কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
রাজিত চিকুর উপরে নব মালতী
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর     উপরে নব মালতী
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি কি পেখনু শ্যামর চান্দে।
তপন তনয়া তীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গীম ছান্দে॥ ধ্রু
ও মুখ মণ্ডল,     ও মণি কুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র নীলমণি,     মুকুর উপরে জনি,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী,     অনিবার ঝলমলি,
উরে গজ মোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত,     ধটি অঞ্চল,
বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর     উপরে নব মালতী
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি কি পেখনু শ্যামর চান্দে।
তপন-তনয়া-তীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গীম ছান্দে॥
ও মুখ-মণ্ডল,     ও মণি কুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র নীলমণি,     মুকুর উপরে জনি,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী,     অনিবার ঝলমলি,
উরে গজ মোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত,     ধটি অঞ্চল,
বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়িকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর উপরে নব মালতী,
অলিকুল অলকার পাশে। মলয়জ মাঝে,
সাজে মৃদু মৃগমদ, তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি কি পেখনু শ্যামর চান্দে। তপন-
তনয়া-তীরে, তরু অবলম্বনে, তরুণ ত্রিভ-
ঙ্গীম ছান্দে॥ ও মুখ-মণ্ডল, ও মণিকুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে। ইন্দ্র নীলমণি,
মুকুর উপরে জনি, করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী, অনিবার ঝলমলি, উরে
গজ মোতিম হারে। জ্ঞানদাস কহত,
ধটি অঞ্চল, বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর     উপরে নব মালতী
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি কি পেখনু শ্যামর চান্দে।
তপন তনয়া-তীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥
ও মুখমণ্ডল,     ও মণি-কুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্রনীলমণি,     মুকুর-উপরে জনি,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী,     অনিবার ঝলমলি,
উরে গজমোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত,     পীত ধটি অঞ্চল,
বিজরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ১২৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

রাজিত চিকুর,     উপরে নব মালতী,
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী-নয়ন বিলাসে॥
সজনি কি পেখলু শ্যামর চান্দে।
তপন তনয়াতীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥
ও মুখমণ্ডল,     ও মণি কুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র-নীলমণি-     মুকুর উপরে জনি,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণী তারা বলী,     অনিবার ঝলমলি
উরে গজ-মোতিম হারে।
জ্ঞান দাস কহ,     পীত ধটি অঞ্চল,
বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর,     উপরে নব মালতী,
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি, কি পেখনু শ্যামের চান্দে।
তপনতনয়া-তীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গ ছান্দে॥
ও মুখমণ্ডল,     ও মণি কুণ্ডল,
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্রনীলমণি,     মুকুর উপরে জনি,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী,     অনিবার ঝলমলি,
উরে গজ মোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত,     পীত ধটী অঞ্চল,
বিজরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রাধার পূর্ব্ব-রাগ, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজিত চিকুর     উপরে নব মালতী
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে     সাজে মৃদু মৃগমদ
তরুণী-নয়ান বিলাসে॥

সজনি কি পেখলুঁ শ্যামর চান্দে।
তরণী-তনয়া তীরে     তরু অবলম্বনে
তরুণ ত্রি-ভঙ্গিম ছান্দে॥

ও মুখ-মণ্ডল     ও মণি-কুণ্ডল
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র-নীলমণি     মুকুর উপরে জনি
করু অবলম্বন অরুণে॥

তরুণ তারাবলি     অনিবার ঝলমলি
উরে গজ-মোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত     পীত ধটি অঞ্চল
@ ঘন আন্ধিয়ারে॥

@ - এখানে বিজুরী শব্দটি মুদ্রিত হয়নি।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীরাধার উক্তি
॥ সিন্ধুড়া॥

রাজিত চিকুর     উপরে নবমালতি
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে     সাজে মৃদু মৃগমদ
তরুণীনয়নবিলাসে॥
সজনি কি পেখলুঁ শ্যামর চান্দে।
তরণীতনয়া তীরে     তরু অবলম্বন
তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥ ধ্রু॥
ও মুখমণ্ডলে     ও মণিকুণ্ডল
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র নীলমণি-     মুকুর উপরে জনু
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলি     অনিবার ঝলমলি
উরে গজমোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহ     পীতধটি অঞ্চল,
বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

