কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
সময় জানিয়া ভানুর বালা
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার।
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা।
নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।
অঞ্চলে বাঁধয়ে নবকস্তূরী॥
চাঁচর চিকুরে বাঁধে কবরী।
শশী করে আলা চৌদিগে ঘেরি॥
সীঁথাতে শোভিত সোণার সীঁথি।
তাহাতে দুলিছে কনকমোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দন বিন্দু।
উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাশায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদ বিন্দু চিবুক উপর॥
কর্ণে শোভিত সোণার ফুলে।
মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি।
নীলমণি হার কাঁচলী পরি॥
বাহু বন্ধ তাহে সোণার ঝাঁপা।
কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি চূড়ী ভুজের আগে।
রতন কাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরি অঙ্গুলি পরে॥
ক্ষীণ কটি মাঝে রতন কিঙ্কিনী।
রাম রম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটি।
তাহার উপরে সোণার পাটি॥
সোণার শিকলি তাহার পরে।
মরাল নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঘুর ঘন।
রতন চুটকি হইলা জ্ঞান॥ @

@ - পদকল্পতরুতে যদুনন্দনের কিন্তু পদসমুদ্রে জ্ঞানদাসের ভণিতা আছে। শ্রীযুক্ত হারাধন দত্তনিধি মহাশয়ও এই পদ জ্ঞানদাসের বলিয়া সিদ্ধান্ত করিয়াছেন।--- রমণীমোহন মল্লিক।

আমরা শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে কোনো ভণিতাতেই, এই শিরোনামের কোনো পদ খুঁজে পাই নি। শ্রীযুক্ত হারাধন দত্তনিধি মহশয়ের উল্লিখিত পদসমুদ্র গ্রন্থটির অস্তিত্ব সম্বন্ধে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যা মিলনসাগরের, কথিত পদসমুদ্র গ্রন্থের সংকলক ও পদকর্তা মনোহর দাসের পরিচিতির পাতায় বিস্তারিতভাবে, নানান বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি সহকারে লেখা হয়েছে।
---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥

এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ২৩৫ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার।
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা।
নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।
অঞ্চলে বাঁধয়ে নবকস্তূরী॥
চাঁচর চিকুরে বাঁধে কবরী।
শশী করে আলা চৌদিগে ঘেরি॥
সীঁথাতে শোভিত সোণার সীঁথি।
তাহাতে দুলিছে কনকমোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দন বিন্দু।
উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাশায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদ বিন্দু চিবুক উপর॥
কর্ণে শোভিত সোণার ফুলে।
মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি।
নীলমণি হার কাঁচলী পরি॥
বাহু বন্ধ তাহে সোণার ঝাঁপা।
কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি চূড়ী ভুজের আগে।
রতন কাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরি অঙ্গুলি পরে॥
ক্ষীণ কটি মাঝে রতন কিঙ্কিণী।
রাম রম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটি।
তাহার উপরে সোণার পাটি॥
সোণার শিকলি তাহার পরে।
মরাল নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঘুর ঘন।
রতন চুটকি হইলা জ্ঞান॥

এই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৬৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা। নিকসে
যেমন চাঁদের মালা॥ পরিধান নীল পট্ট
শাড়ী। অঞ্চলে বাঁধয়ে নবকস্তূরী॥ চাঁচর
চিকুরে বাঁধে কবরী। শশী করে আলা
চৌদিগে ঘেরি॥ সীঁথাতে শোভিত সোণার
সীঁথি। তাহাতে দুলিছে কনকমোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দন-বিন্দু। উদয় হইল
অরুণ ইন্দু॥ নাসায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদ বিন্দু চিবুক উপর॥ কর্ণে শোভিত
সোণার ফুলে। মুখে মৃদু হাসি আধ যে
বলে॥ কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি। নীলমণি
হার কাঁচলী পরি॥ বাহু বন্ধ তাহে সোণার
ঝাঁপা। কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি চূড়ী ভুজের আগে। রতন কাঞ্চন
তাহার যুগে॥ রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরি অঙ্গুলি পরে॥ ক্ষীণ কটি
মাঝে রতন কিঙ্কিণী। রাম রম্ভা জিনি
উরুর বলনি॥ পদতলে কত চাঁদের ধটি।
তাহার উপরে সোণার পাটি॥ সোণার
শিকলি তাহার পরে। মরাল নূপুর বাজিছে
জোরে॥ তাহার উপরে ঘুঙ্ঘুর ঘন। রতন
চুটকি হইলা জ্ঞান॥

