥
কিবা বা মনেতে লাগিয়াছে।   দোষদিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
সঘনে বসন না রহে গায়।   রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি না বোলহ লাজের কাজে।   মরমী লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জন যায়।   বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জানো।   জ্ঞানদাস বোলে কেনে না মানো॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

আজি কেন তোমায় এমন দেখি।
সঘন আলসে ঝাঁপি আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি হিয়ার কি আছে বেথা॥
কিবা বা মনে লাগিয়াছে।
দোষ দিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
বসন সঘন না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা বোলহ লাজের কাযে।
মরম লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জনা যায়।
বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞানদাস বোলে কেন না মান॥

শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে এই পদটি বিদ্যাপতির ভণিতায় দেওয়া রয়েছে যা আমরা নীচে তুলে দিয়েছি, এই সম্বন্ধে তথ্যাদি সহ। ---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২০৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার।
॥ ধানশী॥

আজি কেন তোমায় এমন দেখি।
সঘন আলসে ঝাঁপি আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি হিয়ার কি আছে বেথা॥
কিবা বা মনে লাগিয়াছে।
দোষ দিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
বসন সঘন না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা বোলহ লাজের কাযে।
মরম লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জনা যায়।
বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞানদাস বোলে কেন না মান॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৪৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

আজি কেন তোমায় এমন দেখি।
সঘন আলসে ঝাঁপি আঁখি॥ অঙ্গ মোড়া
দিয়া কহিছ কথা। না জানি হিয়ার কি
আছে বেথা॥ কিবা বা মনে লাগিয়াছে।
দোষ দিঠে কেবা দেখিয়াছে॥ বসন সঘন
না রহে গায়। রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা বোলহ লাজের কাযে। মরম
লোকের মরমে বাজে॥ কালা কানুর পথে
যে জনা যায়। বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জান। জ্ঞানদাস
বোলে কেন না মান॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোচ্ছ্বাস।
॥ ধানশী॥

আজি কেন তোমায় এমন দেখি।
সঘন আলসে ঝাঁপি আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি হিয়ার কি আছে বেথা॥
কিবা বা মনে লাগিয়াছে।
দোষ দিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
বসন সঘন না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা বোলহ লাজের কাজে।
মরম লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জনা যায়।
বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞানদাস বোলে কেন না মান॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, দানলীলা, ১৯৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি কেনে তোমায় এমন দেখি।
অপাঙ্গ ইঙ্গিত ইষত হাসি॥
কি বা ভয়সায় দাঁড়াও কাছে।
না জানি মরমে কি সাধ আছে॥
কাহ্নাই পরনারী ছুইতে কর সাধ।
রাঙ্কের পোয়ে কি সোনার সাধ॥
মুখের সুখেতে কহিতে চাহ।
পরবিত চিতে করিলে পাও॥
কালা হইঞা এত রসের ভোরা।
খঞ্জনি কমলে দেখিলে পারা॥
কি গুণ দেখিয়া সঘন নাচাও।
হাতে কি চান্দের পসার পাও॥
জ্ঞানদাস বলে গোপ ঝিয়ারি।
বলিতে পারিলে কি এতেক বলি॥

টীকা ---
রাঙ্কের পোয়ে কি সোনার সাধ --- দরিদ্রের ছেলের আবার সোনা পাইবার সাধ কেন?
পরিবিত চিতে করিলে পাও --- পরের বিত্ত কি মনে করিলেই পাওয়া যায়?
খঞ্জন কমলে দেখিলে পারা --- কমলের উপর খঞ্জনের নাচ দেখিয়াছ মনে হইতেছে ( ঐরূপ দেখিলে রাজ্যলাভ হয় বলিয়া প্রবাদ )।
চান্দের পসার --- বিক্রি করিবার জন্য কি চাঁদ হাতে পাইয়াছ?
বলিতে পারিলে কি এতেক বলি --- বলার সুযোগ পাইয়াছ বলিয়া কি এমন করিয়াই বলিতে হয়?

