কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
নিতিনিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে
কবি জ্ঞানদাস
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, ৬ষ্ঠ ক্ষণদা---কৃষ্ণা ষষ্ঠী, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধা প্রাহ
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেণে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতীর
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই! কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইনু তার আঁখি-ঠারে॥ ধ্রু॥
শ্যাম চিকণিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কি জানিবে তাহার চরিত॥
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেণে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতীর
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই! কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইনু তার আঁখি-ঠারে॥ ধ্রু॥
শ্যাম চিকণিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কি জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ ধ্রু
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিচিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়, সে বা কোন দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ ধ্রু
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিচিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়, সে বা কোন দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই,
এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল,
নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক,
মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে,
রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিচিত ঠাম,
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়,
না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই,
এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল,
নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক,
মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে,
রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিচিত ঠাম,
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়,
না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু
দেখি নাই, কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী, কলঙ্ক
আগে আগে চলে॥ বড়ি মাই কি দেখিনু
যমুনার ধারে। কালিয়া বরণ এক, মানুষ
আকার গো, বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকণিয়া দে, রসে নিরমিল কে, প্রতি
অঙ্গে ঝলকে দাপুনি। ভুবন বিচিত ঠাম,
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম, কান্দে কত কুলের
রমণী॥ না জানি না শুনি তায়, সেবা কোন
দেবতায়, তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়, কে
জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু
দেখি নাই, কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী, কলঙ্ক
আগে আগে চলে॥ বড়ি মাই কি দেখিনু
যমুনার ধারে। কালিয়া বরণ এক, মানুষ
আকার গো, বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকণিয়া দে, রসে নিরমিল কে, প্রতি
অঙ্গে ঝলকে দাপুনি। ভুবন বিচিত ঠাম,
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম, কান্দে কত কুলের
রমণী॥ না জানি না শুনি তায়, সেবা কোন
দেবতায়, তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়, কে
জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই, কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ ধ্রু
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি-অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন-বিচিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন্ দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই, কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ ধ্রু
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি-অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন-বিচিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন্ দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতিনিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেণে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতীর
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই ! কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইনু তার আঁখি-ঠারে॥ ধ্রু॥
শ্যাম চিকণিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কি জানিবে তাহার চরিত॥
কি খেণে বাড়াইনু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতীর
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই ! কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইনু তার আঁখি-ঠারে॥ ধ্রু॥
শ্যাম চিকণিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কি জানিবে তাহার চরিত॥
টীকা---
কলঙ্ক আগে আগে চলে --- কুলবতীদের কি মুস্কিল ! তাহারা কোথায় যাইবার আগেই তাহাদের গুরুগৌরব ধ্বংস করিতে এবং কুল নাশ করিবার জন্য কলঙ্ক যেন আগে আগে চলে।
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে --- তাহার নয়নের ইঙ্গিতে আমি যেন বিক্রিত হইয়া গেলাম।
ঝলকে দাপনি --- প্রতি অঙ্গে যেন দর্পণ ঝলমল করে --- এমন মসৃণ অঙ্গ।
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম --- সেই সৌন্দর্য্য দেখিয়া কামদেবও যেন কাঁপিয়া উঠেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কলঙ্ক আগে আগে চলে --- কুলবতীদের কি মুস্কিল ! তাহারা কোথায় যাইবার আগেই তাহাদের গুরুগৌরব ধ্বংস করিতে এবং কুল নাশ করিবার জন্য কলঙ্ক যেন আগে আগে চলে।
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে --- তাহার নয়নের ইঙ্গিতে আমি যেন বিক্রিত হইয়া গেলাম।
ঝলকে দাপনি --- প্রতি অঙ্গে যেন দর্পণ ঝলমল করে --- এমন মসৃণ অঙ্গ।
দেখিয়া কাঁপয়ে কাম --- সেই সৌন্দর্য্য দেখিয়া কামদেবও যেন কাঁপিয়া উঠেন।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইলু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিদিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন্ দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই,
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল, নাশয়িতে কুলবতী,
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়ি মাই কি দেখিনু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো,
বিকাইলু তার আঁখি ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে, রসে নিরমিল কে,
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপুনি।
ভুবন বিদিত ঠাম, দেখিয়া কাঁপয়ে কাম,
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায়,
সে বা কোন্ দেবতায়,
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয়, না করিলে পরিচয়,
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেণে বাড়াইলুঁ পা জলে।
গুরুয়া---গরব কুল নাশয়িতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই, কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া-বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
শ্যাম-চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দামিনী।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
কি খেণে বাড়াইলুঁ পা জলে।
গুরুয়া---গরব কুল নাশয়িতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই, কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া-বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
শ্যাম-চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দামিনী।
ভুবন-বিচিত্র ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঞি সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৩৬৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের, শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বরাড়ী॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখি-ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-মোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলু যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখি-ঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-মোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পূর্বরাগ
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিরাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলুঁ পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কান্দয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার পিরীত॥
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিরাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলুঁ পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কান্দয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সে বা কোন দেবতায়
তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার পিরীত॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি
নাই কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সেবা কোন
দেবতায় তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি
নাই কি খেনে বাড়াইলু পা জলে।
গুরুয়া গরব কুল নাশইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে চলে॥
বড়িমাই কি দেখিলুঁ যমুনার ধারে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥
শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবনমোহন ঠাম দেখিয়া কাঁপয়ে কাম
কান্দে কত কুলের রমণী॥
না জানি না শুনি তায় সেবা কোন
দেবতায় তেঁই সে তাহার হেন রীত।
জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার চরিত॥
এই পদটি, যদু ভণিতায়, ও প্রথম কলি --- "কি পেখলুঁ যমুনার তীরে" সহ, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের ( ১৯১৫ সাল ) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ---সবিস্তার, ১৪৭ নং পদসংখ্যা, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তুড়ী॥
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ন বাণ মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥
*********************
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ন বাণ মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥
*********************