এই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা।
নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।
অঞ্চলে বাঁধয়ে নবকস্তূরী॥
চাঁচর চিকুরে বাঁধে কবরী।
শশী করে আলা চৌদিগে ঘেরি॥
সীঁথাতে শোভিত সোণার সীঁথি।
তাহাতে দুলিছে কনকমোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দনবিন্দু।
উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাসায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদবিন্দু চিবুক-উপর॥
কর্ণে শোভিত সোণার ফুলে।
মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি।
নীলমণি-হার কাঁচলী পরি॥
বাহুবন্ধ তাহে সোণার ঝাঁপা।
কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি-চূড়ী ভুজের আগে।
রতনকাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরী অঙ্গুলি পরে॥
ক্ষীণ-কটি মাঝে রতনকিঙ্কিনী।
রাম রম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটি।
তাহার উপরে সোণার পাটি॥
সোণার শিকলি তাহার পরে।
মরাল নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঘুর ঘন।
রতন চুটকি হইলা জ্ঞান॥

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, রসোদ্গার, ১৪৩ পৃষ্টায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সময় জানিয়া ভানুর বালা।
নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।
অঞ্চলে বাঁধয়ে নব কস্তূরী॥
চাঁচর চিকুরে বাঁধে কবরী।
শশী করে আলা চৌদিগে ঘেরি॥
সীঁথাতে শোভিত সোণার সীঁথি।
তাহাতে দুলিছে কনক মোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দনবিন্দু।
উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাসায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদবিন্দু চিবুক-উপর॥
কর্ণে শোভিত সোণার ফুলে।
মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি।
নীলমণি-হার কাঁচলী পরি॥
বাহুবন্ধ তাহে সোণার ঝাঁপা।
কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি-চূড়ি ভুজের আগে।
রতন কাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরী অঙ্গুলী পরে॥
ক্ষীণ-কটিমাঝে রতন কিঙ্কিনী।
রাম রম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটী।
তাহার উপরে সোনার পাটি॥
সোনার শিকলি তাহার পরে।
মরাল নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঘুর ঘন।
রতন চুটকি হইলা জ্ঞান॥

এই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, “কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২১৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা।
নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।
অঞ্চলে বাঁধয়ে নব কস্তূরী॥
চাঁচর চিকুরে বাঁধে কবরী।
শশী করে আলা চৌদিগে ঘেরি॥
সীঁথাতে শোভিত সোণার সিঁথি।
তাহাতে দুলিছে কনকমোতি॥
কপালে সিন্দূর চন্দন বিন্দু।
উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাসায় শোভিত সুন্দর বেশর।
মৃগমদবিন্দু চিবুক উপর॥
কর্ণে শোভিত সোণার ফুলে।
মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কণ্ঠেতে ঘেরি।
নীলমণি-হার কাঁচলী পরি॥
বাহুবন্ধ তাহে সোণার ঝাঁপা।
কি শোভা হয়েছে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি-চূড়ী ভুজের আগে।
রতনকাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পহুঁচে তাহার পরে।
মাণিক অঙ্গূরী অঙ্গুলি পরে॥
ক্ষীণ-কটীমাঝে রতনকিঙ্কিণী।
রাম রম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটী।
তাহার উপরে সোণার পাটী॥
সোণার শিকলি তাহার পরে।
মরাল-নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঘুর ঘন।
রতন চুটকি হইলা জ্ঞান॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

সময় জানিয়া ভানুর বালা।   নিকসে যেমন চাঁদের মালা॥
পরিধান নীল পট্ট শাড়ী।   অঞ্চলে বান্ধয়ে নব কস্তুরী॥
চাঁচর চিকুরে বান্ধে কবরি।   শশি করে আলো চৌদিকে ঘেরি॥
সিঁথাতে শোভিত সোনার সিঁথি।   তাহাতে দুলিছে কনক মতি॥
কপালে সিন্দুর চন্দন-বিন্দু।   উদয় হইল অরুণ ইন্দু॥
নাসাতে শোভিত সুন্দর বেশর।   মৃগমদ-বিন্দু চিবুক উপর॥
কর্ণে শোভিত সোনার ফুলে।   মুখে মৃদু হাসি আধ যে বলে॥
কন্ঠমালা কন্ঠেতে ঘেরি।   নীলমণিহার কাঁচলি পরি॥
বাহুবন্দ তাহে সোনার ঝাঁপা।   কি শোভা হয়েচে দেখ বিশাখা॥
নীলমণি চুড়ি ভুজের আগে।   রতন কাঞ্চন তাহার যুগে॥
রতন পঁইছা তাহার পরে।   মাণিক অঙ্গুরী অঙ্গুলী উপরে॥
ক্ষীণ কটি মাঝে রতন কিঙ্কিণী।   রামরম্ভা জিনি উরুর বলনি॥
পদতলে কত চাঁদের ধটি।   তাহার উপরে সোনার পাটি॥
সোনার শিকলি তাহার পরে।   মরাল নূপুর বাজিছে জোরে॥
তাহার উপরে ঘুঙুর ঘন।   রতন চটকি হইলা জ্ঞান॥ @

@ - এখানে কবি দীনতাবশতঃ আপনাকে শ্রীরাধার অঙ্গবিন্যস্ত অলংকারসমূহেপ মধ্যে সর্বনিম্নস্থ চরণের চুটকিরূপে কল্পনা করিতেছেন।

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^