কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল
কবি জ্ঞানদাস
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে (১১৭৮ বঙ্গাদে বা ১৭৭১খৃষ্টাব্দে) পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, অধ্যাপক অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯ খৃষ্টাব্দে) সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” এর ১৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে (১৯২০) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর সংগ্রহের ৪২৪টি পুথি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে দান করেন। এই পুথিটি দেশবন্ধুর সেই দান করা পুথিগুলির মধ্যে একটি।
॥ ধানসী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥ ধ্রু
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতএ কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুনভাগে॥
কহইতে কি কহব কহয়ে না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥ ধ্রু
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতএ কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুনভাগে॥
কহইতে কি কহব কহয়ে না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাশল পালটি নেহারি।
তাহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
পেখলোঁ বর বৈদগধি নারি।
মদনবাণ কত ভেল তাঁহাঁ মারি॥
কেশ বিথারল পীঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তব ধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তব ধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল। অঙ্গ
মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥ পাশ উদাসল
পালটি নেহারি। তাহি চলল মন বাহু
পসারি॥ পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥ কেশ বিথা-
রল পিঠহি লোল। মাথ আধপর রহল
নিচোল॥ পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥ চাতুরী
কতএ কয়ল মঝু আগে। জীউ রহল
আজ বড় পুণভাগে॥ কহইতে কি কহব
কহয়ে না পারি। জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুনভাগে॥
কহইতে কি কহব কহয়ে না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাস উদাসল পালটি নেহারি।
তাঁহি চলল মন বাহু পসারি॥
পেখলোঁ বর বৈদগধি নারি।
মদনবাণ কত ভেল তাঁহা মারি॥
কেশ বিথারল পীঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তবধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
টীকা---
রাধা কৃষ্ণকে দেখিয়া একটু হাসিয়া মুখে একটু ঘোমটা টানিয়া দিলেন, গা মোড়া দিয়া দুই তিন পা আগাইয়া গেলেন, আবার ফিরিয়া চাহিয়া বুকের পাশের কাপড় একটু খুলিলেন, তাহাই দেখিয়া আমার মন যেন দুই বাহু বাড়াইয়া আগাইয়া গেল। দেখিলাম যে নারী খুব সুরসিকা ; কত মদনবাণ আমার উপর বর্ষিত হইল। সে কেশপাশ ছাড়াইয়া দিল, তাহা পিঠে দুলিতে লাগিল। তাহার অর্দ্ধেক মাথার উপর আঁচল থাকিল। সে নীবিবন্ধ ঠিক করিয়া আবার বসন পরিল, সেই হইতে আমার চোখে ধাঁধা লাগিল। আমার সামনে সে কত চাতুরি করিল, (তাহাতে আমার প্রাণ যায় যায়), বহু পূণ্যফলে প্রাণ রহিল। কি বলিতে চাই, বলিতে পারি না। জ্ঞানদাস বলেন যে নারী বড় রসিকা।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উতারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝারি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুণভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিগদধ নারী॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উঘারি॥ ধ্রু॥
কেশ বিথারল পীঠ হিলোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝারি বান্ধল নীবিবন্ধ।
তবধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুণ ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ও রূপানুরাগ
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল। অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি। তহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী। মদন বাণ কত গেলি উঘারি॥ ধ্রু॥
কেশ বিথারহ পিঠ হিলোল। মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝাড়ি বান্ধল নীবিবন্ধ। তব ধরি নয়নে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরি কতয়ে কয়ল মঝু আগে। জীউ রহ আজু বড় পুণ ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি। জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেল উঘারি॥
কেশ বিথারল পীঠ হিলোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝারি বান্ধল নীবিবন্ধ।
