কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
না বুঝলু অন্তর কোপ নিরন্তর
না বুঝলুঁ অন্তর কোপ নিরন্তর
না বুঝিএ অন্তর কোপে নিরন্তর

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

না বুঝলু অন্তর,     কোপ নিরন্তর,
বচন না সঞ্চরে বয়ানে।
সহজই কমলিনী,     ভেল মলিন অতি,
ধারা শত শত নয়নে॥
মাধব ! রাধা বোধি না ভেল।
কত সমুঝাই,     চরণে ধরি বোললু,
তবহুঁ উতর নাহি দেল॥ ধ্রু।
সঘন নিশাস,     উদসল কুন্তল,
আকুল অতিশয় গোরী।
কনক মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত,
ঐছন ভেলি কত বেরি॥
তোহারি কেশ,     কুসুম, জল, তাম্বুল,
ধরল মো রাইক আগে।
কোপে কমল মুখী,     পালটি না হেরল,
মোহে হেরি রহল বিমুখে॥
এক কর মুঠি বান্ধি,     মুখ মুদল,
মোহে কহল পরিণামে।
জ্ঞানদাস কহ,     তুহুঁ ভালে সমুঝহ
নিরস না ভেল বয়ানে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ সুহই॥

না বুঝলু অন্তর,     কোপ নিরন্তর,
বচন না সঞ্চরে বয়ানে।
সহজই কমলিনী,     ভেল মলিন অতি,
ধারা শত শত নয়নে॥
মাধব রাধা বোধি না ভেল।
কত সমুঝাই,     চরণে ধরি বোললু,
তবহুঁ উতর নাহি দেল॥
সঘন নিশাস,     উদসল কুন্তল,
আকুল অতিশয় গোরী।
কনক মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত,
ঐছন ভেলি কত বেরি॥
তোহারি কেশ,     কুসুম, জল, তাম্বুল,
ধরল মো রাইক আগে।
কোপে কমল মুখী,     পালটি না হেরল,
মোহে হেরি রহল বিমুখে॥
এক কর মুঠি বান্ধি,     মুখ মুদল,
মোহে কহল পরিণামে।
জ্ঞানদাস কহ,     তুহুঁ ভালে সমুঝহ
নিরস না ভেল বয়ানে॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ সুহই॥

না বুঝলু অন্তর, কোপ নিরন্তর, বচন
না সঞ্চরে বয়ানে। সহজই কমলিনী, ভেল
মলিন অতি, ধারা শত শত নয়নে॥ মাধব
রাধা বোধি না ভেল। কত সমুঝাই, চরণে
ধরি বোললু, তবহুঁ উতর নাহি দেল॥ সঘন
নিশ্বাস, উদসল কুন্তল, আকুল অতিশয়
গোরী। কনক মুকুর নিয়ড়ে জনু মরকত,
ঐছন ভেলি কত বেরি॥ তোহারি কেশ,
কুসুম, জল, তাম্বুল, ধরল মো রাইক
আগে। কোপে কমল মুখী, পালটি না
হেরল, মোহে হেরি রহল বিমুখে॥ এক
কর মুঠি বান্ধি, মুখ মুদল, মোহে কলহ
পরিণামে। জ্ঞানদাস কহ, তুহুঁ ভালে
সমুঝহ নিরস না ভেল বয়ানে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

না বুঝলুঁ অন্তর,     কোপ নিরন্তর,
বচন না সঞ্চরে বয়ানে।
সহজই কমলিনী,     ভেল মলিন অতি,
ধারা শত শত নয়নে॥
মাধব ! রাধা বোধি না ভেল।
কত সমুঝাই,     চরণে ধরি বোললু,
তবহুঁ উতর নাহি দেল॥
সঘন নিশাস,     উদসল কুন্তল,
আকুল অতিশয় গোরী।
কনক-মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত,
ঐছন ভেলি কত বেরি॥
তোহারি কেশ,     কুসুম, জল, তাম্বুল,
ধরল মো রাইক আগে।
কোপে কমল মুখী,     পালটি না হেরল,
মোহে হেরি রহল বিমুখে॥
এক কর মুঠি,     বান্ধি মুখ মুদল,
মোহে কহল পরিণামে।
জ্ঞানদাস কহ,     তুহুঁ ভালে সমুঝহ,
নীরস না ভেল বয়ানে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, মান, ২৪৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না বুঝলু অন্তর     কোপ নিরন্তর
বচন না সঞ্চরে বয়ানে।
সহজই কমলিনী     ভেল মলিন অতি
ধারা শত শত নয়নে॥
মাধব ! রাধা বোধি না ভেল।
কত সমুঝাই     চরণে ধরি বোললু
তবহু উতর নাহি দেল॥ ধ্রু॥
সঘন নিশ্বাস     উদসল কুন্তল
আকুল অতিশয় গোরী।
কনক মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত
ঐছন ভেলি কত বেরি॥
(তোহারি কেশ     কুসুম জল তাম্বুল
ধরল মো রাইক আগে।
কোপে কমলমুখী     পালটি না হেরল
মোহে হেরি রহল বিমুখে॥)
এক কর মুঠি বান্ধি     মুখ মুদল
মোহে কহল পরিণামে।
জ্ঞানদাস কহ     তুহুঁ ভালে সমুঝহ
নিরস না ভেল বয়ানে॥

টীকা ---
বোধি না ভেল --- প্রবোধ মানিল না, বুঝিল না।
তোহারি কেশ ইত্যাদি --- নায়কের মিনতি ও ক্ষমা প্রার্থনা জানাইবার জন্য তাঁহার কয়েকটি কেশ, পুষ্প, জল ও পান নায়িকার সামনে দূতী রাখিলেন।

