কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
পরাণ বন্ধুকে স্বপনে দেখিলুঁ
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বপ্নরসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥

পরাণবন্ধুকে     স্বপনে দেখিলুঁ
বসিয়া শিয়র পাশে।
নাশার বেশর     পরশ করিয়া
ঈষত মধুর হাসে॥
পিয়ল বরণ     বসন খানিতে
মুখানি আমার মোছে।
শিথান হইতে     মাথাটি বাহুতে
রাখিয়া শুতল কাছে॥
মুখে মুখ দিয়া     সমান হইয়া
বন্ধুয়া কবল কোরে।
চরণ উপরে     চরণ পসারি
পরাণ পাইলুঁ বোলে॥
অঙ্গপরিমল     সুগন্ধি চন্দন
কুঙ্কুমকস্তুরী পারা।
পরশ করিতে     রস উপজিল
জাগিয়া হইলুঁ হারা॥
কপোত পাখীরে     চকিতে বাঁটুল
বাজিলে যেমন হয়।
জ্ঞানদাস কহে     এমতি হইলে
আর কি পরাণ রয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥

পরাণ-বন্ধুকে     স্বপনে দেখিলুঁ
বসিয়া শিয়র পাশে।
নাশার বেশর     পরশ করিয়া
ঈষত মধুর হাসে॥
পিয়ল বরণ     বসনখানিতে
মুখানি আমার মোছে।
শিথান হইতে     মাথাটি বাহুতে
রাখিয়া শুতল কাছে॥
মুখে মুখ দিয়া     সমান হইয়া
বন্ধুয়া কবল কোরে।
চরণ উপরে     চরণ পসারি
পরাণ পাইলুঁ বোলে॥
অঙ্গ-পরিমল     সুগন্ধি চন্দন
কুঙ্কুম-কস্তুরী পারা।
পরশ করিতে     রস উপজিল
জাগিয়া হইলুঁ হারা॥
কপোত পাখীরে     চকিতে বাঁটুল
বাজিলে যেমন হয়।
জ্ঞানদাস কহে     এমতি হইলে
আর কি পরাণ রয়॥

টীকা---
পরাণবন্ধুকে স্বপ্নে দেখিলাম। শিয়রের পাশে বসিয়াছে। আমার নাসার বেশর স্পর্শ করিয়া ঈশৎ মধুর হাসিতেছে। পিয়ল বরণের আপন বসনে আমার মখখানি মুছিতেছে। শিখান হইতে আমার মাথাটি নিজের বাহুতে রাখিয়া কাছে শুইল। মুখে মুখ দিয়া সমান হইয়া আমাকে কোলে করিল। পায়ের উপর পা পসারিয়া বলিল, প্রাণ পাইলাম। তাহার অঙ্গের গন্ধ সুগদ্ধি-চন্দন, কুমকুম ও কস্তুরীর মত। স্পর্শ করিতে আনন্দ উথলিল। জাগিয়া তাহাকে হারাইলাম। আচম্বিতে বাঁটুলের আঘাত বাজিলে কপোত পাখীর যেমন হয়, আমার তেমনই হইল। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, এমন হইলে কি আর প্রাণ থাকে?

এই পদটি পদকল্পতরুতে চণ্ডীদাসের নামে আছে। শেষ উপমাটি গ্রাম্য সরলতা, ইহার তীব্র ভাব-ব্যঞ্জনা, জ্ঞানদাস অপেক্ষা চণ্ডীদাসের রচনারীতিরই সহিত অধিক সাদৃশ্যবিশিষ্ট মনে হয়।

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৮১ পৃষ্ঠায় এইরূপে চণ্ডীদাসের ভণিতায় দেওয়া রয়েছে।

পরাণ বন্ধুকে     স্বপনে দেখিলুঁ
বসিয়া শিয়র পাশে।
নাসার বেশর     পরশ করিয়া
ঈষত মধুর হাসে॥
পিয়ল বরণ     বসন খানিতে
মুখানি আমার মোছে।
শিথান হইতে     মাথাটি বাহুতে
রাখিয়া শুতল কাছে॥
মুখে মুখ দিয়া     সমান হইয়া
বন্ধুয়া করল কোরে।
চরণ উপরে     চরণ পসারি
পরাণ পাইলুঁ বোলে॥
অঙ্গ পরিমল     সুগন্ধি চন্দন
কুঙ্কুম কস্তুরী পারা।
পরশ করিতে     রস উপজিল
জাগিয়া হইলুঁ হারা॥
কপোত পাখীরে     চকিতে বাঁটুল
বাজিলে যেমন হয়।
চণ্ডীদাস কহে     এমতি হইলে
আর কি পরাণ রয়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৩৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পরাণ বন্ধুকে স্বপনে দেখিলুঁ
        বসিয়া শিয়র পাশে।
নাসার বেশর পরশ করিয়া
        ঈষত মধুর হাসে॥
পিয়ল বরণ বসন খানিতে
        মুখানি আমার মোছে।
শিথান হইতে মাথাটি বাহুতে
        রাখিয়া শুতল কাছে॥
মুখে মুখ দিয়া সমান হইয়া
        বন্ধুয়া করল কোরে।
চরণ উপরে চরণ পসারি
        পরাণ পাইলুঁ বোলে॥
অঙ্গ পরিমল সুগন্ধি চন্দন
        কুঙ্কুমকস্তুরী পারা।
পরশ করিতে রস উপজিল
        জাগিয়া হইলুঁ হারা॥
কপোত পাখীরে চকিতে বাঁটুল
        বাজিলে যেমন হয়।
জ্ঞানদাস কহে এমতি হইলে
        আর কি পরাণ রয়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^