কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা বিলাস
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা বিহার।
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি,
ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়,
তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল,
দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল,
উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি,
লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়,
যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে,
কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই,
জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব,
কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়,
কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি,
ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়,
তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল,
দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল,
উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি,
লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়,
যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে,
কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই,
জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব,
কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়,
কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার।
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল
তরী, ফের হাল খসি পইল জলে। পবনে
পাতিল ঝড়, বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল, তরঙ্গে তরণী
স্থির নয়। আমি কি করিব বল, উথলে
যমুনা জল, কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি
শুনি, যুবতীর যৌবন এত ভারি। নিজ
অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর, তবে ত
বাহিয়া যাইতে পারি॥ খাওয়াইয়া ক্ষীর
সরে, কি গুণ করিলা মোরে, আঁখি আর
পালটিতে নারি। আঁখি রৈল মুখ চাই, জল
না দেখিতে পাই, তোমরা হইলা প্রাণের
বৈরি॥ কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা
কেমনে পাব, ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার।
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল
তরী, ফের হাল খসি পইল জলে। পবনে
পাতিল ঝড়, বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল, তরঙ্গে তরণী
স্থির নয়। আমি কি করিব বল, উথলে
যমুনা জল, কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি
শুনি, যুবতীর যৌবন এত ভারি। নিজ
অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর, তবে ত
বাহিয়া যাইতে পারি॥ খাওয়াইয়া ক্ষীর
সরে, কি গুণ করিলা মোরে, আঁখি আর
পালটিতে নারি। আঁখি রৈল মুখ চাই, জল
না দেখিতে পাই, তোমরা হইলা প্রাণের
বৈরি॥ কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা
কেমনে পাব, ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হোল বিষম দায়,
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকাবিহার।
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা-জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়,
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকূল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা-জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, নৌকা বিলাস, ২০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকুল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ-বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একূল ওকুল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ-বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে ভয় দেখাইবার জন্য বলিতেছেন। তিনি নিজের দোষ এড়াইয়া রাধিকাকেই দোষ দিতেছেন এই বলিয়া যে তাঁহাকে ক্ষীরসর খাওয়াইয়া গুণ করা হইয়াছে বলিয়া তিনি রাধার মুখের দিকেই চাহিয়া আছেন, নৌকায় জল উঠিয়াছে তাহাও দেখিতে পান না, নৌকাও চালাইতে পারেন না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধাকে ভয় দেখাইবার জন্য বলিতেছেন। তিনি নিজের দোষ এড়াইয়া রাধিকাকেই দোষ দিতেছেন এই বলিয়া যে তাঁহাকে ক্ষীরসর খাওয়াইয়া গুণ করা হইয়াছে বলিয়া তিনি রাধার মুখের দিকেই চাহিয়া আছেন, নৌকায় জল উঠিয়াছে তাহাও দেখিতে পান না, নৌকাও চালাইতে পারেন না।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
ফের হাল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একুল ওকুল দুকুল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীরসরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় কি হল বিষম দায়
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
ফের হাল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
একুল ওকুল দুকুল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীরসরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় কি হল বিষম দায়
মধ্যতরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত লহরী”, এর ৬৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ নৌকাবিহার
যমুনা তরঙ্গ দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন
॥ রাগিণী সুবই --- তাল ছোট একতালী॥
করে তুলি ফেল বারি, ডুবিল ডুবিল তরী, কেরুয়াল খসি
পৈল জলে। পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়, বুঝি আজি
কি আছে কপালে॥ এই কুল ওই কুল, দুই কূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়। আমি কি করিব বল, উথলে যমুনাজল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥ এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে
নাহি শুনি, যুবতীর যৌবন এত ভারী। নিজ অঙ্গ বাস ছাড়,