তবধরি নয়নে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
*********************
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাশল পালটি নেহারি।
তাহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
পেখলোঁ বর বৈদগধি নারি।
মদনবাণ কত ভেল তাঁহাঁ মারি॥
কেশ বিথারল পীঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তব ধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তব ধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
নায়কের পূর্ব্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল। অঙ্গ
মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥ পাশ উদাসল
পালটি নেহারি। তাহি চলল মন বাহু
পসারি॥ পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥ কেশ বিথা-
রল পিঠহি লোল। মাথ আধপর রহল
নিচোল॥ পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥ চাতুরী
কতএ কয়ল মঝু আগে। জীউ রহল
আজ বড় পুণভাগে॥ কহইতে কি কহব
কহয়ে না পারি। জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উভারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝাড়ি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুনভাগে॥
কহইতে কি কহব কহয়ে না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, সন্দিগ্ধ, ২৭০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাস উদাসল পালটি নেহারি।
তাঁহি চলল মন বাহু পসারি॥
পেখলোঁ বর বৈদগধি নারি।
মদনবাণ কত ভেল তাঁহা মারি॥
কেশ বিথারল পীঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরল পুনহিঁ সারি নিবিবন্ধ।
তবধরি নয়নে রহল মঝু ধন্দ॥
চাতুরি কতহিঁ কয়ল মঝু আগে।
জীবন রহল বড়ই পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহে বড় বিদগধ নারি॥
টীকা---
রাধা কৃষ্ণকে দেখিয়া একটু হাসিয়া মুখে একটু ঘোমটা টানিয়া দিলেন, গা মোড়া দিয়া দুই তিন পা আগাইয়া গেলেন, আবার ফিরিয়া চাহিয়া বুকের পাশের কাপড় একটু খুলিলেন, তাহাই দেখিয়া আমার মন যেন দুই বাহু বাড়াইয়া আগাইয়া গেল। দেখিলাম যে নারী খুব সুরসিকা ; কত মদনবাণ আমার উপর বর্ষিত হইল। সে কেশপাশ ছাড়াইয়া দিল, তাহা পিঠে দুলিতে লাগিল। তাহার অর্দ্ধেক মাথার উপর আঁচল থাকিল। সে নীবিবন্ধ ঠিক করিয়া আবার বসন পরিল, সেই হইতে আমার চোখে ধাঁধা লাগিল। আমার সামনে সে কত চাতুরি করিল, (তাহাতে আমার প্রাণ যায় যায়), বহু পূণ্যফলে প্রাণ রহিল। কি বলিতে চাই, বলিতে পারি না। জ্ঞানদাস বলেন যে নারী বড় রসিকা।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৮৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখনু মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উতারি॥
কেশ বিথারল পিঠহি লোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ পুনহি ঝারি নীবিবন্ধ।
তব ধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুণভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞান কহ এ বড়ি বিগদধ নারী॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তাহি চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেলি উঘারি॥ ধ্রু॥
কেশ বিথারল পীঠ হিলোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝারি বান্ধল নীবিবন্ধ।
তবধরি নয়ানে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুণ ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ও রূপানুরাগ
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল। অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি। তহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী। মদন বাণ কত গেলি উঘারি॥ ধ্রু॥
কেশ বিথারহ পিঠ হিলোল। মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝাড়ি বান্ধল নীবিবন্ধ। তব ধরি নয়নে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরি কতয়ে কয়ল মঝু আগে। জীউ রহ আজু বড় পুণ ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি। জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
হাসি বদনে আধ অঞ্চল দেল।
অঙ্গ মোড়ি পদ দুই তিন গেল॥
পাশ উদাসল পালটি নেহারি।
তহিঁ চলল মন বাহু পসারি॥
আজু পেখলুঁ মুঞি বিদগধ নারী।
মদন বাণ কত গেল উঘারি॥
কেশ বিথারল পীঠ হিলোল।
মাথ আধ পর রহল নিচোল॥
পহিরণ ঝারি বান্ধল নীবিবন্ধ।
তবধরি নয়নে রহল কিয়ে ধন্দ॥
চাতুরী কতয়ে কয়ল মঝু আগে।
জীউ রহল আজু বড় পুন ভাগে॥
কহইতে কি কহব কহই না পারি।
জ্ঞানদাস কহ বড় বিদগধ নারী॥
*********************
