কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
পহিলহিঁ রাধা মাধব মেলি
পহিলহি রাধা মাধব মেলি

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ খৃষ্টাব্দে, হরিবল্লভ বা বল্লভ ভণিতার পদকর্তা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দ্বারা সংকলিত এবং ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯৩৮ খৃষ্টাব্দ) রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত "শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি" গ্রন্থের, বিংশ ক্ষণদা---শুক্লা পঞ্চমী, ১৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে গোবিন্দদাসের ভণিতায় দেওয়া রয়েছে, যা আমরা নীচে তুলে দিয়েছি।

॥ ভূপালী॥

পহিলহিঁ রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনত-বয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী॥
অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়ান॥
রস-লব-লেশ দেখাওলি গোরী।
পাওল রতন পুন লেওলি চোরী॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইকো চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশি মুখ ঝাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘটভরি পাওল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রীতি-আশ।
জ্ঞান দাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ ভূপালী॥

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনত বয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী॥
অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়ান॥
রস নবলেশ দেখায়লি গোরী।
পায়লি রতন পুনঃ লেয়লি ছোড়ি॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইক চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশই মুখ কাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘটভরি পায়ল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রীতি আশ।
জ্ঞানদাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ ভূপালী॥

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনত বয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী॥
অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়ান॥
রস নবলেশ দেখায়লি গোরী।
পায়লি রতন পুনঃ লেয়লি ছোড়ি॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইক চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশই মুখ কাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘটভরি পায়ল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রীতি আশ।
জ্ঞানদাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৭৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান।
॥ ভূপালী॥

পহিলহি রাধা মাধব মেলি। পরিচয়
দুলহ দূরে রহু কেলি॥ অনুনয় করইতে
অবনত বয়নী। চকিত বিলোকি নখ লেখই
ধরণী॥ অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়ান॥ রস নবলেশ
দেখায়লি গোরী। পায়লি রতন পুনঃ
লেয়লি ছোড়ি॥ বিদগধ মাধব অনুভব
জানি। রাইক চরণে পসারল পাণি॥ হাসি
দরশই মুখ কাঁপই গোই। বাদরে শশী জনু
বেকত না হোই॥ করে কর বারিতে উপ-
জল প্রেম। দারিদ ঘটভরি পায়ল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়উ প্রীতি আশ। জ্ঞানদাস
কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান ॥ ভূপালী॥

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনতবয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী
অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়ান॥
রস নবলেশ দেখায়লি গোরী।
পায়লি রতন পুন লেয়লি ছোড়ি॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইক চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশই মুখ কাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘটভরি পায়ল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রীতি-আশ।
জ্ঞানদাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রাহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনত-বয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী॥
অঞ্চল পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই করল পদ আধ পয়ান॥
(রসলবলেশ দেখাওলি গোরী।
পাওল রতন পুন লেওলি চোরী ॥)
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইকো চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশি মুখ ঝাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর করিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘট ভরি পাওল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রতি-আশ।
জ্ঞানদাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

টীকা---
রাধার সঙ্গে মাধবের প্রথম মিলন। কেলিবিলাস দূরে থাকুক উভয়ের কুশল সম্ভাষণাদিও দুর্ল্লভ হইয়াছে (রাধার সঙ্কোচজন্য)। মাধব তাঁহাকে অনুনয় করিতে রাধা মুখ নীচু করিলেন ; তিনি চকিত নয়নে একবার দেখিয়াই লজ্জাসঙ্কোচে বিবশ হইয়া পায়ের নখ দিয়া মাটিতে দাগ কাটিতে লাগিলেন। চঞ্চল কানাই যখন তাঁহার অঞ্চল স্পর্শ করিতে গেলেন তখন রাধা আধ পা সরিয়া গেলেন। তারপর রাধা যেই একটু রসকলা দেখাইয়া আবার সংযত হইলেন, তখন মাধবের মনে হইল যেন হারানো রত্ন ফেরত পাওয়া মাত্র আবার চুরি হইয়া গেল। মাধব রসিক ব্যক্তি, তাই রাধার ভাব বুঝিতে পারিয়া তাহার চরণে হাত বাড়াইলেন। রাধা একটু হাসিয়া তত্ক্ষণাৎ ঘোমটা টানিয়া দিয়া মুখ লুকাইলেন, যেন বর্ষাকালে চাঁদ ব্যক্ত হইয়াও হয় না। রাধা হাত দিয়া মাধবের হাত ঠেকাইতে গেলেন, তাহাতে যে স্পর্শসুখের অনুভব হইল তাহার ফলে প্রেম জাগিল। মাধবের মনে হইল যেন দরিদ্রজন ঘট ভরিয়া সোনা পাইল। নূতন অনুরাগ, প্রত্যাশা বাড়িয়া উঠিল। জ্ঞানদাস বলেন এই প্রত্যাশা সহজে মিটিবার নহে, কেন না পিপাসা গুরুতর।

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৪৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ ভূপালী॥

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনতবয়নী।
চকিত বিলোকি নখ লেখই ধরণী॥
অঞ্চলে পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই কয়ল পদ আধ পয়াণ॥
রস নবলেশ দেখায়লি গোরী।
পায়লি রতন পুন লেয়লি ছোড়ি॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইক চরণে পসারল পাণি॥
হাসি দরশই মুখ কাঁপই গোই।
বাদরে শশী জনু বেকত না হোই॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘটভরি পায়ল হেম॥
নব অনুরাগ বাঢ়ল প্রীতি-আশ।
জ্ঞানদাস কহে গুরুয়া পিয়াস॥

এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখার, ২য় পল্লব শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৫২নং-পদসংখ্যা, ৩৯-পৃষ্ঠায়, গোবিন্দদাসের ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পহিলহি রাধা মাধব মেলি।
পরিচয় দুলহ দূরে রাহু কেলি॥
অনুনয় করইতে অবনত-বয়নী।
চকিত বিলোকি নখে লিখু ধরণী॥
অঞ্চল পরশিতে চঞ্চল কান।
রাই করল পদ আধ পয়ান॥
বিদগধ মাধব অনুভব জানি।
রাইকো চরণে পসারল পাণি॥
করে কর বারিতে উপজল প্রেম।
দারিদ ঘট ভরি পাওল হেম॥
হাসি দরশি মুখ আগোরলি গোরি।
দেই রতন পুন লেয়লি চোরি॥
ঐছন নিরুপম পহিল বিলাস।
আনন্দে হেরত গোবিন্দদাস॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^