কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কিনা সে কাহ্ণুর প্রেম
সই কি না সে বন্ধুর প্রেম
সৈ কিবা সে কাহ্নর প্রেম

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", ২৪২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ রসোদ্গার॥
॥ প্রাচীন সিন্ধোড়া রাগ নন্দন তালৌ॥

 কিনা সে কাহ্ণুর প্রেম। আঁখি পালটিতে নাহি পর-
তিত যেন দারিদ্রের হেম॥ ধ্রু॥ হিয়ায় হিয়ায় লাগিব লাগিয়া
চন্দন নাপরে অঙ্গে। গায়ের ছায়া রায়ের দোসর রাত্রে
দিনে থাকে সঙ্গে॥ তিলে কত বেরি মুখ নিরখয়ে আঁচরে
মোছায়ে ঘাম। কোরে থাকিতে দূর হেন বাসে তেঞি
সদা লয়ে নাম॥ জাগিতে ঘুমিতে আন নাহি চিতে রসের
পসার কাছে। জ্ঞান দাস কহে এমন পিরিতি আর কি
জগতে আছে॥

এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব,রসোদগার, ৬৭৮ নং পদসংখ্যা, ৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে   নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥ ধ্রু॥
হিয়ায় হিয়ায়   লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত     দূর হেন মানয়ে
তেঞি সদাই লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে (১১৭৮ বঙ্গাদে বা ১৭৭১খৃষ্টাব্দে) পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, অধ্যাপক অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯ খৃষ্টাব্দে) সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” এর ১০০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে (১৯২০) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর সংগ্রহের ৪২৪টি পুথি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে দান করেন। এই পুথিটি দেশবন্ধুর সেই দান করা পুথিগুলির মধ্যে একটি।

॥ ধানশ্রী॥

সৈ কিবা কে কাহ্নর প্রেম।
আখি পালটিতে     নাহি পরতীত
জেন দরিদ্রের হেম॥
তিলে কত বেরি     মুখ নেহারই
আচরে মোছই ঘাম।
কোরে থাকিতে     দূর হেন বাসে
সদা লএ মোর নাম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব বলিঞা
চন্দন না পরে অঙ্গে।
গাএর ছায়া     বাএর দোসর
সদাই থাকএ সঙ্গে॥
জাগিতে ঘুমিতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত
॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে,     নহে পরতীত,
যেন দারিদ্রের হেম॥ ধ্রু
হিয়ায় হিয়ায়,     লাগিব লাগিয়া,
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া,     রাইয়ের দোসর,
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি,     মুখ নিহারয়ে,
আঁচরে মোছয়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত,     দূর হেন মানয়ে,
তেঞি সদাই লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে,     আন নাহি চিতে,
রসের পসরা কাছে।
জ্ঞানদাস কহে,     এমন পিরীতি,
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত।
॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে,     নহে পরতীত,
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়,     লাগিব লাগিয়া,
@@ বা মাখে অঙ্গে।
গায়ের @@,     রাইয়ের দোসর,
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি,     মুখ নেহারয়ে,
আঁচরে মোছয়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত,     দূর হেন মানয়ে,
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে,     আন নাহি চিতে,
রসের পসরা কাছে।
জ্ঞানদাস কহে,     এমন পিরীতি,
আর কি জগতে আছে॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্র্য।
॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম। আঁখি
পালটিতে, নহে পরতীত, যেন দারিদ্রের
হেম॥ হিয়ায় হিয়ায়, লাগিব লাগিয়া,
চন্দন না মাখে অঙ্গে। গায়ের ছায়া,
রাইয়ের দোসর, সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি, মুখ নিহারয়ে, আঁচরে
মোছয়ে ঘাম। কোরে থাকিতে কত, দূর
হেন মানয়ে, তেঞি সদাই লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে, আন নাহি চিতে, রসের
পসরা কাছে। জ্ঞানদাস কহে, এমন
পিরীতি, আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি, না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে,     নহে পরতীত,
যেন দারিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়,     লাগিব লাগিয়া,
চন্দন বা মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া,     রাইয়ের দোসর,
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি,     মুখ নিহারয়ে,
আচরে মোছয়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত,     দূর হেন মানয়ে,
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে,     আন নাহি চিতে,
রসের পসরা কাছে।
জ্ঞানদাস কহে,     এমন পিরীতি,
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৪ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সৈ কিবা কে কাহ্নর প্রেম।
আখি পালটিতে     নাহি পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥
তিলে কত বেরি     মুখ নেহারই
আচরে মোছই ঘাম।
কোরে থাকিতে     দূর হেন বাসে
সদা লএ মোর নাম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব বলিঞা
চন্দন না পরে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই থাকএ সঙ্গে॥
জাগিতে ঘুমিতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

