কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
নিজ পরসঙ্গ স্বপনে না করে
আন পরসঙ্গ স্বপনে না করে
নিজ পরসঙ্গ স্বপনে না কবে

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদগার, ৬৮৫-নং পদসংখ্যা, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পরসঙ্গ   স্বপনে না করে
আনে না পাতয়ে কাণ।
দিঠে দিঠে রহে   নিমিখ না বহে
নিরখে মঝু বয়ান॥
কি না সে বন্ধুর   পিরিতি কিরিতি
কহিতে কহিব কী।
সে সব চরিতে   কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দী॥
খেণে খেণে তনু   পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে   রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এত করি মোরে   কোরে আগোরয়ে
রঞ্জয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে   ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরিতি-লেশ॥

এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত
॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পর সঙ্গ,     স্বপনে না করে,
আনে না পাতয়ে কাণ।
দিঠে দিঠে রহে,     নিমিখ না বহে,
নিরখে মঝু বয়ান॥
সই কিনা সে বন্ধুর,     পিরীতি কি রীতি,
কহিতে কহিব কি।
সে সব চরিতে,     কত উঠে চিতে,
পরাণ নিছনি দি॥
ক্ষণে ক্ষণে তনু,     পুলকে আকুল,
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে,     রসের আলাপ,
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এত করি মোরে,     কোরে আগোরয়,
রচয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে,     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরীতি লেশ॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্ত।
॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পর সঙ্গ,     স্বপনে না করে,
আনে না পাতয়ে কাণ।
দিঠে দিঠে রহে,     নিমিখ না বহে,
নিরখে মঝু বয়ান॥
সই কিনা সে বন্ধুর,     পিরীতি কি রীতি,
কহিতে কহিব কি।
সে সব চরিতে,     কত উঠে চিতে,
পরাণ নিছনি দি॥
ক্ষণে ক্ষণে তনু,     পুলকে আকুল,
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে,     রসের আলাপ,
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এত করি মোরে,     কোরে আগোরয়,
রচয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে,     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরীতি লেশ॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্র্য।
॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পর সঙ্গ, স্বপনে না করে, আনে
না পাতয়ে কাণ। দিঠে দিঠে রহে, নিমিখ
না বহে, নিরখে মঝু বয়ান॥ সই কিনা
সে বন্ধুর, পিরীতি কি রীতি, কহিতে কহিব
কি। সে সব চরিতে, কত উঠে চিতে,
পরাণ নিছনি দি॥ ক্ষণে ক্ষণে তনু, পুলকে
আকুল, তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ। হাসির
মিশালে, রসের আলাপ, অমিয়া সিনায়
অঙ্গ॥ এত করি মোরে, কোরে আগো-
রয়, রচয়ে বেশ বিশেষ। জ্ঞানদাস কহে,
ধনি ধনি সেহ, যাহে এ পিরীতি লেশ॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে
॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পর-সঙ্গ,     স্বপনে না করে,
আনয়ে পাতে না কাণ।
দিঠে দিঠে রহে,     নিমিখ না বহে,
নিরখে মধু বয়ান॥
সই, কিনা সে বন্ধুর,     পিরীতি কি রীতি,
কহিতে কহিব কি।
সো সব চরিতে,     কত উঠে চিতে,
পরাণ নিছনি দি॥
ক্ষণে ক্ষণে তনু,     পুলকে আকুল,
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে,     রসের আলাপ,
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এত করি মোরে,     কোরে আগোরয়,
রচয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে,     ধনি ধনি সেহ,
যাহে এ পিরীতি-লেশ॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৫৯ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আন পরসঙ্গ     স্বপনে না করে
আনে না পাতয়ে কান।
দিঠে দিঠে রহে     নিমিখ না রহে
নিরখে মোর বয়ান॥
সজনি কি না সে কানুর পীরিতি
কি রীতি কহিতে কহিব কি।
সে সব চরিতে     কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দি॥ ধ্রু॥
খেণে খেণে তনু     পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে     রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করে মোরে     কোরে আগোরয়ে
রঞ্জয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে     ধন্য ধন্য জিয়ে
যাহে পীরিতি লব লেশ॥