যৌবন পাতলা কর, তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥ খাওয়াইয়া
ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে, আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই, তোমরা হইলে
প্রাণের বৈরী॥ কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি। জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হলো বিষম
দায়, মধ্য দরিয়ায় ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, নৌকাবিহার, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অথ নৌকাবিহার
যমুনা তরঙ্গ দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন
॥ রাগিণী সুবই --- তাল ছোট একতালী॥
করে তুলি ফেল বারি, ডুবিল ডুবিল তরী, কেরুয়াল খসি
পৈল জলে। পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়, বুঝি আজি
কি আছে কপালে॥ এই কুল ওই কুল, দুই কূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়। আমি কি করিব বল, উথলে যমুনাজল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥ এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে
নাহি শুনি, যুবতীর যৌবন এত ভারী। নিজ অঙ্গ বাস ছাড়,
যৌবন পাতলা কর, তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥ খাওয়াইয়া
ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে, আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই, তোমরা হইলে
প্রাণের বৈরী॥ কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি। জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হলো বিষম
দায়, মধ্য দরিয়ায় ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, নৌকাবিহার, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
করে তুলি ফেলি বারি, ডুবিল ডুবিল তরী,
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কুল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যে তরঙ্গে ডুবে তরী॥
ফের হাল খসি পইল জলে।
পবনে পাতিল ঝড়, তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কুল, দুকূল নিরাকুল,
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
আমি কি করিব বল, উথলে যমুনা জল,
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এত দিন নাহি জানি, লোক মুখে নাহি শুনি,
যুবতীর যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ বাস ছাড়, যৌবন পাতল কর,
তবে ত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া ক্ষীর সরে, কি গুণ করিলা মোরে,
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই, জল না দেখিতে পাই,
তোমরা হইলা প্রাণের বৈরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব, কিনারা কেমনে পাব,
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয়, কি হল বিষম দায়,
মধ্যে তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
যমুনায় নৌবিহার
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কূল ভুল দুই কূল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতিযৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গবাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের অরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
যমুনায় নৌবিহার
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কূল ভুল দুই কূল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতিযৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গবাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের অরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
কের-হাল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কুল ও কুল ভুল দুই কুল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতি-যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ-বাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের অরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
॥ বরাড়ী॥
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল তরী
কের-হাল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কুল ও কুল ভুল দুই কুল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি শুনি
যুবতি-যৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গ-বাস ছাড় যৌবন পাতল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা মোরে
আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে পাই
তোমরা হইলা প্রাণের অরি॥
কেমনে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে পাব
ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল
তরী কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কূল ভুল দুই কূল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি
শুনি যুবতীযৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গবাস ছাড় যৌবন পাতাল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা
মোরে আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে
পাই তোমরা হইলে প্রাণের অরি॥
কেমতে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে
পাব ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
*********************
করে তুলি ফেলি বারি ডুবিল ডুবিল
তরী কেরোয়াল খসি পৈল জলে।
পবনে পাতিল ঝড় তরঙ্গ হইল বড়
বুঝি আজ কি আছে কপালে॥
এ কূল ও কূল ভুল দুই কূল নিরাকুল
তরঙ্গে তরণী স্থির নয়।
কি আর করিব বল উথলে যমুনা জল
কাণ্ডার করেতে নাহি রয়॥
এতদিন নাহি জানি লোকমুখে নাহি
শুনি যুবতীযৌবন এত ভারি।
নিজ অঙ্গবাস ছাড় যৌবন পাতাল কর
তবেত বাহিয়া যাইতে পারি॥
খাওয়াইয়া খীর সরে কি গুণ করিলা
মোরে আঁখি আর পালটিতে নারি।
আঁখি রৈল মুখ চাই জল না দেখিতে
পাই তোমরা হইলে প্রাণের অরি॥
কেমতে বাহিয়া যাব কিনারা কেমনে
পাব ভাবিয়া গণিয়া পাছে মরি।
জ্ঞানদাসেতে কয় হইল বিষম ভয়
মধ্য তরঙ্গে ডুবে তরী॥
*********************