ই পদটি ১৩২৭ সালে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে অলসে ঝাঁপিছ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি কি আছে হিয়ায় বেথা॥
কিবা বা মনেতে লাগিয়াছে।
দোষদিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
সঘনে বসন না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি না বোলহ লাজের কাজে।
মরমী লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জন যায়।
বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার আগে যদি এমন জানো।
জ্ঞানদাস বোলে কেনে না মানো॥

এই পদের টীকায় বিমানবিহারী মহাশয় ২৭২ পৃষ্ঠায় আরও লিখেছেন . . .
সতীশচন্দ্র রায় মহাশয় গীতচন্দ্রোদয় দেখেন নাই ; তিনি পদরত্নাকরে মূলে ধৃত শেষ চারিটি চরণ পাইয়া লিখিয়াছিলেন --- “এই পদের ন্যায় খাঁটি বাঙ্গালা পদ বিদ্যাপতির রচিত বলিয়া সিদ্ধান্ত করার উপযুক্ত কারণ না থাকায়, ইহা পদরত্নাকর পুথির প্রমাণানুসারে জ্ঞানদাসের রচিত বলিয়াই স্বীকার করা সঙ্গত।” কিন্তু ইহা বাঙ্গালী বিদ্যাপতির রচনা হইতে বাধা নাই।

আমরা বিদ্যাপতির ভণিতার পদটি সরাসরি শ্রীশ্রীপদকল্পতরু থেকে নীচে তুলে দিয়েছি। ---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৩২৭ সালে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ২৭৩ পৃষ্ঠায় চণ্ডীদাস ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি লিখেছেন – বরাহনগরের পাটবাড়ীর ২৬(ণ) পুথির দ্বিতীয় পত্রে এই পদটি আবার চণ্ডীদাস ভণিতায় দেখা যায়। যথা---

আজু কেনে গোরী এমন দেখি।
সঘনে আলিসে কাঁপিছে আঁখি॥
সঘনে গগনে গণিছ তারা।
দেব অবঘাত হয়াছে পারা॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
অন্তরে কি পায়াছ ব্যথা॥
আচলে কাঞ্চন ঝলক দেখি।
প্রেম কলেবর দিয়াছে সাখি॥
যে জন দেখ্যাছে সে পড়ে মনে।
আন কহিতে কহিছ আনে॥
যদি না কহ লোকের লাজে।
মরমী জনের মরমে বাজে॥
আজু কেনে তোমার এমন রীত।
চণ্ডীদাসে কহে মজিল চিত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখার, ৯ম পল্লব সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার, ২২৬ নং পদসংখ্যা, ১৫১-পৃষ্ঠায়, বিদ্যাপতির ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার
সখ্যুক্তি।
॥ পঠমঞ্জরী॥

আজি কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে ঢুলিছে অরুণ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি অন্তরে কি ভেল বেথা॥
সঘনে গগনে গণিছ তারা।
দেব-অবঘাত হৈয়াছে পারা॥
যদি বা না কহ লোকের লাজে।
মরমি জনার মরমে বাজে॥
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে দেখি।
প্রেম কলেবর দিতেছে সাখী॥
বিদ্যাপতি কহে এ কথা দঢ়।
গোপত পিরিতি বিষম বড়॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২০৬ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোচ্ছ্বাস
॥ ধানশী॥

আজি কেন তোমায় এমন দেখি।
সঘন আলসে ঝাঁপি আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি হিয়ার কি আছে বেথা॥
কিবা বা মনে লাগিয়াছে।
দোষ দিঠে কেবা দেখিয়াছে॥
বসন সঘন না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা বোলহ লাজের কাজে।
মরম লোকের মরমে বাজে॥
কালা কানুর পথে যে জনা যায়।
বাতাসে মানুষ চমক পায়॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞানদাস বলে তুমি কেন না মান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
সখীর উক্তি
॥ পঠমঞ্জরী॥

আজি কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে ঢুলিছে অরুণ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি অন্তরে কি ভেল বেথা॥
কিবা মনেতে লাগিয়াছে।
দিঠি দিয়া কেবা দেখিয়াছে॥
বসন ভূষণ না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা না কহ লোকের লাজে।
মরমী জনার মরমে বাজে॥
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে দেখি।
প্রেম কলেবর দিতেছে সাখী॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞান কহে তবে কেন না মান॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ পঠমঞ্জরী॥

