কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
রস পরথাইতে আন আতঙ্কয়ে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৪১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রস পরথাইতে     আন আতঙ্কয়ে
অতিশয় আরত নাহা।
আপন মান ধনি     মনহি মেটাঞা
না করল কিছু নিরবাহা॥
শ্যাম সুনায়র     নায়রী চতুরা
দৈবে করাওল সঙ্গ।
গাহক-আদরে     কৃপণ-দান পড়ু
না পুরয়ে মনোভব-রঙ্গ॥
পহিরণ বাস     যব উদঘাটয়ে
ঝাঁপয়ে দিঠি-সন্ধানে।
মন্দ হাস মধু-     রাধর হেরইতে
হানয়ে মনমথ বাণে॥
সরস নিবেদন     পান্থজন জনু
বোলইতে বাসক আশে।
কানু সকাতর     রাই অনাদর
জ্ঞানদাস রস ভাষে॥

টীকা ---
নাথ শ্রীকৃষ্ণ অতিশয় আর্ত্ত হইলেও রাধার নিকট কেহ রসের প্রস্তাব করিতে ভয় পাইলেন। সুন্দরী নিজের মান নিজের মনেই রাখিলেন, বাহিরে কিছু প্রকাশ করিলেন না। সুনাগর শ্যামের সঙ্গে সুচতুরা নায়িকার দৈবে মিলন ঘটিল, কিন্তু গ্রাহকের আদর সত্ত্বেও রাধা কৃপণের মতন দান করিলেন, তাহাতে কান্তের মনের বাসনা পূর্ণ হইল না। যখন কৃষ্ণ রাধার পরিধেয় বসন খুলিতে গেলেন তখন কটাক্ষ শর নিক্ষেপ করিয়া রাধা নিজের দেহ আবৃত করিলেন। রাধার মন্দ মধুর হাসিযুক্ত অধর দেখিয়া কৃষ্ণ যেন মন্মথ শরে আহত হইলেন। মনে হয় যেন পথিকজন একটু বাসস্থান পাইবার আশায় সরস আবেদন জানাইতেছেন। জ্ঞানদাস রসের কথা বলিতেছেন যে একদিকে কানাই সকাতর অন্যদিকে রাই তাঁহার প্রতি অনাদর দেখাইতেছেন।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নাগরী বেশে শ্রীকৃষ্ণ
॥ ধানশী॥

রস পরথাইতে     আন আতঙ্কয়ে
অতিশয় আরত নাহা।
আপন মান ধনি     মনহি মেটাওল
না করল কিছু নিরবাহা॥
শ্যাম সুনায়র     নায়রী চতুর
দৈবে করাওল সঙ্গ।
গাহক আদরে     কৃপণ দান পড়ু
না পূরয়ে মনোভব রঙ্গ॥ ধ্রু॥
পহিরণ বাস     যব উদঘাটয়ে
ঝাঁপয়ে দিঠি-সন্ধানে।
মন্দ হাস     মধুরাধর হেরইতে
হানএ মনমথ বাণে॥
সরস নিবেদন     পান্থ জন জনু
বোলইতে বাসক আশে।
কানু সকাতর     রাই অনাদর
জ্ঞানদাস রস ভাষে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান লঘু মানান্ত মিলন
॥ ধানশী॥

রস পরথাইতে     আন আতঙ্কয়ে
অতিশয় আরত নাহা।
আপন মান বনি     মনহি মেটাএল
না করল কিছু নিরবাহা॥
শ্যাম সুনায়র     নায়রী চতুর
দৈবে করাওল সঙ্গ।
গাহক-আদরে     কৃপণ-দান পড়ু
না পূরয়ে মনোভব-রঙ্গ॥ ধ্রু॥
পহিরণ বাস     যব উদঘাটয়ে
ঝাঁপয়ে দিঠি-সন্ধানে।
মন্দ হাস মধু     রাধর হেরইতে
হানএ মনমথ বাণে॥
সরস নিবেদন     পান্থ জন জনু
বোলইতে বাসক আশে।
কানু সকাতর     রাই অনাদর
জ্ঞানদাস রস ভাষে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রস পরথাইতে আন আতঙ্কয়ে
        অতিশয় আরত নাহা।
আপন মান ধনি মনহি মেটাওল
        না করল কিছু নিরবাহা॥
শ্যাম সুনায়র নায়রী চতুরা
        দৈবে করাওল সঙ্গ।
গাহক আদরে কৃপণ দান পড়ু
        না পূরয়ে মনোভব রঙ্গ॥
পহিরণ বাস যব উদঘাটয়ে
        ঝাঁপয়ে দিঠি সন্ধানে।
মন্দ হাস মধুরাধর হেরইতে
        হানএ মনমথ বাণে॥
সরস নিবেদন পান্থ জন জনু
        বোলইতে বাসক আশে।
কানু সকাতর রাই অনাদর
        জ্ঞানদাস রস ভাষে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^