টীকা ---
শ্রীরাধা সথীকে নিজের সৌভাগ্যের কথা বলিতেছেন।
স্বপ্নেও অন্যের প্রসঙ্গ করে না, অন্য কথায় কান দেয় না, আমার নয়নে নয়ন থাকে, চোখে পলক পড়ে না যখন সে আমার মুখের পান চায়।
এক করে মোরে ইত্যাদি --- এক হাতে আমাকে কোলে আগুলাইয়া অন্য হাতে আমার বেশ বানায় (যা রঞ্জিত করে)।
জ্ঞানদাস বলেন কৃষ্ণ যাহাকে এরূপ প্রেমের এক কণাও দেন তাহার জীবন ধন্য ধন্য।

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ১৯৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধনে।
॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পর-সঙ্গ,     স্বপনে না করে,
আনয়ে পাতে না কাণ।
দিঠে দিঠে রহে,     নিমিখ না বহে,
নিরখে মধু বয়ান॥
সই, কিনা সে বন্ধুর,     পিরীতি কি রীতি,
কহিতে কহিব কি।
সে সব চরিতে,     কত উঠে চিতে,
পরাণ নিছনি দি॥
ক্ষণে ক্ষণে তনু,     পুলকে আকুল,
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে,     রসের আলাপ,
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করি মোরে,     কোরে আগোরয়,
রচয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে,     ধনি ধনি সেহ,
যাহে এ পিরীতি-লেশ॥

এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” গ্রন্থের, প্রেমবৈচিত্র্য, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিজ পরসঙ্গ     স্বপনে না কবে
আনয়ে না পাতে কাণ।
দিঠে দিঠে বহে     নিমিখ না বহে
নিরখে বঁধু বয়ান॥
সই, কিনা সে বন্ধুর     পিরীতি কি রীতি
কহিতে কহিব কী।
সো সব চরিতে     কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দি॥
ক্ষণে ক্ষণে তনু     পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসিয়া মিশালে     রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এত করি মোরে     কোরে আগোরয়
রচয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরীতি লেশ॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ সিন্ধুড়া॥

আন পরসঙ্গ     স্বপনে না করে
আনে না পাতয়ে কান।
দিঠে দিঠে বহে     নিমিখ না বহে
নিরখে মঝু বয়ান॥
কি না সে বন্ধুর     পিরীতি-কিরিতি
কহিতে কহিব কী।
সে সব চরিতে     কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দী॥
খেনে খেনে তনু     পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসিব মিশালে     রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করে মোরে     কোরে আগোরয়ে
আন করে রচে বেশ।
জ্ঞানদাস কহে     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরীতি-লেশ॥

এই পদটি ১৯৫৩ সালে (?) প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ড এর ৬১৪ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সিন্ধুড়া - মধ্যম দশকুশী॥

নিজ পরসঙ্গ     স্বপনে না করে
আনে না পাতয়ে কান।
দিঠে দিঠে রহে     নিমিখ না বহে
নিরখে মঝু বয়ান॥
কিনা সে বন্ধুর     পিরিতি কি রিতি
কহিতে কহিব কী।
সে সব চরিতে     কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দি॥
খেনে খেনে তনু     পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে     রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করি মোরে     কোরে আগোরয়ে
রঞ্জয়ে বেশ বিশেষ।
জ্ঞানদাস কহে     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরিতি লেশ॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সিন্ধুড়া॥

আন পরসঙ্গ     স্বপনে না করে
আনে না পাতয়ে কাণ।
দিঠে দিঠে বহে     নিমিখ না বহে
নিরখে মঝু বয়ান॥
কি না সে বন্ধুর     পিরিতি-কিরিতি
কহিতে কহিব কী।
সে সব চরিতে     কত উঠে চিতে
পরাণ নিছনি দী॥
খেনে খেনে তনু     পুলকে আকুল
তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে     রসের আলাপ
অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করে মোরে     কোরে আগোরয়ে
আন করে রচে বেশ।
জ্ঞানদাস কহে     ধনি ধনি সেহ
যাহে এ পিরিতি-লেশ॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আন পরসঙ্গ স্বপনে না করে
      আনে না পাতয়ে কান।
দিঠে দিঠে রহে নিমিখ না সহে
      নিরখে মঝু বয়ান॥
কি না সে বন্ধুর পিরীতি কিরিতি
      কহিতে কহিব কী।
সে সব চরিতে কত উঠে চিতে
      পরাণ নিছনি দী॥
খেনে খেনে তনু পুলকে আকুল
      তিলেক না ছাড়ে সঙ্গ।
হাসির মিশালে রসের আলাপ
      অমিয়া সিনায় অঙ্গ॥
এক করে মোরে কোরে আগোরয়ে
      আন করে রচে বেশ।
জ্ঞানদাস কহে ধনি ধনি সেহ
      যাহে এ পিরীতি লেশ॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^