কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
চলিতে না পার রসের ভরে
চলিতে না পারে রসের ভরে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ) গ্রন্থের, ২৬৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ বরাড়ী॥

চলিতে না পারো রসের ভরে।  আলস নয়ান অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও। আনছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে। আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গ। তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গ॥
কালা বরণ দেখি চমকি চাও। ভাবে বিয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পূলক বেকত দেখি। প্রেম কলেবর সতত সাখী॥
জ্ঞানদাস অনুভবিয়া গায়। রসের বেভার লুকান না যায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৬৭৩-নং পদসংখ্যা, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আদৌ সখ্যুক্তিঃ।
॥ বরাড়ী॥

চলিতে না পার রসের ভরে।
আলস নয়ান অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরিতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গে॥
কালা বরণ দেখি চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বরাড়ী॥

চলিতে না পারে রসের ভরে।
আলস নয়ানে অলস ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিএ কিবা অন্তর সুখে।
আচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥
মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গ।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গ॥
কালর বদন চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখি॥
জ্ঞানদাস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, সংগীত-সার-সংগ্রহ, ১ম খণ্ড, ১৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বিভাস॥

চলিতে না পারে রসের ভরে।
আলস নয়ানে অলস ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিএ কিবা অন্তর সুখে।
আচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥
মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গ।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গ॥
কালর বদন চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখি॥
জ্ঞানদাস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ বিভাস॥

চলিতে না পারে রসের ভরে।
আলস নয়ানে অলস ঝরে॥ ঘন ঘন তুমি
বাহিরে যাও। আন ছলে কত কথা
বুঝাও॥ না জানিএ কিবা অন্তর সুখে।
আচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥ মরমে
পিরীতি বেকত অঙ্গ। তিলেক সোয়াথ
না দেয় অনঙ্গ॥ কালর বদন চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥ কপোলে
পুলক বেকত দেখি। প্রেম কলে'র
ততহিঁ সাথি॥ জ্ঞানদাস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

চলিতে না পারি রসের ভরে।
আলস নয়ানে অলস করে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিএ কিবা অন্তর সুখে।
আচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥
মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গ।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গ॥
কালর বদন চমকি চাও।
ভাবে বেয়াক ওর না পাও॥
কপোলে তিলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীরাধার পূর্বরাগ, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ

চলিতে না পার রসের ভরে।
আলস নয়ন অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহির যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানি কি আর অন্তর সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥ ধ্রু॥
মরম পিরিতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক শোয়াস্ত না দেয় অনঙ্গে॥
কালবদন দেখি চমকি চাও।
ভাবেতে আকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর সতত সাখি॥
জ্ঞানদাস অনুভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

টীকা--
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে --- আঁচলে সোনা বাঁধা থাকিলে মুখের দীপ্তি দেখিলেই বুঝা যায়।
ওর না পাও ---সীমা পাও না
সতত সাখি --- সব সময়ে সাক্ষ্য দিতেছে।

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

চলিতে না পার রসের ভরে।
আসল নয়ানে অলস করে॥

ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥

না জানিএ কিবা অন্তর সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলকে মুখে॥

মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গ।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গ॥

কালর বদন চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥

কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখী॥

জ্ঞানদাস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
সখীর উক্তি
॥ বরাড়ী॥

চলিতে না পার রসের ভরে।
আলস নয়ান অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরিতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গে॥
কালা বরণ দেখি চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেমকলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে (১৩৬০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬০৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
সখীর উক্তি।
॥ সুহিনী - নন্দন তাল॥

চলিতে না পারে রসের ভরে।
আলসে নয়ান অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরিতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গে॥
কালাবরণ দেখি চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোল পুলক বেকত দেখি।
প্রেম কলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ বরাড়ী॥

চলিতে না পার রসের ভরে।
আলস নয়ান অলপ ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরিতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গে॥
কালা বরণ দেখি চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেমকলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

টীকা---
রসের ভয়ে চলিতে পার না । অলস নয়নে প্রকাশিত অল্প আনন্দাশ্রু। ঘন ঘন বাহিরে যাইতেছ। আন ছলে কত কথা বুঝাইতেছ। না জানি অন্তরে কিবা সুখ পাইয়াছ। আঁচলে সোনা বাঁধা থাকিলে তার ঝলক (আনন্দরূপে) যেমন মুখে প্রকাশ পায় (তোমারও তেমনই দেখিতেছি)। মর্মের পিরীতি অঙ্গে ব্যক্ত হইতেছে। কামদেব তোমাকে তিলেক সোয়াস্তি দিতেছে না। কালো বরণ দেখিয়া চমকি চাহিতেছ। ভাবে ব্যাকুল, দিশা খুঁজিয়া পাইতেছ না। কপোল পুলকাকুল দেখিতেছি। কলেবরই প্রেমের সাক্ষী দিতেছে। জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গাহিতেছেন--- রসের ব্যবহার লুকানো যায় না।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চলিতে না পার রসের ভরে।
আলস নয়ান আপনি ঝরে॥
ঘন ঘন তুমি বাহিরে যাও।
আন ছলে কত কথা বুঝাও॥
না জানিয়ে কিবা অন্তরে সুখে।
আঁচরে কাঞ্চন ঝলক মুখে॥
মরমে পিরীতি বেকত অঙ্গে।
তিলেক সোয়াথ না দেয় অনঙ্গে॥
কালা বরণ দেখি চমকি চাও।
ভাবে বেয়াকুল ওর না পাও॥
কপোলে পুলক বেকত দেখি।
প্রেমকলেবর ততহিঁ সাখী॥
জ্ঞানদাস রস ভাবিয়া গায়।
রসের বেভার লুকা না যায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^