কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
ঘরে হইতে শুনিলাম মুরলীর নিসান
বন্ধু ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান
ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ১০২ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ঘরে হইতে শুনিলাম মুরলীর নিসান। আদরে রমণীকুলে দিলাম সমাধান॥
অপরূপ সুনি মধুর মুরলীর নাদ। শিখিব বিনোদ বাঁশি করিআছি সাধ॥
সিখাহ পরাণবঁধু জতনে শিখিব। জানাইয়া দাও ফুক মুরলিতে দিব॥
অঙ্গুলি লোলাএ বন্ধু দেহ তাহে হাত। বাজাই শিখাইয়া দেহ প্রাণনাথ॥
জে রন্ধ্রে জে ধ্বনি উঠে নির্ণয় করিয়া। জ্ঞানদাস কহে বন্ধু দাও শিখাইয়া॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বংশী শিক্ষা, ২১৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন্ধু ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান।
আহিরী রমণী কুলে দিল সমাধান॥
হরিল সবার মন মুরলীর তানে।
সতী কুলবতী হেন বধিলে পরাণে॥
তোমার মুরলীরব শুনিয়া শ্রবণে।
যুবতী তেজিয়া পতি প্রবেশে কাননে॥
অপরূপ শুনিয়াছি মুরলীর নাদ।
শিখিব বিনোদ বাঁশি করিয়াছি সাধ॥
শিখাও পরাণ-বন্ধু যতনে শিখিব।
জানাইয়া দেহ ফুক মুরলীতে দিব॥
অঙ্গুলী লোলায়ে বঁধু দেহ হাতে হাত।
বাজাইতে শিখাইয়া দেহ প্রাণনাথ॥
যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে নিশ্চয় করিয়া।
জ্ঞানদাস কহে বাঁশি দেহ শিখাইয়া॥

টীকা ---
লোলাবে --- চঞ্চল করিয়া (দ্রুতবেগে বাঁশীর উপর চালাইয়া)।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৩য় খণ্ড এর ৪২৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিক্ষা
॥ শঙ্করাভরণ বা মল্লার - একতালা॥

বন্ধু ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান।
আহীর রমণী-কুলে দিল সমাধান॥
হরিল সবার মন মুরলীর তানে।
সতী কুলবতী হেন বধিলে পরাণে॥
তোমার মুরলী রব শুনিয়া শ্রবণে।
যুবতি তেজিয়া পতি প্রবেশে কাননে॥
অপরূপ শুনিয়াছি মুরলীর নাদ।
শিখিব বিনোদ বাঁশী করিয়াছি সাধ॥
শিখাও পরাণ বন্ধু যতনে শিখিব।
জানাইয়া দেহ ফুক মুরলীতে দিব॥
অঙ্গুলী লোলায়ে বঁধু দেহ হাতে হাত।
বাজাইতে শিখাইয়া দেহ প্রাণনাথ॥
যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে নিশ্চয় করিয়া।
জ্ঞান দাসে কহে বাঁশি দেহ শিখাইয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বংশী-শিক্ষা
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধা
॥ শঙ্করাভরণ॥

ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান।
আহীর রমণীকুলে দিলুঁ সমাধান॥
হরিল সবার মন মুরলীর তানে।
সতী কুলবতী হেন বধিলে পরাণে॥
তোমার মুরলীরব শুনিয়া শ্রবণে।
যুবতি তেজিয়া পতি প্রবেশে কাননে॥
অপরূপ শুনিয়াছি মুরলীর নাদ।
শিখিব বিনোদ বাঁশী করিয়াছি সাধ॥
শিখাও পরাণ বন্ধু যতনে শিখিব।
জানাইয়া দেহ ফুক্ মুরলীতে দিব॥
অঙ্গুলী লোলায়ে বন্ধু দেহ হাতে হাত।
বাজাইতে শিখাইতে দেহ প্রাণনাথ॥
যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে নিশ্চয় করিয়া।
জ্ঞানদাস কহে বাঁশী দেহ শিখাইয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বংশী-শিক্ষা
॥ শঙ্করাভরণ॥

ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীক গান। আহীর রমণীকুলে দিলুঁ সমাধান॥
হরিল সবার মন মুরলীর তানে। সতী কুলবতী হেন বধিলে পরাণে॥
তোমার মুরলী-রব শুনিয়া শ্রবণে। যুবতি তেজিয়া পতি প্রবেশে কাননে॥
অপরূপ শুনিয়াছি মুরলীর নাদ। শিখিব বিনোদ বাঁশী করিয়াছি সাধ॥
শিখাও পরাণ বন্ধু যতনে শিখিব। জানাইয়া দেহ ফুক্ মুরলীতে দিব॥
অঙ্গুলী লোলায়ে বন্ধু দেহ হাতে হাত। বাজাইতে শিখাইতে দেহ প্রাণনাথ॥
যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে নিশ্চয় করিয়া। জ্ঞানদাস কহে বাঁশী দেহ শিখাইয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঘরে হইতে শুনিয়াছি মুরলীর গান।
আহীর রমণীকুলে দিলুঁ সমাধান॥
হরিল সবার মন মুরলীর তানে।
সতী কুলবতী হেন বধিলে পরাণে॥
তোমার মুরলীরব শুনিয়া শ্রবণে।
যুবতি তেজিয়া পতি প্রবেশে কাননে॥
অপরূপ শুনিয়াছি মুরলীর নাদ।
শিখিব বিনোদ বাঁশী করিয়াছি সাধ॥
শিখাও পরাণ বন্ধু যতনে শিখিব।
জানাইয়া দেহ ফুক্ মুরলীতে দিব॥
অঙ্গুলি লোলায়ে বন্ধু দেহ হাতে হাত।
বাজাইতে শিখাইয়া দেহ প্রাণনাথ॥
যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে নিশ্চয় করিয়া।
জ্ঞানদাস কহে বাঁশী দেহ শিখাইয়া॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^