কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ওহে তোমরা কে হে চন্দ্রবদনী ধনি-দে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, নৌকা বিলাস, ২০৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ওহে তোমরা কে হে চন্দ্রবদনী ধনি-দে।
সুন্দর বদনী ধনি     পঞ্চম-ভাষণি
নবীন যৌবনী তোমরা কেহে॥
তোমরা ডাকিছ সুখে     তরণি পড়েছে পাকে
আপনা সামালি তবে যাই হে।
ওহে চন্দ্রবদনী ধনি দে হে॥
নাবিক রতন মণি     তরণী নিকটে আনি
চড় সভে পার করি আমি হে।
শুন সুবদনী ধনি     হরিষে ভরল তনি
তরণিতে চড়ি সখি মেলি হে॥
নৌতুন নাবিক কান     নাহি জানে সন্ধান
বেগে বাহি লেয়ল তরণী।
টুটি তরণি হেরি     কাঁপে সব সুকুমারি
জ্ঞানদাস সিঞ্চয়ে পানি॥

টীকা ---
নাবিক রতন মণি --- শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে একেবারে নাবিক শিরোমণি বলিয়া পরিচিত করিতেছেন।
হরিষে ভরল তনি --- দেহ আনন্দে পূর্ণ হইল।
শেষ কলিটি কবির উক্তি --- কানাই নূতন নাবিক, সে নৌকা বাহিবার উপায় জানে না ; স্রোতের বেগে নৌকা ভাসিয়া চলিল। নৌকাখানি আবার ভাঙ্গা, তাই দেথিয়া সুকুমারী গোপীরা কাঁপিতে লাগিলেন। তাঁহাদের দুরবস্থা দেখিয়া জ্ঞানদাস ভাঙ্গা নৌকার জল ছেঁচিতে লাগিলেন।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৩৮৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
কৃষ্ণের উক্তি
॥ গৌরী - ডাঁশ পাহিড়া॥

ওহে তোমরা কে হে চন্দ্রবদনী ধনি-দে।
সুন্দর বদনী ধনি,     পঞ্চম-ভাষণি,
নবীন যৌবনী তোমরা কেহে॥
তোমরা ডাকিছ সুখে,     তরণি পড়েছে পাকে,
আপনা সামালি তবে যাই হে।
ওহে চন্দ্রবদনী ধনি দে হে॥
নাবিক রতন মণি,     তরণী নিকটে আনি,
চড় সভে পার করি আমি হে।
শুন সুবদনী ধনি,     হরিষে ভরল তনি
তরণিতে চড়ি সখি মেলি হে॥
নৌতুন নাবিক কান,     নাহি জানে সন্ধান,
বেগে বাহি লেয়ল তরণী।
টুটি তরণি হেরি,     কাঁপে সব সুকুমারি,
জ্ঞানদাস সিঞ্চয়ে পানি॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^