কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
কহ কহ এ সখি কি করি উপায়
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ---সখী সম্বোধনে।
॥ ঘুহই॥ @

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥
তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥ ধ্রু।
তবু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥
কি খেনে দেখিনু সখি বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটন না যায়॥
গুরুজনে যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কিছুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিলাস॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

@ - ঘুহই – সুহই হবে বলে আনুমান। সম্ভবত মুদ্রণপ্রমাদ।


ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২২৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী সম্বোধন।
॥ সুহই॥

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥
তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥
তবু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥
কি খেনে দেখিনু সখি বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটন না যায়॥
গুরুজনে যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কিছুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিলাস॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সম্বোধন।
॥ সুহই॥

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥ তুমি কি
না জান সই যত পরমাদ। কি ঘর বাহির
লোকে বলে পরিবাদ॥ তবু সে বন্ধুরে
আমি পাসরিতে নারি। কি বিধি বেয়াধি
দিলে কি বুধি বা করি॥ কি খেনে দেখিনু
সখি বিদগধ রায়। পাষাণের রেখ যেন
মিটন না যায়॥ গুরুজনে যত বলে
শ্রবণে না শুনি। কি করিতে কি না হয়
কিছুই না জানি॥ দেখিয়া যতেক লোক
করে উপহাস। চান্দের উদয়ে যেন তিমির
বিলাস॥ পতির আরতি যেন জ্বলন্ত
আগুনি। বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে
ত্রিবেণী॥ সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ।
॥ ঘুহই॥

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥
তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥
তবু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥
কি খেণে দেখিনু সখি বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটন না যায়॥
গুরুজনে যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কিছুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমিরবিলাস॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৩০ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ সুহই॥

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥
তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥
তবু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিলে কি বুঝি বা করি॥
কি খেণে দেখিনু সখি বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটন না যায়॥
গুরুজনে যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কিছুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চাদের উপরে যেন তিমির বিলাস॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

ই পদটি ১৩৩১ বঙ্গাব্দে (১৯২৪ সালে) প্রকাশিত দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি” গ্রন্থের, রূপানুরাগ, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কহ কহ এ সখি কি করি উপায়।
দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥

তুমি কি না জান সই যত পরমাদ।
কি ঘর বাহির লোকে বলে পরিবাদ॥

তবু সে বন্ধুরে আমি পাসরিতে নারি।
কি বিধি বেয়াধি দিলে কি বুধি বা করি॥
কি খেনে দেখিলুঁ সখি বিদগধ রায়।
পাষাণের রেখ যেন মিটন না যায়॥
গুরুজনে যত বলে শ্রবণে না শুনি।
কি করিতে কি না হয় কিছুই না জানি॥
দেখিয়া যতেক লোক করে উপহাস।
চান্দের উদয়ে যেন তিমির বিলাস॥
পতির আরতি যেন জ্বলন্ত আগুনি।
বন্ধুর পিরীতি যেন বহিছে ত্রিবেণী॥
সোঙরি সেরূপ গুণ পরাণ জুড়ায়।
ভালে জ্ঞানদাস চিতে সোয়াথ না পায়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^