কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে
আলো মুঞি কেন গেলু কালিন্দীর জলে
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর জলে
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর কূলে
কবি জ্ঞানদাস
আলো মুঞি কেন গেলু কালিন্দীর জলে
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর জলে
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর কূলে
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের কন্যা অপর্ণা রায় সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” বৈষ্ণব পদ সংকলনের ৫৭ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
পূর্ব্বরাগ খণ্ড
॥ তথারাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর জলে।
কালিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের সাগরে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে অন্তর কাঁদে কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনের চাঁদ মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল ঘাটে কলঙ্কর কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
॥ তথারাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর জলে।
কালিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের সাগরে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে অন্তর কাঁদে কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনের চাঁদ মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল ঘাটে কলঙ্কর কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৪০ সালে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য-বত্ন দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা” সংকলনের ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
দুলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনের চান্দ মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণ পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন, রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল ঘাটে কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে --- দঢ় করি’ থাক’ বুক॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ করুণা রাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনচান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণপুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
টীকা--- ওলো, আমি যমুনার জলে কেন গেলাম। ছলিয়া নাগর ছলে চিত্ত চুরি করিয়া লইল। রূপের পাথারে আঁখি (সফরী) ডুবিয়া রহিল। (গণ্ডূষ জলে সফরীর নাচন, এ যে পাথার সখি, আঁখি ডুবিল, আর উঠিল না, অর্থাৎ আমার চক্ষে জগৎ শ্যামময় হইয়া গেল)। যৌবনের বনে মন (মৃগ) হারাইয়া গেল। (দেহ তো নয় যেন কুসুমিত তমাল তরু। “মৃগমদ সৌরভ রভস বশম্বদ নবদলমাল তমালে” নিজ নাভিগন্ধভ্রমে প্রমত্ত মনোমৃগ শ্রীকৃষ্ণের যৌবন-বনে আপনাকে হারাইায়া ফেলিল।) ঘরে ফিরিতে গিয়া দেখি পথ হইয়াছে অফুরন্ত। (এই যমুনার ঘাট আর ঘর, আবাল্য পরিচিত পথ। কিন্তু ফিরিতে গিয়া দেখিলাম, যত চলি পথ আর ফুরায় না।) অন্তরে হৃদয় বিদীর্ণ হইতেছে, প্রাণ কেমন কারিতেছে। ললাটে চন্দনের চাঁদ, তাহার মাঝখানে মৃগমদবিন্দু (সেই আশ্চর্য্য কীলকে) মুগ্ধ পরাণপুতলি বাঁধা পড়িল। কটিতে পীতবসন, তাহাতে জড়িত রসনাদাম। বিধাতা যেন কুলকলঙ্কের কোরক নি্র্ম্মাণ করিয়াছেন। জাতিকুলশীল সবই বুঝি গেল। ভুবন ভরিয়া আমার ঘোষণা রহিল। কুলবতী হইয়া দুকুলে (পিতৃকুল ও শ্বশুরকূলে) দুঃখ দিলাম। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, বুক দৃঢ় কর (সাহসে বুক বাঁধ)।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধার উক্তি
॥ করুণা রাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলু কালিন্দীর জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দন-চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে পরাণ-পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রথম প্রেম।
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর কূলে।
চিত হরি কালিয়া নাগর নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া ফুকরে পরান॥
চন্দনচাঁদের মাঝে মৃগমদ-ধাঁধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বাঁধা॥
কটি পীতবসন রশনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর কলঙ্ক রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দড় করি বাঁধ বুক॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
চিত মোর হরিয়া নিল ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনচান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণপুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হৈয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
