কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সখী প্রতি কমলিনী বোলয়ে মধুর বাণী
দূতী প্রতি কমলিনী বোলয়ে মধুর বাণী

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাকুণ্ড মিলন।
॥ ধানশী॥

দূতী প্রতি কমলিনী,     বোলয়ে মধুর বাণী,
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখি,     দেখাও সে নীরজাঁখি,
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণ সখি,     মন্ত্রনা বলহ দেখি,
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
দূতী কহে শুন ধনি,     মোর নিবেদন বাণী,
পুনঃ দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি,     কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি,
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ড জলে।
তাহা শুনি রাই ধনী,     মৃদু মৃদু বলে বাণী,
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যাম কুণ্ড নীরে,     শ্যাম নাম হৃদে ধরে,
বধুঁ লাগি এ প্রাণ ত্যাজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন,     হেন কহ কি কারণ,
শ্যাম অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন।
॥ ধানশী॥

সখী প্রতি কমলিনী,
বোলয়ে মধুর বাণী
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখি,
দেখাও সে নীরজাঁখি,
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি,
মন্ত্রণা বলহ দেখি,
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
দূতী কহে শুন ধনি,
মোর নিবেদন বাণী,
পুনঃ দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি,
কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ড জলে।
তাহা শুনি রাই ধনী,
মৃদু মৃদু বলে বাণী,
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যাম কুণ্ড নীরে,
শ্যাম নাম হৃদে ধরে,
বন্ধু লাগি এ প্রাণ ত্যজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন,
হেন কহ কি কারণ,
শ্যাম অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ ধানশী॥

দূতী প্রতি কমলিনী, বোলয়ে মধুর
বাণী, মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম। তুমি
মোর প্রিয় সখি, দেখাও সে নীরজাখি,
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥ শুন শুন প্রাণ
সখি, মন্ত্রনা বলহ দেখি, কিসে পাই শ্রীনন্দ-
কুমার। দূতী কহে শুন ধনি, মোর
নিবেদন বাণী, পুনঃ দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি, কুঞ্জ ত্যজি গেল
চলি, প্রাণ দিব রাধাকুণ্ড জলে। তাহা
শুনি রাই ধনী, মৃদু মৃদু বলে বাণী, শ্যাম
যদি আমারে ত্যজিলে॥ আমি শ্যাম কুণ্ড
নীরে, শ্যাম নাম হৃদে ধরে, বধুঁ লাগি এ
প্রাণ ত্যাজিব। জ্ঞানদাস বলে শুন, হেন
কহ কি কারণ, শ্যাম অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের দৌত্য।
॥ ধানশী॥

দূতী প্রতি কমলিনী,     বোলয়ে মধুর বাণী,
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয়সখি,     দেখাও সে নীরজাঁখি,
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি,     মন্ত্রনা বলহ দেখি,
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
দূতী কহে শুন ধনি,     মোর নিবেদন বাণী,
পুনঃ দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি,     কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি,
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ডজলে।
তাহা শুনি রাই ধনী,     মৃদু মৃদু বলে বাণী,
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যামকুণ্ডনীরে,     শ্যাম নাম হৃদে ধরে,
বধুঁ লাগি এ প্রাণ ত্যাজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন,     হেন কহ কি কারণ,
শ্যাম-অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৪১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী প্রতি কমলিনী     বোলয়ে মধুর বাণী
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখী     দেখাও সে নীরজ আঁখি
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি     মন্ত্রণা বলহ দেখি
কিসে পাই শ্রীনন্দ কুমার।
সখী কহে শুন ধনি     মোর নিবেদন বাণী
পুন দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি     কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ড জলে।
তাহা শুনি রাই ধনী     কান্দি কান্দি বলে বাণী
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যাম কুণ্ড নীরে     শ্যামনাম হৃদে ধরে
বন্ধু লাগি এ প্রাণ তেজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন     হেন কহ কি কারণ
শ্যাম-অন্বেষণে চলে যাব॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের দৈত্য।
॥ ধানশী॥

