কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
এহি মনে বলে দানী হৈয়াছ কাহ্নাই
এই মনে মনে দানী হইয়াছ
এই মনে বনে দানী হইয়াছে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ বরাড়ী॥

এহি মনে বলে,     দানী হৈয়াছ কাহ্নাই,
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া,     রাজকুমারী সনে,
না জানি কিসের রঙ্গ॥ ধ্রু।
গিরি গিয়া যদি,     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে,     শরণ শৈলজা,
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্ণবী     সঙ্গম নিকটে,
শঙ্কটে কামনা কর।
তবে বৃকভানু     নন্দিনী নিচোল,
অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে,     সঘনে সঘনে,
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ,     থাকিতে হিয়ার হারে,
বাঢ়ায়াছ দিঠ॥
মদনে আকুল,     আপনে দুকুল,
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে,     ইঙ্গিত নহিলে,
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দান।
॥ বরাড়ী॥

এহি মনে বলে,     দানী হৈয়াছ কাহ্নাই,
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া,     রাজকুমারী সনে,
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি,     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে,     শরণ শৈলজা,
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্নবী     সঙ্গম নিকটে,
শঙ্কটে কামনা কর।
তবে বৃকভানু,     নন্দিনী নিচোল,
অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে,     সঘনে সঘনে,
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ,     থাকিতে হিয়ার হারে,
বাঢ়ায়াছ দিঠ॥
মদনে আকুল,     আপনে দুকুল,
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে,     ইঙ্গিত নহিলে,
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দান
॥ বরাড়ী॥

এহি মনে বলে, দানী হৈয়াছ কাহ্নাই,
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ। রাখাল হইয়া, রাজ-
কুমারী সনে, না জানি কিসের রঙ্গ॥ গিরি
গিয়া যদি, আরাধনা কর সেবহ শঙ্কর
দেবে। সতত অরণ্যে, শরণ শৈলজা, পূজা
কর এক ভাবে॥ জলধি জাহ্নবী সঙ্গম
নিকটে, শঙ্কটে কামনা কর। তবে বৃকভানু,
নন্দিনী নিচোল, অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে, সঘনে সঘনে, বচন রচহ
মিঠ। সব আভরণ, থাকিতে হিয়ার হারে,
বাঢ়য়াছ দিঠ॥ মদনে আকুল, আপনে
দুকুল, কি লাগি কলঙ্ক কর। জ্ঞানদাস
কহে, ইঙ্গিত নহিলে, কি লাগি বাহু
পসার॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ বরাড়ী॥

এহি মনে বলে,     দানী হৈয়াছ কাহ্নাই,
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া,     রাজকুমারী সনে,
না জানি কিসের রঙ্গ॥ ধ্রু।
গিরি গিয়া যদি,     আরাধনা কর,
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে,     শরণ শৈলজা,
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্নবী,     সঙ্গম নিকটে,
শঙ্কটে কামনা কর।
তবে বৃকভানু-     নন্দিনী-নিচোল,
অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে,     সঘনে সঘনে,
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ,     থাকিতে হিয়ারে,
হারে বাঢ়ায়াছ দিঠ॥
মদনে আকুল,     আপনে দুকুল,
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে,     ইঙ্গিত নাহলে,
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, দানলীলা, ১৯৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এহি মনে বনে     দানী হৈয়াছ কাহ্নাই
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া,     রাজকুমারী সনে,
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি,     আরাধনা কর,
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর এক ভাবে॥
জবধি জাহ্নবী     সঙ্গম-নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তহে বৃকভানু     নন্দিনী নিচোল,
অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে,     সঘনে সঘনে,
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ,     থাকিতে হিয়ারে,
হারে বাঢ়ায়াছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপন দুকূল,
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে,     ইঙ্গিত না বলে,
কি লাগি বাহু পসার॥

টীকা ---
জলধি জাহ্নবী সঙ্গম নিকটে --- গঙ্গাসাগরে।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২২৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ বরাড়ী॥

