কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
শুন শুন গুণবতি রাই
শুন শুন গুণবতী রাই
সুন সুন গুণবতী রাই
কবি জ্ঞানদাস
শুন শুন গুণবতী রাই
সুন সুন গুণবতী রাই
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, শ্রীনিবাস আচার্য্যর পৌত্র রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা ১২৮৫ বঙ্গাব্দে (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ) সম্পাদিত "পদামৃত সমুদ্র", তানব, ১১৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তত্র বিষয়ালম্বনস্য॥
॥ তোড়ি রাগ পটতলাভ্যাং॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তোহে বিনু আকুল কাহ্নাই
॥ ধ্রু॥ সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাশে। তেজই উতপত শাসে॥ চীত
পুতলি সম দেহ। মরম না বূঝএ কেহ॥ পুছিতে কহএ
আধ ভাখি। নিঝরে ঝরএ দুন আঁখি॥ জ্ঞান কহএ তোহে
সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত "শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ)" গ্রন্থের, ৫৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
দূতী রাধিকায়াঃ সন্নিধৌ শ্রীকৃষ্ণস্য জাগর্য্যদশাং প্রাহ---
॥ পঞ্চমরাগঃ॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনী জাগি॥
দহে তনু মদন হুতাশ। তেজই উতপত শ্বাস॥
চিত পুতলী সম দেহ। মরম না সমুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি। নিঝরে ঝরয়ে দউ আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখার, ৪র্থ পল্লব শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৯৫ নং পদসংখ্যা, ৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথা॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ যথারাগ॥
॥ ব্যাধিদশা॥
সুন সুন গুণবতী রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥
সো তুয়া পরসক লাগি। ছটফট যামিনী জাগি॥
খিনতনু মদনহুতাশে। তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত পুথলিসম দেহ। মরম না বূঝএ কেহ॥
পুছিতে কহএ আধ ভাখি। নিঝোরে ঝোরএ দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহএ তোঁহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের নায়িকার পূর্ব্বরাগ, ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী।
॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্ণাই॥ ধ্রু
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি!
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের দৌত্য।
॥ তিরোতা॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি!
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৫১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
ব্যাধি দশা
॥ সুহই - ছোট সমতাল॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনী জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাশে। তেজই উতপত শ্বাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ। মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি! নিঝরে ঝরয়ে দুটী আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শুন শুন গুণবতি রাই।
তোহে বিনু আকুল কাহ্নাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাসে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝএ কেহ॥
পুছিতে কহএ আধ ভাখি।
নিঝরে ধরএ দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহএ তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের দূতী রাধাকে মাধবের প্রেমের কথা জানাইতেছেন।
তেজই উতপত শাসে --- উত্তপ্ত দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
চীত পুতলি সম দেহ --- চিত্রে অঙ্কিত পুত্তলির মতন মতন তাহার দেহ।
পুছিতে কহএ আখ ভাখি --- জিজ্ঞাসা করিলে অস্ফুট ভষায় কি যেন বলে।
গমন উপচার --- তাহার বিরহ-ব্যাধির উপশমের একমাত্র প্রতীকার তোমার গমন (অভিসার )।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের দৈত্য।
॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতী রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
ক্ষীণ তনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলী সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, সখী-সংবাদ, শ্রীকৃষ্ণের আপ্ত-দুতী, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
[ ব্যাধি ]
॥ তিরোতা-ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটী আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী শ্রীরাধার প্রতি
॥ তথারাগ॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ও রূপানুরাগ
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী
॥ তথা॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
*********************
॥ তত্র বিষয়ালম্বনস্য॥
॥ তোড়ি রাগ পটতলাভ্যাং॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তোহে বিনু আকুল কাহ্নাই
॥ ধ্রু॥ সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাশে। তেজই উতপত শাসে॥ চীত
পুতলি সম দেহ। মরম না বূঝএ কেহ॥ পুছিতে কহএ
আধ ভাখি। নিঝরে ঝরএ দুন আঁখি॥ জ্ঞান কহএ তোহে
সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত "শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্ব্বরাগ)" গ্রন্থের, ৫৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
দূতী রাধিকায়াঃ সন্নিধৌ শ্রীকৃষ্ণস্য জাগর্য্যদশাং প্রাহ---
॥ পঞ্চমরাগঃ॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনী জাগি॥
