কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
আঁচরে মুখ শশি গোই ঘন রোয়সি
আঁচরে মুখশশী গোই ঘন রোয়সি
আচরে মুখশশী গোই ঘন রোয়সি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ বরাড়ী॥

আঁচরে মুখ শশি,     গোই ঘন রোয়সি,
কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিধর বর,     অবনত চলল,
যবছে মিলল বহু দূর॥
সখিহে কোঐছন মতি কেল।
সো-কাতর অতি,     তাহে তুহুঁ বিরকতি,
অতএ বিমুখ ভৈ গেল॥ ধ্রু।
নিজগণ বচন,     শ্রবণে নাহি শুনলি,
না বুঝি কয়ল তুহুঁ রোখে।
সে সব বাণী,     সাখী মোহে মিলল,
অতএ পাওসি অব দুখে॥
সো বহু বল্লভ,     জগজন দুর্লভ,
তেজলি নিজ মন সাধে।
জ্ঞানদাস কহ,     সখি তুহুঁ বিরমহ,
কাহে বাড়াওসি খেদে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ বরাড়ী॥

আঁচরে মুখশশী,     গোই ঘন রোয়সি,
কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিধর বর,     অবনত চলল,
যবছে মিলল বহু দূর॥
সখিহে, কো ঐছন মতি কেল।
সো কাতর অতি,     তাহে তুহুঁ বিরকতি,
অতএ বিমুখ ভৈ গেল॥
নিজগণ-বচন,     শ্রবণে নাহি শুনলি,
না বুঝি কয়ল তুহুঁ রোখে।
সে সব বাণী,     সাখী মোহে মিলল,
অতএ পাওসি অব দুঃখে॥
সো বহু বল্লভ,     জগজন-দুর্লভ,
তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহ,     সখি তুহুঁ বিরমহ,
কাহে বাড়াওসি খেদে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৩৭পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আঁচরে মুখ শশি     গোই ঘন রোয়সি
কহইতে কহন না ফূর।
সো গিরিবর-ধর     অনত চলল যব
তছু মীলন বহু দূর॥
সখী হে কো ঐছন মতি কেল।
সো কাতর অতি     তাহে তুহুঁ বিরকতি
অতয়ে বিমুখ ভই গেল॥
নিজগণ বচন     শ্রবণে নহি শূনলি
না বুঝি কয়লি তুহুঁ রোখে।
সে সব বাকি     সাখি মোহে মীলল
অতয়ে পাওসি এত দুখে॥
সো বহু-বল্লভ     জগজন দুর্ল্লভ
তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহ     সখি তুহুঁ বিরসহ
কাহে বাঢ়ায়সি খেদে॥

টীকা ---
গোই --- গোপন করিয়া, লুকাইয়া।
কহন না ফূর --- বচন ফুরে না ---- বাহির হয় না।
বিরকতি --- বিরক্ত।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা।
॥ বরাড়ী॥

আচরে মুখশশী     গোই ঘন রোয়সি
কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিধর বর     অবনত চলল
যবছে মিলল বহু দূর॥
সখিহে, কো ঐছন মতি কেল।
সো কাতর অতি     তাহে তুহু বিরকতি
অতএ বিমুখ ভৈ গেল॥
নিজগণ-বচন     শ্রবণে নাহি শুনলি
না বুঝি কয়ল তুহু রোখে।
সে সব বাণী     সাখী মোহে মিলল
অতএ পাওসি অব দুঃখে॥
সো বহু বল্লভ     জগজন-দুর্লভ
তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহে     সখি তুহু বিরমহ
কাহে বাড়াওসি খেদে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে এই রূপে।