টীকা ---
সখি ! কানুর সে কি গভীর প্রেম। সে আমাকে একটু চোখের আড়াল করিতেও ভরসা পায় না (পরতীত বিশ্বাস), যেন দরিদ্রের স্বর্ণ। সেই এক তিল সময়ের মধ্যে কতবার আমার মুখ দেখে, নিজের আঁচল দিয়া আমার ঘাম মুছাইয়া দেয়। আমি কোলে থাকিলেও সে ভাবে যেন আমি কত দূরে আছি, তাই সর্ব্বদা আমার নাম করে। আমার বুকে খালি বুক রাখিবে বলিয়া চন্দনও পরে না (চন্দন-জনিত ব্যবধানও তাহার সহ্য হয় না)। সে আমার দেহের ছায়ার মতন এবং দ্বিতীয় (প্রাণ) বায়ুর মতন সর্ব্বদা সঙ্গে থাকে। জাগিতে ঘুমাইতে তাহার আর মনে অন্য চিন্তা নাই, সে যেন রসের পসরা কাছে লইয়া থাকে। জ্ঞানদাস বলেন এমন পিরিতি কি আর জগতে অন্য কোথাও আছে?

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি, না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে,     নহে পরতীত,
যেন দারিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়,     লাগিব লাগিয়া,
চন্দন বা মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া,     রাইয়ের দোসর,
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি,     মুখ নেহারয়ে,
আচরে মোছয়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত,     দূর হেন মানয়ে,
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে,     আন নাহি চিতে,
রসের পসরা কাছে।
জ্ঞানদাস কহে,     এমন পিরীতি,
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই, কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥

হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া---     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥

তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে,
আঁচরে মুছয়ে ঘাম।
কোরে থাকি কত     দূর হেন মানে,
তেঞি সদা লয়ে নাম॥

জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে,
রসের পসার কাচে।
জ্ঞানদাস কহে---     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (১৯৪১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, চাঁদপুর ও মেছড়া স্কুলের ভূতপূর্ব্ব হেডমাস্টার মহাশয় হরিলাল চট্টোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্নমালা” ৪র্থ সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৩২৩ বঙ্গাব্দ বা ১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থের ২২৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গারানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিবে বলিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখ নেহারয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত     দূরে হেন মানয়ে
তেঁঞি সদাই লয় নাম॥
জাগিতে ঘুমাতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরীতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, প্রেমবৈচিত্র্য, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

সই কি, না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে,     নহে পরতীত,
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়,     লাগিব লাগিয়া,
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া,     রাইয়ের দোসর,
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি,     মুখ নেহারয়ে,
আঁচরে মোছয়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত,     দূর হেন মানয়ে,
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে,     আন নাহি চিতে,
রসের পসরা কাছে।
জ্ঞানদাস কহে,     এমন পিরীতি,
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ শ্রী রাগ॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে রাখি কত     দূর হেন মানে
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাচে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬০৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ শ্রীরাগ - আড়া দুঠুকী॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥ ধ্রু॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত     দূর হেন মানে
তেঞি সদাই লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ শ্রী রাগ॥

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে রাখি কত     দূর হেন মানে
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাচে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৩৬৮ বঙ্গাব্দে (১৯৬১ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত, এবং পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী দ্বারা সজ্জিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী” ১ম সংস্করণের ৯৩ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে     নহে পরতীত
যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায়     লাগিব লাগিয়া
চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া     বায়ের দোসর
সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি     মুখানি হেরয়ে
আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে থাকিতে কত     দূর হেন মানয়ে
তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাইতে     আন নাহি চিতে
রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে     এমন পিরিতি
আর কি জগতে আছে॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সই কি না সে বন্ধুর প্রেম।
আঁখি পালটিতে নহে পরতীত
      যেন দরিদ্রের হেম॥
হিয়ায় হিয়ায় লাগিব লাগিয়া
      চন্দন না মাখে অঙ্গে।
গায়ের ছায়া বায়ের দোসর
      সদাই ফিরয়ে সঙ্গে॥
তিলে কত বেরি মুখানি হেরয়ে
      আঁচরে মোছায়ে ঘাম।
কোরে রাখি কত দূর হেন মানে
      তেঞি সদা লয়ে নাম॥
জাগিতে ঘুমাতে আন নাহি চিতে
      রসের পসার কাছে।
জ্ঞানদাস কহে এমন পিরিতি
      আর কি জগতে আছে॥


*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^