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

না বুঝলু অন্তর     কোপ নিরন্তর
বচন না সঞ্চরে বয়ানে।
সহজই কমলিনী     ভেল মলিন অতি
ধারা শত শত নয়নে॥
মাধব, রাধা বোধি না ভেল।
কত সমুধাই     চরণ ধরি বোললু
তবহুঁ উতর নাহি দেল॥
সঘন নিশান     উদসল কুন্তল
আকুল অতিশয় গোরী॥
কনক-মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত
ঐছন ভেলি কত বেরি।
তোহারি কেশ     কুসুম জল তাম্বূল
ধরল মো রাইক আগে।
কোপে কমল মুখে     পালটি না হেরল
মোহে হেরি রহল বিমুখে॥
এক কর মুঠি     বান্ধি মুখ মুদল
মোহে কয়ল পরিণামে।
জ্ঞানদাস কহ,     তুহুঁ ভালে সমুঝহ
নীরস না ভেল বয়ানে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ সুহই॥

না বুঝিএ অন্তর     কোপে নিরন্তর
বচন না সঞ্চরু বয়ানে।
সহজই কোঙলি     মলিনি ভেল অতিশয়
ধারা শত ঝরু নয়ানে॥
মাধব রাধা পরবোধ না ভেল।
কতএ বিচারি     চরণ ধরি বোললুঁ
তবহুঁ উত্তর নাহি দেল॥ ধ্রু।
সঘন নিশাস     উদাসল কুন্তল
আকুল পুন পুন গোরি॥
কনক মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত
ঐছন ভেলি কত বেরি।
এক কর মুঠি     বান্ধি মুখ মুদল
মোহে কয়ল পরণামে।
জ্ঞানদাস কহ     মনহি বিচারহ
নিরস না ভেল পরিণামে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ২৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

না বুঝিএ অন্তর     কোপে নিরন্তর
বচন না সঞ্চরু বয়ানে।
সহজই কোঙলি     মলিনি ভেল অতিশয়
ধারা-শত ঝরু নয়নে॥
মাধব, রাধা পরবোধ না ভেল।
কতএ বিচারি     চরণ ধরি বোললুঁ
তবহুঁ উত্তর নাহি দেল॥ ধ্রু॥
সঘন নিশাস     উদাসল কুন্তল
আকুল পুন পুন গোরি॥
কনক মুকুর     নিয়ড়ে জনু মরকত
ঐছন ভেলি কত বেরি।
এক কর মুঠি     বান্ধি মুখ মুদল
মোহে কয়ল পরণামে।
জ্ঞানদাস কহ     মনহি বিচারহ
নিরস না ভেল পরিণামে॥

টীকা---
মর্মকথা বুঝিতে পারি না। নিবিড় ক্রোধে (তাহার) মুখে বাক্য নিঃসৃত হইতেছে না। স্বভাবতঃই কোমল দেহ (মানে) অতিশয় মলিন হইয়াছে, নয়নে শতধারা বহিতেছে। মাধব, রাধা প্রবোধ মানিল না। পায়ে ধরিয়া কত যুক্তি দ্বারা বুঝাইলাম, তথাপি উত্তর দিল না। সঘনে নিঃশ্বাস, আলুথালু চুল, গৌরী বারে বারে অস্থির হইয়া উঠিতেছে। (এলায়িত কৃষ্ণ কেশদাম মুখের উপর আসিয়া পড়ায়) কনক-দর্পণের নিকট যেমন মরকত রাশি, এমনি কতবার হইল। এক কর মুষ্টিবদ্ধ করিয়া মুখ বন্ধ করিল, আমাকে প্রণাম করিল। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, মনে বিচার করিয়া দেখ, পরিণাম নীরস নহে। (কর পদ্মের সহিত এবং মুখ চন্দ্রের সহিত তুলনীয়। কর মুষ্টিবদ্ধ করিয়া মুখ বন্ধ করার অর্থ --- পদ্মকে মুদ্রিত ও চন্দ্রকে অস্তমিত করিতে হইবে। অর্থাৎ পদ্মা ও চন্দ্রাবলীর সঙ্গে সম্বন্ধ বন্ধ করিতে হইবে। পদ্মাই চন্দ্রাবলীর প্রধানা সখী--মন্ত্রণায় একমাত্র অবলম্বন। দূতীকে প্রণাম করার অর্থ --- দূতীকেই এই কার্যে অগ্রবর্তিনী হইতে হইবে। অর্থাৎ --- “ওগো দূতি, তোমাকে প্রণাম, তুমি আমার অভীষ্ট সাধন করিয়া আবার আসিও”)।

১ --- তাহার সমস্ত অনমনীয় মনোভাব ও শ্লেষাত্মক আচরণের মধ্যে যে ছদ্মবেশী অনুকুলতার আভাস না পাওয়া যাইতেছিল তাহা নহে।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না বুঝিএ অন্তর কোপে নিরন্তর
        বচন না সঞ্চরু বয়ানে।
সহজই কোঙলি মলিনি ভেল অতিশয়
        ধারা শত ঝরু নয়ানে॥
মাধব রাধা পরবোধ না ভেল।
কতএ বিচারি চরণ ধরি বোললুঁ
        তবহুঁ উতর নাহি দেল॥
সঘন নিশাস উদাসল কুন্তল
        আকুল পুন পুন গোরি॥
কনক মুকুর নিয়ড়ে জনু মরকত
        ঐছন ভেলি কত বেরি।
এক কর মুঠি বান্ধি মুখ মুদল
        মোহে কয়ল পরণামে।
জ্ঞানদাস কহ মনহি বিচারহ
        নিরস না ভেল পরিণামে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^