আজি কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে ঢুলিছে অরুণ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি অন্তরে কি ভেল বেথা॥
কিবা মনেতে লাগিয়াছে।
দিঠি দিয়া কেবা দেখিয়াছে॥
বসন ভূষণ না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা না কহ লোকের লাজে।
মরমি জনার মরমে বাজে॥
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে দেখি।
প্রেম কলেবর দিতেছে সাখী॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞান কহে তবে কেন না মান॥

টীকা---
আজি তোমাকে এমন দেখিতেছি কেন, তোমার (রজনীজাগরণজনিত) আরক্ত আঁখি সঘনে ঢুলিতেছে। অঙ্গ মোড়া দিয়া কথা কহিতেছ, জানি না অন্তরে কি ব্যথা হইয়াছে। তোমার মনে কিসের ভাব লাগিয়াছে, তোমার উপর কাহারো দৃষ্টি পড়িয়াছে নাকি? বসনভূষণ গায়ে থাকিতেছে না। তাহাতে রসের অঙ্কুর (পুলক) জাগিতেছে। লোকলজ্জায় যদি প্রকাশ না কর অন্তরঙ্গাগণের মনে কষ্ট হয়। আঁচলের সোনা (তো লুকানো যায় না) ঝলক দিতেছে। তোমার দেহই প্রেমের সাক্ষী। (স্বর্ণ প্রাপ্তিতে বদন যেমন আনন্দ প্রদীপ্ত হয়, তোমার অন্তরের প্রেমে দেহ তেমনই পুলকিত হইয়াছে।) জ্ঞানদাস সখীকে বলিতেছেন, তাঁর (শ্রীকৃষ্ণের) ভাবেই (শ্রীরাধার) এমনই হইয়াছে যদি জানিতেছ তবে তুমিই বা কেন মানিতেছ না? (অর্থাৎ তুমি আবার শ্রীমতীকে জিজ্ঞাসা করিয়া লজ্জা দিতেছ কেন?)

ই পদটি বিদ্যাপতির ভণিতায়, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড ১ম শাখার ২২৬-নং পদসংখ্যা, ১৫১-নং পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার
সখ্যুক্তি।
॥ পঠমঞ্জরী॥

আজি কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে ঢুলিছে অরুণ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি অন্তরে কি ভেল বেথা॥
সঘনে গগনে গণিছ তারা।
দেব-অবঘাত হৈয়াছে পারা॥
যদি বা না কহ লোকের লাজে।
মরমি জনার মরমে বাজে॥
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে দেখি।
প্রেম কলেবর দিয়াছে সাখী॥
বিদ্যাপতি কহে এ কথা দঢ়।
গোপত পিরিতি বিষম বড়॥

বিদ্যাপতির ভণিতার পদে . . .
কিবা মনেতে লাগিয়াছে।
দিঠি দিয়া কেবা দেখিয়াছে॥
বসন ভূষণ না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥ --- এই চার কলির পরিবর্তে এই দুই কলি দেওয়া রয়েছে এবং শেষের ভণিতার দুটি কলি ভিন্ন দেওয়া রয়েছে . . .

সঘনে গগনে গণিছ তারা।
দেব-অবঘাত হৈয়াছে পারা॥


শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় মহাশয়, এই পদটির পাঠান্তরে এই বিষয়ে লিখেছেন . . .
"এই পদের ন্যায় খাঁটি বাঙ্গালা পদ বিদ্যাপতির রচিত বলিয়া সিদ্ধান্ত করার উপযুক্ত কারণ না থাকায়, ইহা পদরত্নাকর পুথির প্রমাণানুসারে জ্ঞানদাসের রচিত বলিয়াই স্বীকার করা সঙ্গত।"
---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি কেনে তোমা এমন দেখি।
সঘনে ঢুলিছে অরুণ আঁখি॥
অঙ্গ মোড়া দিয়া কহিছ কথা।
না জানি অন্তরে কি ভেল বেথা॥
কিবা বা মনেতে লাগিয়াছে।
দিঠি দিয়া কেবা দেখিয়াছে॥
বসন ভূষণ না রহে গায়।
রসের অঙ্কুর উপজে তায়॥
যদি বা না কহ লোকের লাজে।
মরমী জনার মরমে বাজে॥
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে দেখি।
প্রেম কলেবর দিতেছে সাখী॥
তার ভাবে যদি এমন জান।
জ্ঞান কহে তবে কেন না মান॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^