কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা বিলাস
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপি ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপি ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২১৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা বিহার।
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপি ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপি ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৫৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার।
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥ চরণ তরণী
যার, যে করে তোমারে সার, কিবা তার
পারের ভাবনা। পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ
মানবী তনু, কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল
সোণা॥ অজামিল পাপী ছিল, সেহত
তরিয়া গেল, চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥ আমরা আহীর
নারী, কুল শীল পরিহরি, হাসি হাসি
করিয়া কামনা। জ্ঞানদাসের বাণী, শুন
ওহে গুণমণি, কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার।
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥ চরণ তরণী
যার, যে করে তোমারে সার, কিবা তার
পারের ভাবনা। পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ
মানবী তনু, কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল
সোণা॥ অজামিল পাপী ছিল, সেহত
তরিয়া গেল, চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥ আমরা আহীর
নারী, কুল শীল পরিহরি, হাসি হাসি
করিয়া কামনা। জ্ঞানদাসের বাণী, শুন
ওহে গুণমণি, কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকাবিহার।
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক, কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী-তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক, কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবিধি, পার কর ভবনদী,
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার, যে করে তোমারে সার,
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু, পাষাণ মানবী-তনু,
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল, সেহত তরিয়া গেল,
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে, যাহার পরাণ যাবে,
নাহি তার যমের যন্ত্রনা॥
আমরা আহীর নারী, কুল শীল পরিহরি,
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী, শুন ওহে গুণমণি,
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৮৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবধি পার কার ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার যে করে তোমারে সার
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা ---- পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যন্ত্রণা॥
আমরা আহীর নারী কুলশীল পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
নাম নৌকায় নিরবধি পার কার ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার যে করে তোমারে সার
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা ---- পদে হইল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যন্ত্রণা॥
আমরা আহীর নারী কুলশীল পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
মন্তব্য ---
নৌকাবিলাসের এ ধরণের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা : গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের রসশাস্ত্রের বিরোধী। কোন প্রাচীন কবির এ ধরণের পদ পাওয়া যায় নাই। নৌকাবিলাসে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের কৌতুক লীলার সঙ্গে গোপীদের এরূপ দীনতা প্রকাশ এবং ‘যম যন্ত্রণা’ দূর করিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণের চরণ শরণ লওয়া একেবারে খাপ খায় না। কোন প্রাচীন পুথিতে যা অষ্টাদশ শতাব্দীর সঙ্কলনে এই পদ পাওয়া যায় নাই।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকাবিলাসের এ ধরণের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা : গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের রসশাস্ত্রের বিরোধী। কোন প্রাচীন কবির এ ধরণের পদ পাওয়া যায় নাই। নৌকাবিলাসে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের কৌতুক লীলার সঙ্গে গোপীদের এরূপ দীনতা প্রকাশ এবং ‘যম যন্ত্রণা’ দূর করিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণের চরণ শরণ লওয়া একেবারে খাপ খায় না। কোন প্রাচীন পুথিতে যা অষ্টাদশ শতাব্দীর সঙ্কলনে এই পদ পাওয়া যায় নাই।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
নৌকা-বিহার
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক, কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবধি পার কর ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার যে করে তোমার সার
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা পদে হৈল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহ ত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যন্ত্রণা॥
আমরা আহীর নারী কুল শীল পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক, কে জানে তোমার মহিমা।
নাম নৌকায় নিরবধি পার কর ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ তরণী যার যে করে তোমার সার
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণরেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা পদে হৈল সোণা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহ ত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যন্ত্রণা॥
আমরা আহীর নারী কুল শীল পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
দানখণ্ড ও নৌকাখণ্ড
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম-নৌকায় নিরবিধি পার কর ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ-তরণী সার যে করে তোমার আর
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণ-রেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোনা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যাতনা॥
আমরা আহীর নারী কুল-শীলে পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
*********************
॥ গান্ধার॥
ওহে নাবিক কে জানে তোমার মহিমা।
নাম-নৌকায় নিরবিধি পার কর ভবনদী
তব আগে কি ছার যমুনা॥
চরণ-তরণী সার যে করে তোমার আর
কিবা তার পারের ভাবনা।
পাইয়া চরণ-রেণু পাষাণ মানবী তনু
কাষ্ঠ নৌকা পদে হইল সোনা॥
অজামিল পাপী ছিল সেহত তরিয়া গেল
চরণ করিয়া আরাধনা।
হেন পদ অনুভবে যাহার পরাণ যাবে
নাহি তার যমের যাতনা॥
আমরা আহীর নারী কুল-শীলে পরিহরি
হাসি হাসি করিয়া কামনা।
জ্ঞানদাসের বাণী শুন ওহে গুণমণি
কত না করহ প্রবঞ্চনা॥
*********************
