কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
হসইতে আয়লুঁ তুহুঁ ভেল রোই
হসইতে আয়লুঁ তুহু ভেলি রোই

কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী শ্রীরাধার প্রতি
॥ ধানশী॥

হসইতে আয়লুঁ তুহুঁ ভেলি রোই।
বড় মুঞি বেদনী হেরইতে তোই॥
রূপকলারসে তুহুঁ ভেলি ভোরি।
পিয়া অনুরূপ বিহি না দিল তোরি॥
তুহুঁ যে সুচেতনি বুঝ সব কাজ।
মধুকর বিনু নহি মালতী সাজ॥
কহইতে চাহি বচন নাহি আর।
মৌনকে যাই সো অনুতাপ সার॥
ভাল মন্দ বুঝিতে না বুঝি তোর রীত।
সো পুন পাছে মিঠ আগে পুন তীত॥
অতএ যো মনোরথ কহবি নিচয়।
জ্ঞানদাস কহ সমুচিত হয়॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ ও রূপানুরাগ
শ্রীকৃষ্ণের আপ্তদূতী
॥ ধানশী॥

হসইতে আয়লুঁ তুহু ভেল রোই।
বড় মুঞি বেদনা হেরইতে তোই॥
রূপ-কলা-রসে তুহু ভেল ভোরি।
পিয়া অনুরূপ বিহি না দিল তোরি॥
তুহু যে সুচেতনি বুঝ সব কাজ।
মধুকর বিনু নাহি মালতী সাজ॥
কহইতে চাহি বচন নাহি আর।
মৌনকে যাই সো অনুতাপ সার॥
ভাল মন্দ বুঝিতে না বুঝি তোর রীত।
সো পুন পাছে মিঠ আগে পুন তীত॥
অতএ যো মনোরথ কহবি নিচয়।
জ্ঞানদাস কহ সমুচিত হয়॥

টীকা---
হাসিতে আসিলাম, তুমি কাঁদিতে লাগিলে। তোমাকে দেখিয়া মনে বড় বেদনা হয়। তুমি রূপে কলারসে সুসম্পর্ণা। বিধাতা তোমাকে মনের মত প্রিয়তম দেয় নাই। তুমি তো সুচতুরা, সবই বুঝিতে পার। ভ্রমর ভিন্ন মালতী সাজে না। বলিতে চাই, মুখে বাক্য সরে না। চুপ করিয়া থাকি, অনুতাপ সার হয়। ভালমন্দ বিচার করিয়া তোমার রীতি বুঝিতে পারি না। আগে তিতা, পিছে মিঠা সেই ভাল। অতএব তোমার মনের কথা নিশ্চয় করিয়া বল। জ্ঞানদাস বলিতেছেন, তাহাই তো সমুচিত।

এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হসইতে আয়লুঁ তুহু ভেল রোই।
বড় মুঞি বেদনী হেরইতে তোই॥
রূপ-কলা-রসে তুহু ভেল ভোরি।
পিয়া অনুরূপ বিহি না দিল তোরি॥
তুহু যে সুচেতনি বুঝ সব কাজ।
মধুকর বিনু নাহি মালতী সাজ॥
কহইতে চাহি বচন নাহি আর।
মৌনকে যাই সো অনুতাপ সার॥
ভালমন্দ বুঝিতে না বুঝি তোর রীত।
সো পুন পাছে মিঠ আগে পুন তীত॥
অতএ যো মনোরথ কহবি নিচয়।
জ্ঞানদাস কহ সমুচিত হয়॥

টীকা ---
হাসিতে (রঙ্গরস করিতে) আসিলাম, তুমি কাঁদিতে লাগিলে। তোমাকে দেখিয়া আমি বড় দুঃখ পাইতেছি। তুমি রপে ও কলাবিদ্যায় পরিপূর্ণ কিন্তু বিধাতা তোমার অনুরূপ নায়ক দিলেন না। তুমি সুচতুরা, সব কাজই তো বুঝ। ভ্রমরী না হইলে কি মালতী শোভা পায়? বলিতে চাই, কিন্তু বলিতে পারি না, অথচ চুপ করিয়া থাকিলেও অনুতাপ হয়। আমি ভালমন্দ তো কিছু বুঝি, কিন্তু তোমার ধরণ-ধারণ বুঝিতে পারি না। যে জিনিষ আগে তেতো মনে হয় পরে তাহাই মিষ্ট লাগে। সেইজন্য তোমার মনের, অভিপ্রায় কি ঠিক করিয়া বল। জানদাস বলেন একথা ঠিক বলিয়াছ।

তুলনীয় ---
 যৌবন চাহি রূপ নাহি উন।
 ধনি তুঅ বিসয় দেখিঅ সব নূন॥
 একেপ ভেল বিধাতা ভোর।
 সমকএ সামি ন সিরজিল তোর॥
         (বিদ্যাপতি ৩১০)
 জেফুল ভমর নিন্দহু সুমর বাস ন বিসরএ পার
 জাহি মধুকর উড়ি উড়ি পড়, সেহে সঁসারক সার॥
         (বিদ্যাপতি ৪২)

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬৬৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হসইতে আয়লুঁ তুহুঁ ভেলি রোই।
বড় মুঞি বেদনা হেরইতে তোই॥
রূপকলারসে তুহুঁ ভেলি ভোরি।
পিয়া অনুরূপ বিহি না দিল তোরি॥
তুহুঁ যে সুচেতনি বুঝ সব কাজ।
মধুকর বিনু নাহি মালতী সাজ॥
কহইতে চাহি বচন নাহি আর।
মৌনকে যাই সো অনুতাপ সার॥
ভাল মন্দ বুঝিতে না বুঝি তোর রীত।
সো পুন পাছে মিঠ আগে পুন তীত॥
অতএ যো মনোরথ কহবি নিচয়।
জ্ঞানদাস কহ সমুচিত হয়॥

*********************
^^এই পাতার উপরে ফেরত^^