কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কুঞ্জ ভবন মন্দ পবন কুসুম-গন্ধ-মাধুরী
মন্দ পবন কুঞ্জ ভবন কুসুম গন্ধ মাধুরি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, উনত্রিংশ ক্ষণদা---শুক্লা চতুর্দশী, ২৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

কুঞ্জ-ভবন     মন্দ পবন
কুসুম-গন্ধ-মাধুরী ।
মদন-রাজ     নব সমাজ
ভ্রমরা ভ্রমরী চাতুরী॥
দেখ রে সখি     শ্যাম-চন্দ
ইন্দুবদনী রাধিকা।
বিবিধ যন্ত্র     যুবতী-বৃন্দ
গাওত রাগ-মালিকা॥
তরল তার     গতি দুলার
নাচে নটিনী নটন-শূর।
প্রাণনাথ     ধরত হাত
রাই তাহে অধিক পূর॥
অঙ্গে অঙ্গ     পরশি ভোর
কেহু রহত কাহুকো কোর।
জ্ঞান দাস     গাওত রাস
যৈছে জলদে বিজুরী জোর॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ২৩০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ প্রকারান্তরং রাস॥
॥ কল্যাণ রাগ মণ্ঠক তালাভ্যাং॥

   মন্দ পবন কুঞ্জ ভবন কুসুম গন্ধ মাধুরি। মদন রাজ নব
সমাজ ভ্রমর ভ্রমণ চাতুরী॥ দেখরি সখি শ্যামচান্দ ইন্দুবদনি
রাধিকা। বিবিধ যন্ত্র সখিনি বৃন্দ গাওত রাগ মালিকা॥ ধ্রু॥
তরল তাল গতি দুলাল নাচে নটিনী নটনসূর। প্রাণ নাথ
করত হাত রাই তাহে অধিক পূর॥ অঙ্গ অঙ্গ পরশ ভোর
কেহু রহত কাহ্নু কোর। জ্ঞানদাস কহত রাস যৈছনি
জলদ বিজুরী জোর॥

ই পদটি বৈশাখ ১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সালে) প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী, অর্থাৎ মহাজন পদাবলীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কবিতাগুলির একত্র সংগ্রহ”, এর ১০৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ রাগ॥

মন্দ পবন     কুঞ্জ ভবন
কুসুম গন্ধ মাধুরী ।
মদন রাজ     নব সমাজ
ভ্রমর ভ্রমণ চাতুরী॥
দেখরে সখি     শ্যাম চন্দ
ইন্দুবদনি রাধিকা।
বিবিধ যন্ত্র     সখিনী বৃন্দ
গাওত রাগ মালিকা॥ ধ্রু
তরল তাল,     গতি দুলাল
নাচে নটিনী নটন সুর।
প্রাণনাথ     করত হাত
রাই তাহে অধিক পূর॥
অঙ্গ অঙ্গ     পরশ ভোর
কেহু রহত কাহু কোর।
জ্ঞান দাস,     কহত রাস
যৈছনি জলদ বিজুরি জোর॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রাস, ২০৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুঞ্জ ভবন     মন্দ পবন
কুসুম গন্ধ মাধুরী ।
মদনরাজ     নব সমাজ
ভ্রমরা ভ্রমরী চাতুরী॥
দেখরে সখি     শ্যামচন্দ
ইন্দুবদনী রাধিকা।
বিবিধ যন্ত্র     যুবতীবৃন্দ
গাওত রাগমালিকা॥
তরল তার     গতি দুলার
নাচে নটিনী নটন-শূর।
প্রাণনাথ     ধরত হাত
রাই তাহে অধিক পুর॥
অঙ্গে অঙ্গ     পরশি ভোর
কেহু রহত কাহুকো কোর।
জ্ঞানদাস     গাওত রাস
যৈছে জলদে বিজুরী জোর॥

টীকা --- রাসের সময় কুঞ্জগৃহে মৃদুমন্দপবন ফুলের গন্ধ বহন করিয়া মাধুর্য্য বিস্তার করিতেছে। মদনরাজের নূতন সভাসগ ভ্রমর এবং ভ্রমরা কত চাতুরী দেখাইয়া গান করিতেছে ( অথবা পাঠান্তরে ---শ্রীকৃষ্ণ ভ্রমরের মতন চাতুরী করিয়া নানা গোপীর কাছে যাইতেছেন ) সখি! দেখ, শ্যামচন্দ্র ও চাঁদবদনী রাধাকে দেখ। তাঁহাদিগকে ঘেরিয়া যুবতীরা বিবিধ যন্ত্রসহকারে নানাবিধ নানাবিধ রাগরাগিণী অথবা মালিকাপাগ গান করিতেছেন। তরল তালের মধুর ( দুলার ) গতিতে নৃত্যপরায়না রাধা ও নৃত্যবীর কৃষ্ণ নাচিতেছেন। রাধার প্রাণনাথ তাহার হাত ধরিয়াছেন, রাধা তাহাতে অধিক আনন্দে পূর্ণ হইয়াছেন। অঙ্গের সহিত অঙ্গের স্পর্শে উন্মত্ত হইয়া এক অপরের কোলে রহিল। জ্ঞানদাস রাসগান করিয়া বলিতেছেন যেন মেঘের গায়ে বিদ্যুত্ আজ অচঞ্চল হইয়া জোর লাগিয়া রহিল।

মন্তব্য --- জ্ঞানদাস রাসে শুধু শুধু রাধাকৃষ্ণের নৃত্যের কথা বলিয়াছেন, অন্যান্য যুবতীরা শুধু গানবাজনা করিতেছেন। সুতরাং ক্ষণদাধৃত “ভ্রমরা ভ্রমরী চাতুরী” পাঠ পদামৃতসমুদ্র ধৃত “ভ্রমর ভ্রমন চাতুরী” অপেক্ষা ভাল মনে হয়।

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^