দূতী প্রতি কমলিনী বোলয়ে মধুর বাণী
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখী দেখাও সে নীরজাঁখি
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি মন্ত্রণা বলহ দেখি
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
দূতী কহে শুন ধনি, মোর নিবেদন বাণী
পুন দেখা না পাইবে তার॥
শ্যামনাগর ইহা বলি, কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ডজলে।
তাহা শুনি রাই ধনী মৃদু মৃদু বলে বাণী
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যামকুণ্ডনীরে, শ্যামনাম হৃদে ধরে
বঁধু লাগি এ প্রাণ ত্যজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন হেন কহ কি কারণ
শ্যাম অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ ধানশী॥

সখী প্রতি কমলিনী     বোলয়ে মধুর বাণী
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখী     দেখাও সে নীরজ আঁখি
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি     মন্ত্রণা বলহ দেখি
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
সখী কহে শুন ধনি     মোর নিবেদনবাণী
পুন দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি     কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ডজলে।
তাহা শুনি রাই ধনী     কান্দি কান্দি বলে বাণী
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যামকুণ্ড-নীরে     শ্যাম নাম হৃদে ধরে
বন্ধু লাগি এ প্রাণ তেজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন     হেন কহ কি কারণ
শ্যামঅন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৫৪৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ ধানশী ললিত - দশকুশী॥

দূতী প্রতি কমলিনী     বোলয়ে মধুর বাণী,
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয়সখি,     দেখাহ সে গুণমণি,
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখী,     মন্ত্রণা বলহ দেখি,
কিসে পাই শ্রীনন্দ কুমার।
দূতী কহে শুন ধনি,     মোর নিবেদন বাণী,
পুন দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি,     কুঞ্জ তেজি গেল চলি,
প্রাণ দিব রাধা-কুণ্ড জলে।
তাহা শুনি রাই ধনী,     মৃদু মৃদু বলে বাণী,
শ্যাম যদি আমারে তেজিলে॥
আমি শ্যাম-কুণ্ড নীরে,     শ্যাম নাম হৃদে ধরে,
বন্ধু লাগি এ প্রাণ তেজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন,     হেন কহ কি কারণ,
শ্যাম অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
(ঙ) কলহান্তরিতা
॥ ধানশী॥

সখী প্রতি কমলিনী     বোলয়ে মধুর বাণী
মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখী     দেখাও সে নীরজ আঁখি
শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি     মন্ত্রণা বলহ দেখি
কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
সখী কহে শুন ধনি     মোর নিবেদন-বাণী
পুন দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি     কুঞ্জ ত্যজি গেল চলি
প্রাণ দিব রাধাকুণ্ড-জলে।
তাহা শুনি রাই ধনী     কান্দি কান্দি বলে বাণী
শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যামকুণ্ড-নীরে     শ্যাম নাম হৃদে ধরে
বন্ধু লাগি এ প্রাণ তেজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন     হেন কহ কি কারণ
শ্যাম-অন্বেষণে চল যাব॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী প্রতি কমলিনী বোলয়ে মধুর বাণী
        মোরে মিলাইয়া দেহ শ্যাম।
তুমি মোর প্রিয় সখী দেখাও সে নীরজ
        আঁখি শূন্যময় হেরি ব্রজধাম॥
শুন শুন প্রাণসখি মন্ত্রণা বলহ দেখি
        কিসে পাই শ্রীনন্দকুমার।
সখী কহে শুন ধনি মোর নিবেদনবাণী
        পুন দেখা না পাইবা তার॥
শ্যাম নাগর ইহা বলি কুঞ্জ ত্যজি গেল
        চলি প্রাণ দিব রাধাকুণ্ডজলে।
তাহা শুনি রাই ধনী কান্দি কান্দি বলে
        বাণী শ্যাম যদি আমারে ত্যজিলে॥
আমি শ্যামকুণ্ড নীরে শ্যাম নাম হৃদে
        ধরে বন্ধু লাগি এ প্রাণ তেজিব।
জ্ঞানদাস বলে শুন হেন কহ কি কারণ
        শ্যামঅন্বেষণে চল যাব॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^