দহে তনু মদন হুতাশ। তেজই উতপত শ্বাস॥
চিত পুতলী সম দেহ। মরম না সমুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি। নিঝরে ঝরয়ে দউ আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখার, ৪র্থ পল্লব শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৯৫ নং পদসংখ্যা, ৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ তথা॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতী বাংলা-পুথিশালার "রতন লাইব্রেরী সংগ্রহ"-র অন্তর্ভুক্ত ও সংরক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ” পুথির ১৯৮২ সালে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত এবং তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, অণিমা মুখোপাধ্যায় ও পরমেশ্বর মাহাতা দ্বারা সহ-সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন গ্রন্থের ২৫ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ যথারাগ॥
॥ ব্যাধিদশা॥
সুন সুন গুণবতী রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥
সো তুয়া পরসক লাগি। ছটফট যামিনী জাগি॥
খিনতনু মদনহুতাশে। তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত পুথলিসম দেহ। মরম না বূঝএ কেহ॥
পুছিতে কহএ আধ ভাখি। নিঝোরে ঝোরএ দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহএ তোঁহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের নায়িকার পূর্ব্বরাগ, ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী।
॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্ণাই॥ ধ্রু
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি!
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের দৌত্য।
॥ তিরোতা॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি!
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে (১৯১০ সালে) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ১ম খণ্ড এর ৩৫১ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
ব্যাধি দশা
॥ সুহই - ছোট সমতাল॥
শুন শুন গুণবতি রাই। তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি। ছটফটি যামিনী জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাশে। তেজই উতপত শ্বাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ। মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি! নিঝরে ঝরয়ে দুটী আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার। করহ গমন উপাচার॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শুন শুন গুণবতি রাই।
তোহে বিনু আকুল কাহ্নাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিন তনু মদন হুতাসে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝএ কেহ॥
পুছিতে কহএ আধ ভাখি।
নিঝরে ধরএ দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহএ তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
টীকা ---
শ্রীকৃষ্ণের দূতী রাধাকে মাধবের প্রেমের কথা জানাইতেছেন।
তেজই উতপত শাসে --- উত্তপ্ত দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
চীত পুতলি সম দেহ --- চিত্রে অঙ্কিত পুত্তলির মতন মতন তাহার দেহ।
পুছিতে কহএ আখ ভাখি --- জিজ্ঞাসা করিলে অস্ফুট ভষায় কি যেন বলে।
গমন উপচার --- তাহার বিরহ-ব্যাধির উপশমের একমাত্র প্রতীকার তোমার গমন (অভিসার )।
এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের দৈত্য।
॥ ধানশী॥
শুন শুন গুণবতী রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
ক্ষীণ তনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলী সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুন আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
এই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, সখী-সংবাদ, শ্রীকৃষ্ণের আপ্ত-দুতী, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
[ ব্যাধি ]
॥ তিরোতা-ধানশী॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কাহ্নাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনী জাগি॥
খীন তনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শ্বাসে॥
চিত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটী আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপচার॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী শ্রীরাধার প্রতি
॥ তথারাগ॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বুঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত,“জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ও রূপানুরাগ
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী
॥ তথা॥
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥ ধ্রু॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন-হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত-পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন-উপাচার॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৫৬ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শুন শুন গুণবতি রাই।
তো বিনু আকুল কানাই॥
সো তুয়া পরশক লাগি।
ছটফটি যামিনি জাগি॥
খিনতনু মদন হুতাশে।
তেজই উতপত শাসে॥
চীত পুতলি সম দেহ।
মরম না বূঝয়ে কেহ॥
পুছিতে কহয়ে আধ ভাখি।
নিঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
জ্ঞান কহয়ে তোহে সার।
করহ গমন উপাচার॥
*********************
