কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কি কহব শত শত তুয়া অবতার
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে এই পদটি বাসু ঘোষের ভণিতায় দেওয়া রয়েছে, যা আমরা নীচে তুলে দিয়েছি।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ বরাড়ী॥

কি কহব শত শত তুয়া অবতার।
একেলা গৌরাঙ্গ চাঁদ জীবন হামার॥ ধ্রু।
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারি।
শিব শুক নারদ জনা দুই চারি॥
সেতু বন্ধ কৈলে তুমি রাম অবতারে।
এবে সে অলপ তোমার আশ এ সংসারে॥
কলিযুগে করিলে কীর্ত্তন সেতু বন্ধ।
সুখে পার হউক যত পঙ্গু কুড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতল ভুবন দশ চারি॥
না জানি এ জপ তপ এ বেদ বিচার ।
জ্ঞানদাস কহে গৌর পদ সার॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র ॥ বরাড়ী॥

কি কহব শত শত তুয়া অবতার।
একেলা গৌররাঙ্গ @ চাঁদ জীবন হামার॥ ধ্রু
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারি।
শিব শুক নারদ জনা দুই চারি॥
সেতু বন্ধ কৈলে তুমি রাম অবতারে।
এবে সে অলপ তোমার আশ এ সংসারে॥
কলিযুগে করিলে কীর্ত্তন সেতু বন্ধ।
সুখে পার হউক যত পঙ্গু কুড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতল ভুবন দশ চারি॥
না জানি এ জপ তপ এ বেদ বিচার।
জ্ঞানদাস কহে গৌর পদ সার॥

@ - গৌররাঙ্গ - গৌরাঙ্গ হবে। মুদ্রণপ্রমাদ।

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৮৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি কহব শত শত তুয়া অবতার।
একেলা গৌরাঙ্গ চাঁদ জীবন হামার॥
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারি।
শিব শুক নারদ জনা দুই চারি॥
সেতুবন্ধ কৈলে তুমি রাম অবতারে।
এবে যে অলপ তোমার আশ এ সংসারে॥
কলিযুগে করিলে কীর্ত্তন সেতুবন্ধ।
সুখে পার হউক যত পঙ্গু কুড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপ তপ বেদ বিচার।
জ্ঞানদাস কহে গৌর পদ সার॥

টীকা ---
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারি ইত্যাদি --- বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেম চাহিয়াছিলে, কিন্তু শিব, শুকদেব এবং নারদ প্রভৃতি দুই চারিজন মাত্র প্রেম দিতে পারিয়াছিলেন।
এবে যে অলপ তোমার আশ এ সংসারে --- এখন সংসারে তোমার কম আসক্তি।
কীর্ত্তন সেতুবন্ধ ইত্যাদি --- ভবসমুদ্র পার হইবার জন্য তুমি কীর্ত্তনরূপ সেতুবন্ধ করিলে, সেই সেতু দিয়া পঙ্গু, কুষ্ঠরোগী, অন্ধ প্রভৃতি সুখে পার হয়।

এই পদটি বাসু ঘোষের ভণিতায়, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৯২ পদসংখ্যা, ২৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কি কহব শত শত তুয়া অবতার।
একলা গৌরাঙ্গ চাঁদ পরাণ আমার॥
বিষ্ণু-অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারী।
শিব শুক নারদ লইয়া জনা চারি॥
সেতু-বন্ধ কৈলা তুমি রাম-অবতারে।
এবে সে তোমার যশ ঘুষিবে সংসারে॥
কলি-যুগে কীর্ত্তন করিলা সেতু-বন্ধ।
সুখে পার হউক যত পঙ্গু জড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা-গুণে মাতিল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপ তপ এ বেদ-বিচার।
কহে বাসু গৌরাঙ্গ মোরে কর পার॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^