*********************
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
দুলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হইল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনের চান্দ মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণ পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন, রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল ঘাটে কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে --- দঢ় করি’ থাক’ বুক॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ করুণা রাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনচান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণপুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
টীকা--- ওলো, আমি যমুনার জলে কেন গেলাম। ছলিয়া নাগর ছলে চিত্ত চুরি করিয়া লইল। রূপের পাথারে আঁখি (সফরী) ডুবিয়া রহিল। (গণ্ডূষ জলে সফরীর নাচন, এ যে পাথার সখি, আঁখি ডুবিল, আর উঠিল না, অর্থাৎ আমার চক্ষে জগৎ শ্যামময় হইয়া গেল)। যৌবনের বনে মন (মৃগ) হারাইয়া গেল। (দেহ তো নয় যেন কুসুমিত তমাল তরু। “মৃগমদ সৌরভ রভস বশম্বদ নবদলমাল তমালে” নিজ নাভিগন্ধভ্রমে প্রমত্ত মনোমৃগ শ্রীকৃষ্ণের যৌবন-বনে আপনাকে হারাইায়া ফেলিল।) ঘরে ফিরিতে গিয়া দেখি পথ হইয়াছে অফুরন্ত। (এই যমুনার ঘাট আর ঘর, আবাল্য পরিচিত পথ। কিন্তু ফিরিতে গিয়া দেখিলাম, যত চলি পথ আর ফুরায় না।) অন্তরে হৃদয় বিদীর্ণ হইতেছে, প্রাণ কেমন কারিতেছে। ললাটে চন্দনের চাঁদ, তাহার মাঝখানে মৃগমদবিন্দু (সেই আশ্চর্য্য কীলকে) মুগ্ধ পরাণপুতলি বাঁধা পড়িল। কটিতে পীতবসন, তাহাতে জড়িত রসনাদাম। বিধাতা যেন কুলকলঙ্কের কোরক নি্র্ম্মাণ করিয়াছেন। জাতিকুলশীল সবই বুঝি গেল। ভুবন ভরিয়া আমার ঘোষণা রহিল। কুলবতী হইয়া দুকুলে (পিতৃকুল ও শ্বশুরকূলে) দুঃখ দিলাম। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, বুক দৃঢ় কর (সাহসে বুক বাঁধ)।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধার উক্তি
॥ করুণা রাগ॥
আলো মুঞি কেন গেলু কালিন্দীর জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দন-চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্দা।
তার মাঝে পরাণ-পুতলী রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হইয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৫৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি থেকে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৪ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
প্রথম প্রেম।
আলো মুঞি কেন গেলুঁ কালিন্দীর কূলে।
চিত হরি কালিয়া নাগর নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া ফুকরে পরান॥
চন্দনচাঁদের মাঝে মৃগমদ-ধাঁধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলী রৈল বাঁধা॥
কটি পীতবসন রশনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর কলঙ্ক রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দু-কুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দড় করি বাঁধ বুক॥
এই পদটি ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পরিষদ দ্বারা প্রকাশিত, ডঃ দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদসঙ্কলন" গ্রন্থের এর ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অনুরাগ
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
চিত মোর হরিয়া নিল ছলিয়া নাগর ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরাণ।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দন চান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে হিয়ার পুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীত-বসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুল-কলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী সতী হৈয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দৃঢ় করি থাক বুক॥
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আলো মুঞি কেন গেলুঁ যমুনার জলে।
ছলিয়া নাগর চিত হরি নিল ছলে॥
রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল॥
ঘরে যাইতে পথ মোর হৈল অফুরান।
অন্তরে বিদরে হিয়া কিবা করে প্রাণ॥
চন্দনচান্দের মাঝে মৃগমদ ধান্ধা।
তার মাঝে পরাণপুতলি রৈল বান্ধা॥
কটি পীতবসন রসনা তাহে জড়া।
বিধি নিরমিল কুলকলঙ্কের কোঁড়া॥
জাতি কুল শীল সব হেন বুঝি গেল।
ভুবন ভরিয়া মোর ঘোষণা রহিল॥
কুলবতী হৈয়া দুকুলে দিলুঁ দুখ।
জ্ঞানদাস কহে দঢ় করি থাক বুক॥
*********************