টীকা---
সজ্জিত কেশপাশে নব মালতী। অলকার পাশে আল উড়িতেছে। ললাটে শ্বেতচন্দনের মাঝে মৃগমদবিন্দু, তরুণীনয়নের বিলাসক্ষেত্র। সজনি, তরুণ শ্যামচাঁদকে কি দেখিলাম! কালিন্দীর তীরে তরু অবলম্বনে ত্রিভঙ্গিম ছান্দে দাঁড়াইয়া আছেন। ওই মুখমণ্ডল, ওই মণিকুণ্ডল, কিরণে গণ্ড উজ্জ্বল হইল। ইন্দ্রনীলমণির দর্পণের উপরে যেন অরুণ আশ্রয় লইয়াছে। তরুণ তারার মালা অনিবার ঝলমল করিতেছে। বক্ষে গজমোতিহার। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, পীতধড়ার অঞ্চল যেন ঘন অন্ধকারে বিজুলি চমক।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥

রাজিত চিকুর     উপরে নবমালতি
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে     সাজে মৃদু মৃগমদ
তরুণী-নয়ন-বিলাসে॥
সজনি কি পেখলুঁ শ্যামর চান্দে।
তরণী-তনয়া তীরে     তরু অবলম্বন
তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥ ধ্রু॥
ও মুখমণ্ডলে     ও মণি কুণ্ডল
গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্র নীলমণি-     মুকুর উপরে জনু
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলি     অনিবার ঝলমলি
উরে গজমোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহ     পীতধটি অঞ্চল
বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজিত চিকুর,     উপরে নব মালতি,
অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে,     সাজে মৃদু মৃগমদ,
তরুণী নয়ন বিলাসে॥
সজনি পেখনু শ্যামর চান্দে।
তরনি তনয়া তীরে,     তরু অবলম্বনে,
তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥ ধ্রু॥
ও মুখ মণ্ডল,     ও মণি কুণ্ডল,
গাণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্রনীলমণি,     মুকুর উপরে জনু,
করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলী,     অনিবার ঝলমলি,
উরে গজ মোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহত,     ধটি অঞ্চল
বিজুরী ঘনয়ারে॥

টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের কেশদামেব উপর নবমালতীর মালা, (তাহার সৌরভে) ভ্রমরগণ অলকার পাশে শোভা পাইতেছে। চন্দনের মাঝে কস্তুরীর বিন্দু দেখিয়া তরুণীদের নয়ন যেন বিলাস করে। সখি! শ্যামচন্দ্রকে দেখিলাম যে তিনি সূর্য্যতনয়া যমুনার তীরে গাছ হেলান দিয়া| তরুণ ত্রিভঙ্গ ছাঁদে দাড়াইয়া আছেন। তাহার মণিকুণ্ডলের আভায় মুখমণ্ডল, বিশেষ করিয়া গণ্ডস্থল উজ্জ্বল হইল --- দেখিয়া মনে হইল যেন ইন্দ্রনীলমণির আয়নার উপরে অরুণ আশ্রয় লইয়ছে (ইন্দ্রনীলমণি দিয়া তৈয়ারী আয়নার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের দেহের শ্যামল কান্তির, আর কুণ্ডলেব মণিকে সূর্য্যের সঙ্গে উপমা দেওয়া হইয়াছে)। তাঁহার বুকে যে গজমতির হার তাহা দেখিয়া মনে হয় যেন নবোদিত (তরুণ) তারকারাশি নিরন্তর ঝলমল করিতেছে। জানদাস বলেন যে তাঁহার বস্ত্রের আঁচলায় যেন বিদ্যুৎ পুঞ্জীভূত (ঘনয়ারে) হইয়া রহিয়াছে।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজিত চিকুর উপরে নবমালতি
        অলিকুল অলকার পাশে।
মলয়জ মাঝে সাজে মৃদু মৃগমদ
        তরুণীনয়নবিলাসে॥
সজনি কি পেখলুঁ শ্যামর চান্দে।
তরণীতনয়া তীরে তরু অবলম্বন
        তরুণ ত্রিভঙ্গিম ছান্দে॥
ও মুখমণ্ডলে ও মণিকুণ্ডল
        গণ্ড উজোর ভেল কিরণে।
ইন্দ্রনীলমণি মুকুর উপরে জনু
        করু অবলম্বন অরুণে॥
তরুণ তারাবলি অনিবার ঝলমলি
        উরে গজমোতিম হারে।
জ্ঞানদাস কহ পীতধটি অঞ্চল
        বিজুরী ঘন আন্ধিয়ারে॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^