কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
হরি পরদেশ বেশ গেল দূর
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ সালে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, প্রবাস, ২৪৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হরি পরদেশ বেশ গেল দূর।
হাস পরিহাস সবহুঁ গেল চূর॥
হিমকর উগইতে দিনকর তেজ।
নলিনী বিছাইতে কন্টক সেজ॥
এ সখি এ সখি কু দিবস লাগি।
হাত-রতন খসে কমল অভাগি॥
মৃগমদ চন্দন লেপন বীখ।
মন্দ পবন তাহে বাড়ব শীখ॥
শবরী পবিত ভেল সময় বসন্ত।
মনমথ পিশুনে কয়ল জিউ অন্ত॥
রতন হার গুরুয়া ভেল ভার।
দিনে দিনে সেহ দেহ অভিসার॥
বিহি কয়ল মোহে হাহাকার।
জ্ঞানদাস কহে বড় অবিচার॥
হাস পরিহাস সবহুঁ গেল চূর॥
হিমকর উগইতে দিনকর তেজ।
নলিনী বিছাইতে কন্টক সেজ॥
এ সখি এ সখি কু দিবস লাগি।
হাত-রতন খসে কমল অভাগি॥
মৃগমদ চন্দন লেপন বীখ।
মন্দ পবন তাহে বাড়ব শীখ॥
শবরী পবিত ভেল সময় বসন্ত।
মনমথ পিশুনে কয়ল জিউ অন্ত॥
রতন হার গুরুয়া ভেল ভার।
দিনে দিনে সেহ দেহ অভিসার॥
বিহি কয়ল মোহে হাহাকার।
জ্ঞানদাস কহে বড় অবিচার॥
টীকা ---
হিমকর উগইতে দিনকর তেজ --- চাঁদের জ্যোত্স্না রৌদ্রের মতন দেহ ঝলসাইয়া দিতেছে।
নলিনী বিছাইতে কন্টক সেজ --- সখীরা বিরহসন্তাপ দূর করিবার জন্য নলিনীদল বিছাইয়া দেন, কিন্তু উহা কন্টক শয্যা বলিয়া মনে হয়।
মৃগমদচন্দন লেপন বীখ --- কস্তূরী ও চন্দন লেপন করিলে এসব বিষতুল্য মনে হয়
শবরী --- শর্ব্বরী, রাত্রি।
পবিত ভেল --- পবিত্র হইল।
পিশুন --- দুষ্ট।
কয়ল জিউ অন্ত --- জীবন শেষ করিল।
রতনহার গুরুয়া ভেল ভাব --- রত্নহারও অত্যন্ত ভার বোধ হইতেছে।
দিনে দিনে সেহ দেহ অভিসার --- দেহ যেমন ক্ষীণ হইতেছে তেমনি হারও সরু করানো হইতেছে।
*********************
হিমকর উগইতে দিনকর তেজ --- চাঁদের জ্যোত্স্না রৌদ্রের মতন দেহ ঝলসাইয়া দিতেছে।
নলিনী বিছাইতে কন্টক সেজ --- সখীরা বিরহসন্তাপ দূর করিবার জন্য নলিনীদল বিছাইয়া দেন, কিন্তু উহা কন্টক শয্যা বলিয়া মনে হয়।
মৃগমদচন্দন লেপন বীখ --- কস্তূরী ও চন্দন লেপন করিলে এসব বিষতুল্য মনে হয়
শবরী --- শর্ব্বরী, রাত্রি।
পবিত ভেল --- পবিত্র হইল।
পিশুন --- দুষ্ট।
কয়ল জিউ অন্ত --- জীবন শেষ করিল।
রতনহার গুরুয়া ভেল ভাব --- রত্নহারও অত্যন্ত ভার বোধ হইতেছে।
দিনে দিনে সেহ দেহ অভিসার --- দেহ যেমন ক্ষীণ হইতেছে তেমনি হারও সরু করানো হইতেছে।
*********************