দূতীর উক্তি
॥ বরাড়ী॥

আঁচরে মুখ-শশি     গোই ঘন রোয়সি
কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিবর ধর     অনত চলল যব
তছু মীলন বহু দূর॥
সখি হে কো ঐছন মতি কেল।
সো কাতর অতি     তাহে তুহু বিরকতি
অতয়ে বিমুখ ভই গেল॥ ধ্রু॥
নিজগণ-বচন     শ্রবণে নহি শূনলি
না ঝুঝি কয়লি তুহুঁ রোখে।
সে সব বাকি     সাখি মোহে মীলল
অতয়ে পাওসি এত দুখে॥
সো বহু-বলভ     জগজন-দুর্ল্লভ
তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহ     সখি তুহুঁ বিরমহ
কাহে বাঢ়ায়সি খেদে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি
॥ বরাড়ি॥

আঁচরে মুখশশি     গোই ঘন রোয়সি
কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিবরধর     অনত চলল যব
তছু মিলন বহু দূর॥
সখি হে কো ঐছন মতি দেল।
সো কাতর অতি     তাহে তুহুঁ বিরকতি
অতয়ে বিমুখ ভৈ গেল॥
নিজগণ-বচন     শ্রবণে নহি শূনলি
না বুঝি কয়লি তুহুঁ রোখে।
সো পরতেখ     সাখি মোহে মিলল
অতয়ে পাওসি এত দুখে॥
সো বহু-বল্লভ     জগজন-দুর্লভ
তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহ,     সখি তুহুঁ বিরমহ,
কাহে বাঢ়ায়সি খেদে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান (চ) গাঢ় মান
॥ বরাড়ি॥

আঁচরে মুখশশি   গোই ঘন রোয়সি   কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিবরধর   অনত চলল যব   তছু মিলন বহু দূর॥
সখি হে কো ঐছন মতি কেল।
সো কাতর অতি   তাহে তুহুঁ বিরকতি   অতয়ে বিমুখ ভৈ গেল॥
নিজগণ-বচন   শ্রবণে নহি শূনলি   না বুঝি কয়লি তুহুঁ রোখে।
সো পরতেখ   সাখি মোহে মিলল   অতয়ে পাওসি এত দুখে॥
সো বহু-বল্লভ   জগজন-দুর্লভ   তেজলি নিজ মন-সাধে।
জ্ঞানদাস কহ   সখি তুহুঁ বিরমহ,   কাহে বাঢ়ায়সি খেদে॥

টীকা---
আঁচলে মুখচন্দ্র লুকাইয়া রোদন করিতেছ, কহিতে বাক্যস্ফূর্তি হইতেছে না। সেই গোবর্ধনধারী যখন অন্যত্র চলিয়া গেল, তখন মিলন বহু দূরের কথা। সখি কে তোমার এমন মতি করিল? সে অতি কাতর তাহাতে তোমার বিরক্তি, অতএব বিমুখ হইয়া গেল। আপন জনের কথা কানে শুনিলে না, না বুঝিয়া রাগ করিলে, আমি তাহার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেখিতেছি--- (ইহারই প্রতিফলস্বরূপ) তুমি এত দুঃখ পাইতেছ। সে বহু বল্লত, জগজ জনের দূর্লভ, তাহাকে আপন মনের সাধে ত্যাগ করিলে। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, সখি, তুমি থাম কেন খেদ বাড়াইতেছ?

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আঁচরে মুখশশি গোই ঘন রোয়সি
        কহইতে কহন না ফুর।
সো গিরিবরধর অনত চলল যব
        তছু মিলন বহু দূর॥
সখি হে কো ঐছন মতি দেল।
সো কাতর অতি তাহে তুহুঁ বিরকতি
        অতয়ে বিমুখ ভৈ গেল॥
নিজগণ বচন শ্রবণে নাহি শূনলি
        না বুঝি কয়লি তুহুঁ রোখে।
সো পরতেখ সাখি মোহে মিলল
        অতয়ে পাওসি এত দুখে॥
সো বহু বল্লভ জগজন দুর্লভ
        তেজলি নিজ মন সাধে।
জ্ঞানদাস কহ সখি তুহুঁ বিরমহ
        কাহে বাঢ়ায়সি খেদে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^