এহি মনে বলে     দানী হইয়াছ কাহ্নাই
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া     রাজকুমারী সনে
না জানি কিসের রঙ্গ॥ ধ্রু
গিরি গিয়া যদি     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্নবী     সঙ্গম নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃকভানু     নন্দিনী নিচোল
অঞ্চল ছুঁইতে পার॥
অলপে অলপে     সঘনে সঘনে
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ     থাকিতে হিয়ারে
হারে বাঢ়ায়ছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপনে দুকুল
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে     ইঙ্গিত নাহলে
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ বরাড়ী॥

এই মনে বনে     দানী হইয়াছ
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া     রাজবালা সনে
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্করদেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধিজাহ্নবী-     সঙ্গম নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃকভানু-     নন্দিনীনিচোল-
অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে     সঘনে সঘনে
বচন রচহ মিঠ।
সব অভরণ     থাকিতে হিয়ার
হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপন দুকুল
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে     ইঙ্গিত নহিলে
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সখীর উক্তি
॥ বরাড়ী॥

এই মনে বনে   দানী হইয়াছ   ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া   রাজবালা সনে   না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি   আরাধনা কর   সেবহে শঙ্করদেবে।
সতত অরণ্যে   শরণ শৈলজা   পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি-জাহ্নবী-   সঙ্গম নিকটে   সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃকভানু-   নন্দিনী-নিচোল-   অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে   সঘনে সঘনে   বচন রচহ মিঠ।
সব অভরণ   থাকিতে হিয়ার   হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল   আপন দুকুল   কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে   ইঙ্গিত নহিলে   কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০" এর ১৬০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

এই মনে বনে     দানী হইয়াছ
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া     রাজবালা সনে
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্নবী-     সঙ্গম নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃষভানু-     নন্দিনী নিচোল
অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে     সঘনে সঘনে
বচন রচহ মিঠ।
সব অভরণ     থাকিতে হিয়ার
হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপন দুকুল
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে     ইঙ্গিত নহিলে
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” এর ৪৬৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দান।

এই মনে বনে     দানী হইয়াছ
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া     রাজবালা সনে
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর এক ভাবে॥
জলধি জাহ্নবী-     সঙ্গম নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃষভানু-     নন্দিনী নিচোল
অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে     সঘনে সঘনে
বচন রচহ মিঠ।
সব আভরণ     থাকিতে হিয়ার
হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপন দুকুল
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে     ইঙ্গিত নহিলে
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা ও নৌকালীলা

এই মনে বনে     দানী হইয়াছ
ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া     রাজবালা সনে
না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি     আরাধনা কর
সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে     শরণ শৈলজা
পূজা কর একভাবে॥
জলধি জাহ্নবী     সঙ্গম নিকটে
সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃকভানু     নন্দিনী-নিচোল
অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে     সঘনে সঘনে
বচন রচহ মিঠ।
সব অভরণ     থাকিতে হিয়ার
হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল     আপন দুকুল
কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে     ইঙ্গিত নহিলে
কি লাগি বাহু পসার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এই মনে বনে দানী হইয়াছে
        ছুঁইতে রাধার অঙ্গ।
রাখাল হইয়া রাজবালা সনে
        না জানি কিসের রঙ্গ॥
গিরি গিয়া যদি আরাধনা কর
        সেবহ শঙ্কর দেবে।
সতত অরণ্যে শরণ শৈলজা
        পূজা কর একভাবে॥
জলধিজাহ্নবী সঙ্গম নিকটে
        সঙ্কটে কামনা কর।
তবু বৃকভানু নন্দিনীনিচোল
        অঞ্চল ছুঁইতে নার॥
অলপে অলপে সঘনে সঘনে
        বচন রচহ মিঠ।
সব অভরণ থাকিতে হিয়ার
        হারে বাড়াইছ দিঠ॥
মদনে আকুল আপন দুকুল
        কি লাগি কলঙ্ক কর।
জ্ঞানদাস কহে ইঙ্গিত নহিলে
        কি লাগি বাহু পসার॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^